টেকনাফ সীমান্তে ইয়াবার হালচাল পর্ব- ১০
মোঃ আশেকুল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
হাদীসের পরিভাষা অনুযায়ী মাদক (ইয়াবা) হচ্ছে সকল অপকর্মের মূল ও অশ্লীলতা। সৃষ্টি হচ্ছে নব নব নানা অপরাধ প্রবনতা। অবনতি হচ্ছে, আইন শৃংখলা পরিস্থিতি। মাদকের শীর্ষ রাজা এখন ইয়াবা। ইয়াবার মূল উপদান মিথঅ্যাসফিটামিন, ক্যাফেইন। ইয়াবাতে ৪৫ থেকে ৬৫ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকে। এছাড়া এতে লবণ, ক্যামেরার ব্যাটারী ও গৃহকাজে ব্যবহৃত পরিস্কার করার পদার্থ ও লিথিয়াম থাকে। এর বিভিন্ন নামের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ক্রোজি মেডিসিন, হিটলারস ড্রাগ যাবু ও বুলকুনিয়া। বাংলাদেশে ইয়াবা মাদকদ্রব্য উৎপাদিত হয়না। শুধুমাত্র ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে এদেশে প্রতিবেশী ও বিভিন্ন দেশ থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে প্রবেশ করে এবং ক্রমেই ব্যাপক প্রসার লাভ করে এবং এদেশের একাংশের যুব সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার বিরাট জনগোষ্টীকে মাদকসক্ত করে তুলে। যার ফলে ধ্বংস হচ্ছে, অনেক পরিবার, মানব সম্পদ ও যুব সমাজ। ক্ষতিগ্রস্থ, সামাজিক বন্ধন ও রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন। অনেকেই না বুঝে শুধুমাত্র ভ্রান্ত ধারণা কিংবা অসৎ লোকের প্ররোচনার ও আর্থিক প্রলোভনে পড়ে মাদকাসক্ত থেকে পরিত্রানের জন্য ব্যক্তি পারিবারিক সামাজিক সচেতনতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা যে কোন ব্যক্তি ও সমাজকে মাদকের ছোবল থেকে নিরাপদ রাখতে পারে। সেই সাথে আইনের যথাযত প্রয়োগ থাকলে এর থেকে জাতী রক্ষা পেতে পারে। বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমার এ দুদেশের সীমান্ত দিয়ে আসছে, নানা প্রজাতীর মাদকদ্রব্য। ভারত থেকে আসছে, ফেনসিডিল এবং মিয়ানমার থেকে আসছে, ইয়াবাসহ নানা প্রকারের মাদকদ্রব্য। দেশের আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে প্রতিনিয়তই জব্দ বা আটক হচ্ছে, বেশীরভাগ ইয়াবা ও ফেনসিডিল। এর মধ্যে ইয়াবা পাচার জব্দে সবার শীর্ষে রয়েছে। গোটা দেশে এখন ইয়াবার আগ্রাসন চলছে। ধেয়ে যাচ্ছে ইয়াবা নামক মরণব্যাধী। এটি এখন জাতীয় সমস্যা রূপ নিতে যাচ্ছে। বান্দারবন, উখিয়া ও টেকনাফ স্থল সীমান্ত ছাড়া ও দুদেশের জলসীমানা দিয়ে সমানতালে ইয়াবা বাংলাদেশে প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে প্রতিনিয়তই ইয়াবা/মাদক আটক হলেও পাচার কিন্তু থামেনী। ২০১৩ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের (মাদক) তালিকা অনুযায়ী কক্সবাজার জেলার ৬৭৪ জন এবং ২০১৭ সালে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর ৬২ জন শীর্ষ ইয়াবা/মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা প্রনয়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে জেলার উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত উপজেলার ইয়াবা তালিকা সবার শীর্ষে থাকলেও ওরা কিন্তু এখনো অধরা রয়েছে। যার কারণে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা আসকারা পেয়ে যাচ্ছে। সীমান্তের সচেতন মহলের অভিযোগ উঠেছে, ইয়াবা ব্যবসার সাথে পত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রশাসনের কতিপয় লোক জড়িত রয়েছে বলে বিভিন্ন মহলের মধ্যে অভিযোগ উঠেছে। যার কারণে ইয়াবা পাচার ও ব্যবসা রোধ করা যাচ্ছে না। উল্লেখ্য যে, ১৯৯০ সালে ইয়াবার প্রচলন ঘটে এবং ২০০৬ সাল থেকে ইয়াবার প্রসার ঘটে। অতীতের ৪ বছর হিসাব অনুযায়ী ২০১০ সালে ১ লাখ ৪৪ হাজার ১০২ পিস ইয়াবা, ২০১১ সালে ১ কোটি ১৫ লাখ ২ হাজার পিস ইয়াবা, ২০১২ সালে ১ কোটি ৮৮ হাজার পিস ইয়াবা, ২০১৩ সালে ৩ কোটি ইয়াবা জব্দ ও আটক হয় ও ২০১৪ সালের জানুয়ারী হতে আগষ্ট ৮ মাসে প্রায় ১১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার হয়। বর্তমানে বস্তা বস্তা ইয়াবা জব্দ হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আটক অপ্রতুল।
