টেকনাফ প্রতিনিধি : শেষ পর্যন্ত মৃত ভেসে আসলো সেই তিমির বাচ্চাটি। গত শনিবার (চলতি মাসের ২০ তারিখ) কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিম সৈকতে আটকে পড়েছিল তিমিটি। জীবিত বিশাল জলজ প্রাণীটি দেখার জন্য মুহুর্তেই ভীড় জমে যায় সৈকতে। প্রাণীটি ছিল অসুস্থ, এর পেটের দিকে রক্তাক্ত দেখা যায়। স্থানীয়রা প্রথমে এটাকে সবাই ডলফিন বলে ধরে নেয়। আবার কেউ হাঙ্গর মনে করে। এসময় একদল উৎসুক লোক সেটিকে রশি বেঁধে কূলে তোলতে চায়। কিন্তু বিশাল আকৃতির কারনে তা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে সেটি জোয়ারের সাথে আবার নেমে যায় সাগরে। পর সোমবার সৈকত উপকূলে মৃত ভেসে আসে প্রাণিটি। সৈকতে ভেসে আসার পর এর আকার আকৃতি গঠন দেখে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত হয়েছেন এটি আসলে তিমি।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র শাহপরীরদ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দা সাদেকুল আমিন জানান, শনিবার জীবিত ভেসে আসলে সেটির লেজে রশি বেঁধে উদ্ধারের চেষ্টা করেছিল স্থানীয় জেলেরা। মৃত প্রাণীটির লেজেও একই রকম রশি বাঁধা দেখা গেছে এবং আকার আকৃতিও একই। এথেকেই মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া গেছে এটি সেই জলজ প্রানি যেটাকে এখন
এর আগে দেশের উপকূলে মৃত তিমি ভেসে এলেও এই প্রথম একটি জীবিত তিমির দেখা মিলেছে।
স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও প্রাণীবিদরা জানিয়েছেন, তিমিটি ব্রাইডস হোয়েলের বাছুর। এটি গভীর সাগরের প্রাণী। তাদের ধারণা সাগরের জলরাশিতে ঘুরে বেড়ানোর সময় মা তিমির কাছ থেকে আলাদা হয়ে সৈকতের কাছে চলে আসে প্রাণীটি। এরপর আর গভীর সাগরে ফিরে যেতে পারেনি। পরিবেশকর্মীদের মতে, পূর্ণবয়স্ক ব্রাইডস তিমি দৈর্ঘ্যে ৩০ থেকে ৪০ ফুট পর্যন্ত হয়। শাহপরীরদ্বীপ সৈকতে মৃত তিমিটি ১৮ ফুট দীর্ঘ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
প্রাণিবিদদের মতে, করোনাভাইরাসের কারণে উপকূলে মানুষ ও নৌ-যানের চলাচল কমে যাওয়ায় এবং মাছ আহরণ নিষিদ্ধ থাকায় বঙ্গপোসাগরে ডলফিন ও তিমির বিচরণ বেড়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সাইদুর রহমান জানান ‘টেকনাফ সৈকতে মারা যাওয়া জলজ প্রাণীটি তিমি তাতে কোন সন্দেহ নেই। ছবি এবং ভিডিওতে এর বাহ্যিক গঠন দেখে সেটা নিশ্চিত হয়েছেন। তবে এটা কোন প্রজাতি সেটা নিশ্চিত করতে পারেন নি তিনি।
একই কথা বলেছেন বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্স ইনস্টিটিউট কক্সবাজার এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু সাঈদ মোহাম্মদ হোসেন শরীফ। তিনি জানান এটি একটি তিমি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সাইফ জানান, উপকূলীয় বন বিভাগের সহায়তায় মাছের মৃতদেহটি পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।
