শরীরে লবণের প্রভাব

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ৩ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : অতিরিক্ত লবণ শরীরে জন্য ক্ষতিকর বলেই আমরা জানি৷ কিন্তু লবণ কেন, কীভাবে, কোন মানুষের ওপর কতটা প্রভাব রাখে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জ্ঞান অনেকেরই নেই। অথচ আধুনিক জীবনযাত্রায় সে বিষয়ে ধারণা থাকা জরুরি৷

জার্মান নিউট্রিশন সোসাইটি দিনে ৬ গ্রামের কম লবণ খাবার পরামর্শ দিচ্ছে৷ অথচ একটি পিৎজার মধ্যেই ১০ গ্রাম পর্যন্ত লবণ থাকে৷ ফলে মানুষ একটি মাত্র পদেই প্রায় দ্বিগুণ লবণ খেয়ে নিচ্ছেন।
গবেষণার ফল অনুযায়ী অতিরিক্ত লবণ আমাদের ইমিউন সিস্টেমের ওপর প্রভাব রাখতে পারে৷ লবণের মধ্যে যে সোডিয়াম থাকে, সেটি শেষ পর্যন্ত ইমিউন সিস্টেমের কোষে জমা হয়৷ ফলে কোষের শক্তি কমে যায় এবং কোষের পরিবর্তন ঘটে৷
বিস্ময়কর ঘটনা হলো, কোষগুলো তখন মোটেই নিস্তেজ হয়ে পড়ে না, বরং অতিরিক্ত মাত্রায় সক্রিয় হয়ে ওঠে৷ এর অর্থ, স্বল্পমেয়াদী ভিত্তিতে কোষগুলো আরও জোরালোভাবে ব্যাককেরিয়াসহ অন্যান্য রোগের মোকাবিলা করতে পারে৷ বার্লিন এমডিসি বুখের ডমিনিক এন ম্যুলার বলেন, ‘অতিরিক্ত সক্রিয় মোনোসাইট কোষ কার্ডিওভাসকুলার রোগও তরান্বিত করতে পারে৷ ফলে লবণের প্রভাব শুধু ভালো না শুধু খারাপ, তা বলা আরও কঠিন৷ কোনো ব্যাকটিরিয়া মোকাবিলার ক্ষেত্রে লবণ ভালো কাজও করতে পারে৷ কিন্তু সার্কুলেটরি সমস্যা আছে, এমন রোগীর জন্য সেটা একটা ঝুঁকি৷’ 

একটি মাত্র পিৎজা কার্ডিওভাস্কুলার রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় না৷ সেটি খাবার ৮ ঘণ্টা পর এক ব্যক্তির রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছিল৷ তাতে দেখা গেল, যে ইমিউন কোষগুলোর মধ্যে শক্তির মাত্রা আবার স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে৷ কোষগুলো স্থিতিশীল হবার আগে লবণ প্রক্রিয়াজাত করে। ফলে একটি মাত্র পিৎজা খেলে ইমিউন সিস্টেমের ক্ষতি হয় না৷
অতিরিক্ত লবণ খেলে কিছু মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে সমস্যা দেখা যায়৷ যেমন ক্রিস্টিয়ান মাসের রক্তচাপ অনেক বছর ধরে অত্যন্ত বেশি ছিল৷ অতিরিক্ত লবণ এই অবস্থার অন্যতম কারণ৷ 
এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ও পুষ্টিবিদ হিসেবে মাটিয়াস লাউডেস বলেন, ‘সোডিয়াম ক্লোরাইড মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লবণ, কারণ সেটি শরীরের মধ্যে পানি নিয়ন্ত্রণ করে৷ রক্তনালীর মধ্যে বাড়তি পানির কারণেই সম্ভবত রক্তচাপ বেড়ে যায়৷’
তিনি ‘সল্ট সেনজিটিভ’ হওয়ায় তার রক্তচাপ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়ে গেছে৷ এক তৃতীয়াংশ মানুষের ক্ষেত্রে সেই প্রতিক্রিয়া ঘটে৷’

লবণের প্রতি শরীরের বিরূপ প্রতিক্রিয়া থাকলে সেই অবস্থাকে ‘সল্ট সেনজিটিভিটি’ বলা হয়৷ কিডনি সেটি আরও ধীরে ধীরে নির্গত করে৷ এমন প্রতিক্রিয়া হলেও বেশিরভাগ মানুষ সে বিষয়ে সচেতন নন৷ কেউ সল্ট সেনজিটিভ কিনা, রক্ত পরীক্ষা করলেই তা জানা যায়৷

ক্রিস্টিয়ান মাসের ক্ষেত্রে রক্ত পরীক্ষার ফল ছিল স্পষ্ট৷ মাটিয়াস রিডল তাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘আপনার সল্ট সেনজিটিভিটি টেস্টের ফল ছিল ১৬৫৷ অর্থাৎ লবণ আপনার রক্তচাপ ভীষণ বাড়িয়ে দেয়৷ ফলে আপনি যত কম লবণ খাবেন, আপনার রক্তচাপও তত কমে যাবে৷ রক্তচাপ কমাতে আপনি লবণ খাওয়া কমালে সেটা ভালো পদক্ষেপ হবে৷’

ক্রিস্টিয়ান মাস এমন পরামর্শের সদ্ব্যাবহার করেছেন৷ কম লবণের মাত্রার ডায়েটের কল্যাণে তিনি নিজের রক্তচাপ কমাতে পেরেছেন৷ ফলে অনেক কম ওষুধ খেতে হচ্ছে৷ খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন তার ইমিউন সিস্টেমেরও ক্ষতি করেনি৷

সুত্র : ডয়চে ভেলে