(ফাতহুল বারি : ১০/৫২৮)
আরো ক্লিয়ারলি বললে মানুষের সামনে নিজের বড়ত্ব প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে কিংবা অন্য কোনো দুনিয়াবি উদ্দেশ্যে দ্বিনি কাজ সম্পাদন করাই হলো রিয়া বা শো অফ।
(কামালাতে আশরাফিয়া : পৃষ্ঠা-১০৫)
রিয়ার পদ্ধতি
মানুষ অনেক পদ্ধতিতে রিয়া করে। এর পরিসর এত বিস্তৃত যে সব এখানে বর্ণনা করা সম্ভব নয়।
২. কেউ কেউ মোটা ও খসখসে কাপড় পরেন, হাতা ছোট রাখেন কিংবা নিজের হাতে সেলাই করা জুতা পরেন, যাতে মানুষ তাঁদের দেখে দুনিয়াবিমুখ ভাবে।
৩. কেউ হয়তো খুব কম খান, এমনভাবে নিজেকে উপস্থাপন করেন, যেন তাঁর নিজের দিকে খেয়াল রাখার সময়ও নেই, তিনি বড় কোনো দ্বিনি কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।
৪. কেউ নিজের চলাফেরায় বড় আল্লাহওয়ালা বুজুর্গের মতো প্রকাশ করেন, হাঁটার সময় মাথা নিচু রাখেন, চলাফেরায় অতিমাত্রায় ধীরস্থিরতা প্রদর্শন করেন, যাতে মানুষ তাঁদের দেখে দুনিয়াবিমুখ ভাবে।
৫. কেউ জনসমক্ষে সুন্নত মেনে চলার অত্যন্ত যত্নবান হিসেবে নিজেকে দেখান, কিন্তু একান্তে তা মানেন না। তেমনি কথায় কথায় সুন্নতের কথা বলেন, কিন্তু নিজের আমলে সুন্নতের লেশমাত্র নেই।
৬. কেউ নিজেকে আলেম বা বুজুর্গদের সঙ্গী বা মুরিদ হিসেবে তুলে ধরেন, এর মাধ্যমে তিনি মানুষের কাছে সম্মান ও গুরুত্ব পেতে চান।
৭. কেউ প্রকাশ্যে জিকির করেন ও তাহাজ্জুুদ পড়েন, যাতে মানুষ তাঁকে ধার্মিক ও আল্লাহর ওলি ভাবে।
৮. কেউ দুনিয়ার লোকদের প্রতি ঘৃণা ও অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে বা তাদের পাপাচারকে নিন্দা করে নিজেকে সাধু হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন।
৯. কেউ মানুষ দেখলে নামাজে দীর্ঘ সময় ব্যয় করেন, রুকু ও সিজদা দীর্ঘ করেন, যেন তাঁদের গভীর খুশু ও বিনয় প্রদর্শিত হয়, অথচ এর সবটাই লোক-দেখানোর জন্য।
১০. কেউ এমন গুণ বা অর্জনের কথা বলে নিজেকে বড় করে দেখাতে চান, যা আসলে তাঁর নেই। যেমন তিনি বলেন, ‘আমি খতিব ছিলাম’ বা ‘আমি জিহাদে অংশ নিয়েছি’ কিংবা ‘আমি এই বা সেই কাজে অত্যন্ত দক্ষ’ অথবা ‘আমি অমুক পরিমাণ সম্পদ দান করেছি’ যদিও এ সবই মিথ্যা। এতে তিনি রিয়া ও মিথ্যার মিশ্রণ ঘটান।
১১. কেউ নিজের পবিত্রতা প্রমাণের জন্য অন্যের দোষ ধরেন বা তাদের সমালোচনা করেন। যেমন—বলেন, ‘অমুক ব্যক্তি পরহেজগার নয়’ অথবা ‘অমুক রাতে নামাজ পড়ে না।’ ‘অমুক ব্যক্তির এই এই সমস্যা’। আসলে তিনি বোঝাতে চান যে, তিনি এসব দোষ থেকে মুক্ত।
১২. কেউ হয়তো জ্ঞান ছাড়াই ফতোয়া দেন, যাতে তাঁকে অজ্ঞ মনে না করা হয়। কেউ কেউ রিয়াতে এতটাই দক্ষ হয়ে ওঠেন যে একান্তে থাকলেও নিজেকে এমনভাবে গড়ে তোলেন, যেন জনসমক্ষে তাঁর আচরণটিও স্বতঃস্ফূর্ত মনে হয়।
১৩. কেউ কখনো তাঁর ইবাদতকে গোপন রাখতে চান, যেন অন্যরা তা না দেখে। কিন্তু যখন মানুষের মধ্যে উপস্থিত হন, তিনি চান যেন তাঁকে সম্মান জানিয়ে আগে সালাম দেওয়া হয়, হাসিমুখে সম্ভাষণ করা হয়, তাঁর প্রয়োজন মেটাতে সক্রিয় হন, লেনদেনে উদারতা দেখানো এবং মজলিসে তাঁকে সম্মানের আসন দেওয়া হয়।
১৪. কেউ কখনো বন্ধু, অনুসারী বা শিষ্যের সংখ্যার মাধ্যমে নিজের মর্যাদা বাড়ানোর চেষ্টা করেন, যেন মানুষ তাঁকে সম্মানিত নেতা বা পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচনা করে। এ কারণেই সালাফ-সালেহিন এই আত্মপ্রবঞ্চনার বিপজ্জনক পথ থেকে সব সময় সতর্ক থাকতেন।
১৫. কেউ কখনো নিজের অপূর্ণতা ও দুর্বলতাকে জনসমক্ষে প্রকাশ করেন, যেন মানুষ তাঁকে বিনয়ী ও নম্র হিসেবে দেখে এবং তাঁর বিনয়াবনত হওয়ার প্রশংসা করে।
১৬. কেউ কেউ সুন্দর ও আবেগভরা কণ্ঠে কৃত্রিমভাবে কোরআন তিলাওয়াত করে লোক দেখানোর চেষ্টা করেন।
