লেদার ইয়াবা রাজ্যের নব্য কিং ছৈয়দ আলম এখনো বেপরোয়া!

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৬ years ago

বিশেষ প্রতিবেদক : সরকারের মাদক বিরোধী কঠোর অবস্থানের কারণে মাদকের প্রাদূভার্ব কমে আসলেও সম্প্রতি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ হতে জনসাধারণকে রক্ষার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের নিরাপদ থেকে সচেতনতামূলক কাজে ব্যবহার করার সুযোগে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে তালিকাভূক্ত ও তালিকার বাইরে থাকা মাদক কারবারীরা কৌশলে আবারো অপতৎপরতা শুরু করেছে। সম্প্রতি মাদকের চালান নিয়ে অনুপ্রবেশকালে সীমান্ত রক্ষী বিজিবির সাথে বন্দুক যুদ্ধে ৩জন অজ্ঞাত রোহিঙ্গা নিহতের পর তালিকার বাইরে থেকে আত্নসমর্পণকৃত ইয়াবা কারবারীদের মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করে আসছে বলে স্থানীয় চোরাচালান জগতে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে এক সময়ের কাঠুরিয়া নব্য ইয়াবা কিং ছৈয়দ আলম।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, গত ২বছর আগেও উপজেলার হ্নীলাস্থ লেদা ষ্টেশনের বাসিন্দা আলীর পুত্র ছৈয়দ আলম পার্শ্ববর্তী পাহাড় হতে কাঠ সংগ্রহ, বিক্রি ও দিন-মজুরী করে জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি পরিবারকে সহায়তা করত। অভাবের তাড়নায় মাঝে-মধ্যে আলোচিত ইয়াবা কারবারীদের সহযোগী হিসেবে কাজ করত। বিগত ২০১৯ইং সালের ১৬ ফেব্রæয়ারী আলোচিত ১০২ইয়াবা কারবারী আত্নসমর্পণের সময় লেদার বেশ কয়েকজন মাদক কারবারী আত্নসমর্পণ করে। এসব কারবারীরা কারাগারে যাওয়ার পর মুঠোফোন যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের ব্যবসার হাল ধরেন নব্য ইয়াবা কিং ছৈয়দ আলম। এই সর্বনাশা মাদকের নগদ টাকা এবং আলাদীনের চেরাগের ঘষায় এই ছৈয়দ আলমের ভাগ্যের চাকা খুলে যায়। তালিকার বাইরে থাকা বেশ কয়েকজন কিশোর-যুবকদের দিয়ে মাদকের চালান খালাস, মওজুদ ও সরবরাহের জন্য গড়ে তোলে সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এরপর এই চরম দুঃসময়ের মধ্যেও মাদকের কারবার চালিয়ে আসছে। লেদা এলাকার চোরাচালানে সম্পৃক্ত ব্যক্তি, গণ্যমান্য ও সুশীল সমাজের লোকজনের সাথে উক্ত যুবকের মাদক সংশ্লিষ্টতার বিষয় জানতে চাইলে সবাই উক্ত ছৈয়দ আলম মাদক কারবারে সম্পৃক্ত বলে স্বীকার করেন।

এছাড়াও বিভিন্ন গ্রামে করোনা কঠোরতায় মানুষের দুঃসময়ের সুযোগে নতুন নতুন সিন্ডিকেট গড়ে কৌশলে মাদকের অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে একাধিক সুত্রের দাবী। যা সচেতন মহলে আরো নতুন করে শংকা দেখা দিয়েছে।

হ্নীলা কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সভাপতি নজরুল ইসলাম খোকন বলেন, মাদক কারবারীরা আত্নসমর্পণ করলেও তাদের অনেক সহযোগীরা এখনো মাঠে সক্রিয় রয়েছে। বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে এখন তারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। তাদের আইনের আওতায় আনার দাবী উঠেছে।

এই বিষয়ে অভিযুক্ত ছৈয়দ আলমের নিকট জানতে চাইলে বলেন, আত্নসমর্পণকারীদের কয়েক জন স্থানীয় হিসেবে পরিচিত হওয়ার সুবাদে মাঝে-মধ্যে তাদের পরিবারকে কেনা কাটা করে দিই তবে আমি এই খারাপ কাজে জড়িত নয় বলে দাবী করেন।

উক্ত বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) এবিএমএস দোহা জানান, মাদক কারবারী তালিকাভূক্ত হোক বা তালিকার বাইরে থাকুক কোন মাদক কারবারীকে ছাড় দেওয়া হবেনা। লেদার ছৈয়দ আলমসহ যেই হোক না কেন সরকারের জিরো টলারেন্সনীতির আলোকে মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। সব অপরাধীদের পর্যায়ক্রমে আইনের আওতায় আনা হবে। ###