লামা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান ১০ মার্চ

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago

মো.কামরুজ্জামান, লামা :
লামাবাসীর প্রাণের প্রতিষ্ঠান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পঁঞ্চাশ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উদযাপন কমিটি। সোমবার সন্ধা ৭টায় লামা প্রেসক্লাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, ১০ মার্চ এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যেদিয়ে বিদ্যালয়ের ৫০ বছর পূর্তি উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এলক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতী চলছে। ইতোমধ্যে বিদ্যালয়ের ৪২ ব্যাচের ছাত্রছাত্রীদের প্রায় আট শ্’র ও বেশি রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। চুড়ান্ত হয়েছে প্রকাশিতব্য স্মরণিকার প্রচ্ছদ- আকার ও বিষয়বস্তু।
অনুষ্ঠানকে সুন্দর করে তোলার জন্য সাংবাদিকসহ সকল মহলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন উদযাপন কমিটি। ৫০ বছর পূর্তি উৎসব অনুষ্ঠানের শৃঙ্খলা রক্ষায় রেজিষ্ট্রেশন তালিকার বাহিরে অতিথি ব্যতিত কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হবেনা বলে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়। অর্ধ শত বছর পূর্তি উৎসবের স্বার্থকতার ব্যাখা দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রজাতন্ত্রের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন। সূতরাং দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভিত নানান সমস্যা দূর হয়ে, বিদ্যাপিঠটি ফিরে পাবে হারানো গৌরব। স্থানীয়দের আশা আকাঙ্খার বীজ রোপিত হবে নতুন করে। এছাড়া দেশ বরণ্য অনেকে এই অনুষ্ঠানে যোগ দিবে; যাঁদের অনেকেই এই প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ছিলেন।
১৯৬৭ সালে বিদ্যাপিঠটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে ‘অন্ধকারে আলোর মশাল হাতে’ কাল পরিক্রমায় আশা-নিরাশার দোলাচালে ৫০ বছর পার করলো। এই প্রাণের প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে স্থানীয়দের প্রত্যাশা অনেক ছিল। প্রাপ্তিও যে নেই; তা নয়। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষাবিদ, জজ, ব্যারিষ্টার ইত্যাদি কৃতি মানুষ অনেকে এই বিদ্যালয়ে অধ্যাবসায় করেছিল। সময়ের নিষ্টুর আগ্রাসনে হতভাগ্য প্রজম্ম-দূর্ভাগা অভিভাবকরা এখন সেসব কৃতিত্বের কথা ভাবতে পারছেন না। বিদ্যালয়ে মানসম্মত লেখাপড়ার সোনালী সময়গুলো এখন কেবল ইতিহাসতা নয়; বর্তমান প্রজম্মের কাছে রুপ কথার গল্পেরমতো। সম্প্রতি ক্লাশ টেনের এক ছাত্রের কান্নাকন্ঠে এ থেকে পরিত্রাণের এক বিপ্লবী আওয়াজ ধ্বনিত হয়।
আশার কথা হচ্ছে- ১০ মার্চ তারিখে ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে কাঙ্খিত বিদ্যা বঞ্চিত লামার প্রজম্মকে কিছু দিয়ে যাবেন; এমন কিছু কৃতি মানুষের পদচারণা ঘটবে। স্থানীয়রা আশা করেন, এই উৎসবের মধ্য দিয়ে অবসান ঘটবে বিদ্যালয়ের দীর্ঘ সমস্যা। বহুদিন ধরে হতাশার কবলে থাকা লামার অভিভাবকরা সোনালী সময়ের স্বপ্ন বুণতে শুরু করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে সাবেক ছাত্ররা বলেন; অনুষ্ঠানের সফল স্বার্থকতা আসবে তখনই; যখন সকল মহলের আন্তরিকতায় এর সফল সমাপ্তি ঘটবে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন, সাবেক ছাত্র লামা পৌর মেয়র মো: জহিরুল ইসলাম, শিক্ষক ইয়াহিয়া, সমিরণ বড়ুয়া, সাংবাদিক প্রিয়দর্শী বড়ুয়া, মো: লিটন, মো: রফিকুল ইসলাম, মো.কামরুজ্জামান প্রমূখ।