নিজস্ব প্রতিবেদক :- উখিয়ার ১৫নং রোহিঙ্গা ক্যাম্প হতে র্যাব পরিচয়ে অপহৃত রোহিঙ্গা ভিকটিমকে টেকনাফের হ্নীলা পাহাড়ি এলাকা হতে উদ্ধার পূর্বক মূলহোতা অবসর প্রাপ্ত এক সেনা সদস্যকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে।
১৫জুন বিকালে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউপির রঙ্গিখালী গাজীপাড়া ও জুম্মাপাড়া সংলগ্ন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়,গত ১১জুন ২০২৫ইং রাত ১১টায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৫’তে বসবাসরত মোঃ রহিমুল্লাহর পুত্র মোঃ হাফিজ উল্লাহকে জনৈক এনায়েত উল্লাহ ও নবী হোসেনের যোগসাজশে র্যাব পরিচয়ে ৩জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বরখাস্ত সৈনিক সুমন, সন্ত্রাসী রাকিব, সন্ত্রাসী শিকদার নিজ বসত-ঘর হতে ডেকে রঙ্গিখালী গহীন পাহাড়ে নিয়ে যায়। পরে অজ্ঞাত স্থান থেকে সন্ত্রাসীরা ভিকটিমের পরিবারের নিকট ১৫লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবী করে। অপহরণের সময় সন্ত্রাসীরা ভিকটিমের পরিবারকে প্রশাসনের সহায়তা নিলে হাফিজ উল্লাহকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। অপহরণের সংবাদ প্রাপ্তির পরক্ষণেই র্যাব-১৫ ভিকটিমের পরিবারের সাথে যোগাযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করতঃ ঘটনাটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। এরই প্রেক্ষিতে গত শুক্রবার বিকালে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের একটি চৌকস আভিযানিক দল রঙ্গিখালীতে অপহরণের অন্যতম প্রধান হোতা কুখ্যাত ডাকাত সর্দার শাহ আলমের বাড়িতে হানা দিয়ে আফ্রিদি ও আব্দুল গফুর নামে দুজন সন্দেহভাজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। র্যাবের গোয়েন্দা কার্যক্রম আরো বৃদ্ধি করে গতকালকে বিকেলে মরিচা বাজার থেকে মূল অপহরণকারী বরখাস্ত সৈনিক গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানি থানার ডুমরাকান্দি গ্রামের আকবর আলী মুন্সীর পুত্র,দেশের বিভিন্ন থানায় ১১টি মামলার আসামী মোঃ সুমন মুন্সি (৩২) কে আটক করতে সক্ষম হয়।
সন্ত্রাসী সুমনের মাধ্যমে অপহরণকারী ডাকাত শাহ আলম, সন্ত্রাসী রাকিব এবং সন্ত্রাসী শিকদারকে ভিকটিম হাফিজ উল্লাহকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য বার্তা প্রেরণ করলেও উল্লেখিত সন্ত্রাসীরা তাতে কোন কর্ণপাত করেনি। এরই প্রেক্ষিতে ভিকটিমকে উদ্ধারের জন্য আজ র্যাব, বিজিবি, পুলিশ, এপিবিএন ও বনবিভাগের ২৫৬জন জনবল নিয়ে ভিকটিমকে আটকে রাখার সম্ভাব্য গহীন অরণ্যে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে অপহরণের ৩দিন পর ভিকটিম হাফিজ উল্লাহকে উদ্ধার করতে সক্ষম হই এবং ১টি দেশীয় অস্ত্র, ৩রাউন্ড এ্যমুনেশনসহ র্যাবের ইউনিফর্ম ও ওয়াকিটকি উদ্ধারে সক্ষম হই।
উল্লেখ্য,রঙ্গিখালীর গহীন পাহাড়সমূহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য গতমাসের ঠিক এসময়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। সন্ত্রাসীদের দমনের লক্ষ্যে এবং অত্র গহীন জঙ্গলে শক্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত ব্যবধানে এখানে অভিযান পরিচালনা করবে।
কক্সবাজার র্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (ল এন্ড মিডিয়া কর্মকর্তা) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক জানান,আটক সন্ত্রাসীকে পরবর্তীতে আইনী প্রক্রিয়া সম্পাদনের নিমিত্তে পুলিশে সোপর্দ করা প্রক্রিয়াধীন। ###
