রোহিঙ্গা সহায়তায় ডাব্লিউএফপি’র মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার ১৫ হাজার মেট্রিক টন চাল হস্তান্তর

লেখক: মো. শহীদ, উখিয়া থেকে
প্রকাশ: ২ years ago

উখিয়া-টেকনাফে আস্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য ১৫ হাজার মেট্রিক টন চাল অনুদান দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।এসব চালের মুল্য ১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

১৬ জুলাই(মঙ্গলবার) দুপুরে উখিয়ার মধুরছড়ায় অবস্থিত বিশ্ব খাদ্য কর্মসুচীর(ডাব্লিউএফপি)লজিস্টিক হাব-এ এসব চাল হস্তান্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বক্তব্যকালে উপস্থিত প্রতিনিধিদের অনেকেই বলেন,ডব্লিউএফপি’র খাদ্য সহায়তায় একটি বড় ধরনের সহায়তা প্রদান বলে মন্তব্য করেন তারা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত এইচ.ই. ইয়াং সিক পার্ক, কোরিয়ার কৃষি, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক মন্ত্রকের (এমএএফআরএ)খাদ্যশস্য নীতি বিভাগের পরিচালক সাং মুন ব্যুন, কোরিয়া এগ্রো-ফিশারিজ ফুড অ্যান্ড ট্রেড কর্পোরেশন (এটি)ড্যানবি লি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো.কামরুল হাসান,এনডিসি(এমওডিএমআর)অতিরিক্ত সচিব মোঃ হাসান সারওয়ার,(এমওডিএমআর)এবং প্রধান রোহিঙ্গা সেল মোঃ মহসিন,যুগ্ম সচিব, খাদ্য মন্ত্রণালয়,মোহাম্মদ মিজানুর রহমান,শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি),এবং বিশ্ব খাদ্য সংস্থার(ডাব্লিউএফপি) কান্ট্রি ডিরেক্টর ডম স্কালপেলি প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে তারা বলেছেন,রোহিঙ্গা সঙ্কটের মানবিক প্রতিক্রিয়ায় ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে,আন্তর্জাতিক ও মানবিক সম্প্রদায়ের সমর্থনে পাশে আছেন কোরিয়া সরকার।২০১৮ সাল থেকে কোরিয়া সরকার এমএএফআরএ’র মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে বিশ্ব খাদ্য কর্মসুচী মানবিক প্রতিক্রিয়াগুলিতে অবিচল অবদান রেখে চলছেন।এই প্রক্রিয়ায় ২০২৪ সালে ৫০ হাজার মেট্রিক টন থেকে দ্বিগুণ হয়ে ১লাখ মেট্রিক টন হয়েছে।যা ডব্লিউএফপি বাংলাদেশ সহ ১১টি দেশে প্রায় ৭ মিলিয়ন মানুষকে সহায়তা করতে সক্ষম হয়েছে। তৎমধ্যে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে ১৫ হাজার মেট্রিক টন চাল অনুদান হিসেবে প্রদান করেছে।যা প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে দেড়মাস খাওয়ানোর জন্য যথেষ্ট।উখিয়া-টেকনাফ ও ভাসানচর দ্বীপ ক্যাম্পে রোহিঙ্গা পরিবারে বিতরণের আগে এসব চালের পুষ্টিগুণ বৃদ্ধির জন্য দুর্গায়ন করা হবে।বক্তব্যে মোঃ কামরুল হাসান,এনডিসি, এমওডিএমআর সচিব বলেন,এই মানবিক সাহায্য করা কোরিয়া প্রজাতন্ত্র থেকে খুব প্রয়োজন ছিল।তিনি আরোও বলেন,গত বছর রোহিঙ্গাদের খাওয়ানোর জন্য লড়াই করেছিলাম।কোরিয়ার সাথে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের জন্য আমরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। কোরিয়া প্রজাতন্ত্র বিশ্বব্যাপী,বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটে সহায়তা করার জন্য নিবেদিত। আমরা বাংলাদেশ সরকারকে তাদের দেশে আশ্রয় নেওয়া সমগ্র রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি বছরের ন্যায় পরের বছর ধরে তাদের অবিচল প্রতিশ্রুতির জন্য প্রশংসা করি।এই অনুদানের মাধ্যমে আমরা সম্পূর্ণরূপে পুনরুদ্ধার করতে সহায়তা করি। রেশন, ক্ষুধা ও অপুষ্টি দূর করা এবং তাদের সামগ্রিক কল্যাণে অবদান রাখায় আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ মিশনে ডব্লিউএফপি এবং বাংলাদেশের জনগণ এবং সরকারের সাথে দাঁড়িয়ে গর্ববোধ করেন বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যশস্য নীতি বিভাগের পরিচালক।রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য সম্পূর্ণ রেশন পুনরুদ্ধার করার জন্য আমাদের প্রচেষ্টার জন্য অনুদানটি অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং গুরুত্বপূর্ণ।হ্রাসকৃত তহবিল,অবিরাম জলবায়ু ধাক্কা,বারবার বিপত্তি এবং অবনতিশীল নিরাপত্তার মধ্যে তাদের দুর্বলতাগুলি আরও গভীর হতে থাকে। আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব হল তাদের মৌলিক চাহিদাগুলি নিশ্চিত করা,যতক্ষণ না তারা একদিন নিরাপদে বাড়ি যেতে পারে।আমরা এই উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য এমএএফআরএ এবং রোহিঙ্গা জনগণের সাথে সংহতির জন্য কোরিয়ান জনসাধারণকে ধন্যবাদ জানাই, বলেছেন ডম স্কালপেলি,বিশ্ব খাদ্য সংস্থার কান্ট্রি ডিরেক্টর।হস্তান্তর অনুষ্ঠানের পর,কোরিয়ান প্রতিনিধি দল চাল অনুদান বিতরণ পর্যবেক্ষণ করতে ক্যাম্পগুলিতে একটি ই-ভাউচার আউটলেট পরিদর্শন করেন।তারা কক্সবাজারে একটি ধান দুর্গ পরিদর্শন করেছেন।যেখানে কোরিয়ান চাল সুরক্ষিত।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব খাদ্য কর্মসুচীর ইমানুয়েলা ফ্রাঙ্ক বেথুয়েল মাশায়ো,হেড অফ এরিয়া অফিস কক্সবাজার,ডব্লিউএফপি বাংলাদেশ,স্কালপেলি, কান্ট্রি ডিরেক্টর, ডব্লিউএফপি বাংলাদেশ, ডেভিড বাগডেন, প্রধান সমন্বয়কারী, ইন্টার সেক্টর কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ।