রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের ৪ বছর : আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৫ years ago

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : বাংলাদেশ (মঙ্গলবার ১৮ মে ২০২১) – বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের ৪ বছর হতে চললো। মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলো সম্মিলিতভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এই সংকট মোকাবেলায় সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

আজ বাংলাদেশ সরকার এবং মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা মানবিক সংকটের জন্য প্রণীত ২০২১ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা (জেআরপি) প্রকাশ করেছে। এই পরিকল্পনায় ৮,৮০,০০০-এরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার ৪,৭২,০০০ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণের জন্য ৯৪.৩ কোটি মার্কিন ডলারের আবেদন করা হয়েছে। এবারের জেআরপি’তে সবমিলিয়ে প্রায় ১৪লাখ মানুষের সুরক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে যার অর্ধেকই নারী এবং শিশু। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে ২০২১ সালের জেআরপি-র জন্য এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার তহবিলের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছে। যা মোট আবেদনের ৩৫ শতাংশের বেশি।

এবারের জেআরপি বাংলাদেশ সরকার এবং জাতিসংঘের সংস্থা ও এনজিওসহ ১৩৪টি অংশীদারের প্রচেষ্টাকে সংযুক্ত করেছে। অংশীদারদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি বাংলাদেশি এনজিও রয়েছে। এই আবেদনে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সুরক্ষা জোরদার করা, মানসম্পন্ন জীবনরক্ষাকারী সহায়তা প্রদান, ক্যাম্পের আশেপাশের জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি মিয়ানমারে পরিস্থিতি অনুকূল হলে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ স্থায়ী প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

অনেকগুলো প্রতিবেদনের দেখা গেছে যে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ চাহিদাগুলোর মধ্যে রয়েছে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা এবং খাদ্য ও নগদ অর্থের সরবরাহ। এছাড়া কোভিড-১৯ এবং এর বিস্তারের ফলে স্থানীয় বাংলাদেশী জনগোষ্ঠীর খাদ্যনিরাপত্তা ও জীবনমানের উপর যে প্রভাব পড়েছে সে সংক্রান্ত বিষয়গুলোও উঠে এসেছে। কোভিড-১৯ মহামারী শরণার্থী এবং বাংলাদেশী উভয় জনগোষ্ঠীর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। কক্সবাজারের একটি ক্যাম্পে অবস্থানরত ৩০ বছর বয়সী হোসনে আরা বলেন- “মায়ানমারে অনেক ভোগান্তির পর আমরা এখন ক্যাম্পে থাকছি। কিন্তু এই জায়গাটি খুবই ঘিঞ্জি, এবং আরও অনেক স্বাস্থ্যসহায়তা প্রয়োজন।” তিনি আরও বলেন, “আমার বাচ্চাদের জন্য খাবার, পোশাক, ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় জিনিস ব্যবস্থা করা বেশ কঠিন।”

ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপ (আইএসসিজি)-এর সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর নিকোল এপটিং বলেন, “এ বছরের আবেদনের ৪০ শতাংশেরও বেশি অর্থ প্রয়োজন হবে সবচেয়ে জরুরি ও মৌলিক দুটি চাহিদা অর্থাৎ খাদ্যনিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে। এছাড়া নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, হাইজিন ও শিক্ষার পাশাপাশি বিশেষ করে নারী ও শিশুদের প্রজনন স্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সুরক্ষা সংশ্লিষ্ট উদ্বেগগুলো দূর করাও অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।”

বিগত বছরগুলোতে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনরক্ষায় জরুরি সেবাসমূহ যথাযথ ভাবে পৌছে দিতে বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্ব এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ২০১৭ সালে সংকটের শুরু থেকে বিগত চার বছরে জেআরপি-র মাধ্যমে ২৩২ কোটি মার্কিন ডলার তহবিলের প্রতিশ্রুতি এসেছে। যা প্রয়োজনীয় চাহিদার ৬৯ শতাংশ।

পরিস্থিতি অনুকূল এবং নিরাপদ থাকলে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী। স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ, স্থায়ী প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত, মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলো শরণার্থীদের প্রতি সহানুভূতি ও সংহতি প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছে পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশ সরকার এবং জনগনের প্রতি সহযোগিতা অব্যহত রাখার আবেদন জানাচ্ছে।