রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরলে ‘স্বাগত’ জানাব : বিবিসিকে অং সান সুচি

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক :
মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে মুসলমানরাই মুসলমানদের হত্যা করছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী হিসেবে পরিচিত অং সান সুচি। সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা মুসলমানরা দেশে ফিরে গেলে তাদের ‘স্বাগত’ জানানো হবে বলেও জানান তিনি। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসিকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন তিনি। এতে রোহিঙ্গা মুসলমানদের জাতিগতভাবে নিধন করার অভিযোগ নাকচ করে দেন সুচি।

ক্ষমতায় আসার পর থেকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এড়িয়ে চলছেন দেশটির কার্যত প্রধান নেতা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সুচি। বহু বছর ধরে গৃহবন্দি থাকার পর রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছানো এ নেত্রী এ বছর প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক কোনো সংবাদমাধ্যমকে একান্ত সাক্ষাৎকার দিলেন। সুচির সাক্ষাৎকার নেয়া বিবিসির সাংবাদিক ফারজাল কিয়েন তার দীর্ঘদিনের পরিচিত।

সাক্ষাৎকারে স্টেট কাউন্সিলর সুচি দেশটির রাখাইন রাজ্যে চলমান সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, রাখাইন প্রদেশে যথেষ্ট বৈরিতা রয়েছে, মুসলমানরাই মুসলমানদের হত্যা করেছে। তবে তার মতে, সেখানকার পরিস্থিতির জন্য ‘জাতিগত নিধন’ পরিভাষাটি বলা বেশ কঠিন। মিয়ানমারের এ নেতা বলেন, ‘সেখানে নানা বিভক্তি রয়েছে মানুষের মাঝে এবং আমরা সেটাই কমানোর চেষ্টা করছি।’ তাকে যখন প্রশ্ন করা হয়, মানবাধিকার রক্ষার দূত এবং শান্তিতে নোবেলজয়ী হয়েও সুচি ব্যর্থ হয়েছেন নিজের দেশে রোহিঙ্গাদের নির্মূলে বাধা দিতে, তখন তিনি এ অভিযোগ এড়িয়ে যান।

মিয়ানমারে রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে গত শতকের ৮০’র দশক থেকে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা শিরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। তাদের ফিরিয়ে নিতে বারবার আহ্বান জানানো হলেও মিয়ানমারের সাড়া পাওয়া যায়নি। এরই মধ্যে গত বছর অক্টোবরে চেকপোস্টে হামলায় ৯ সীমান্ত পুলিশ নিহত হওয়ার পর দেশটির সেনাবাহিনী এবং সীমান্তরক্ষী পুলিশ একযোগে রোহিঙ্গাদের দমনে অভিযানে নামে। এরপর আরও অন্তত ৭০ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সাক্ষাৎকারে সুচি বলেন, ‘তারা যদি ফিরে আসে, তবে তারা নিরাপত্তা পাবে। এখন সিদ্ধান্ত নেবে তারা। অনেকে এর মধ্যে ফিরেও এসেছে।’

এর আগে রাখাইন রাজ্যে মুসলমানদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর হত্যা, ধর্ষণের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিরুদ্ধে মুখ না খোলায় বিশ্বব্যাপী সমালোচিত হয়েছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী সুচি। সে প্রসঙ্গে তার জবাব, তিনি মার্গারেট থ্যাচার কিংবা মাদার তেরেসা নন। তিনি শুধুই একজন রাজনীতিবিদ। তবে সবকিছু পর্যবেক্ষণে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানকে আবারও রাখাইন রাজ্যে আমন্ত্রণ জানান। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় সামরিক বাহিনীর অভিযানের সময় হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে গত মাসে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘ। তবে মিয়ানমার সরকার শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

সুচি বলেছেন, গত অক্টোবরে পুলিশের ওপর হামলা কেন হয়েছিল, সে বিষয়ে তার কোনো ধারণা নেই। তবে সরকার ও অস্ত্রধারী রোহিঙ্গাদের মধ্যে শান্তি আলোচনার উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করা ওই হামলার উদ্দেশ্য হতে পারে বলে তার ধারণা। হামলার পর চালানো অভিযানে সেনাবাহিনীকে ‘যা ইচ্ছা তাই’ করার স্বাধীনতা দেয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। সুচির মতে, ‘তাদের ধর্ষণ, লুটতরাজ ও নির্যাতনের স্বাধীনতা দেয়া হয়নি। অভিযান চালানো, যুদ্ধ করার সুযোগ তাদের সংবিধানেই দেয়া আছে। সামরিক বিষয়গুলো সেনাবাহিনীর হাতেই ছেড়ে দেয়া হয়েছে।’

মিয়ানমারের বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, সরকারের অনুমতি ছাড়াই সেনাবাহিনী যে কোনো অভিযান চালাতে পারে। সুচি বলছেন, তার সরকার সেনাবাহিনীর হাত থেকে এসব বিষয়ের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে আশাবাদী।