রাত পোহালেই সিটি নির্বাচন ; কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে রাজধানী

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : রাজধানী ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণের দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল শনিবার। তাই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নির্বাচন ঘিরে রাজধানী জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা বলয়। পুলিশ, র‌্যাব ও আনসারের পাশাপাশি রাজধানীতে নিরাপত্তা-শৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে নেমেছে ৬৫ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

ইতোমধ্যেই ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও প্রবেশপথে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। সড়কগুলোতে বেড়েছে বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা টহল। বিপুল সংখ্যক সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সক্রিয় রয়েছেন মাঠে। এ ছাড়াও সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সজাগ দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সব এলাকা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, কিছু ভোট কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমনভাবেই সাজানো হয়েছে যে, কেউ ভোট কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা বা গোলযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করলেই তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর অ্যাকশনে যাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রস্তুত থাকবে র‌্যাবের হেলিকপ্টার, বোম্ব স্কোয়াড ও ডগ স্কোয়াড। র‌্যাব মহাপরিচালক ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ভোটারদের নিরাপত্তায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে সর্বশক্তি নিয়োগ করা হবে।

অন্যদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ভোট কেন্দ্রিক রাজধানীতে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেই। এবারের নির্বাচনে সব বাহিনী মিলে অর্ধলক্ষাধিক ফোর্স নিয়োজিত থাকবে।

যেকোনো ধরনের অপকর্ম বা আইনবিরোধী কাজের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরাও। প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং দুটি ওয়ার্ডের জন্য একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে থাকছেন। এ নির্বাচনে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, এপিবিএন, আনসার ও ভিডিপি নিয়োগ করা হয়েছে। ইভিএমের কারিগরি সহায়তায় প্রতি ভোট কেন্দ্রে দুজন করে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য নিয়োগ থাকবে। নারী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ভোটারদের নিরাপদে, নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে ভোট দিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা করার নির্দেশনা রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের প্রতি। এ ছাড়া বৃহস্পতি থেকে আগামী ৩ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারীদেরও আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে।

ভোটারদের নিরাপত্তায় সর্বশক্তি নিয়োগ করবে র‌্যাব : বৃহস্পতিবার কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর মহাপরিচালক ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য যা যা হয় তা সবই আমরা এবার দেখতে পাচ্ছি। আইনশৃঙ্খলার প্রেক্ষাপটে আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছি। যাতে নিরাপদে-ভীতিমুক্ত পরিবেশে ভোটাররা ভোট দিতে পারেন। গত নির্বাচনের চেয়ে এবার আরও বেশিসংখ্যক র‍্যাব সদস্য মাঠে থাকবে।

প্রতিটি কেন্দ্রে র‍্যাবের নেতৃত্বে একটি করে অফিসারের নেতৃত্বে পেট্রলিং থাকবে। ঢাকায় পাঁচটি ব্যাটালিয়ন রয়েছে, স্ট্রাইকিং ফোর্সও থাকবে। যাতে যেকোনো আপদকালীন পরিস্থিতি অল্প সময়ের মধ্যে মোকাবেলা করতে পারি। কমান্ড বাহিনী ছাড়াও হেলিকপ্টার, বোম্ব স্কোয়াড ও ডগ স্কোয়াড মোতায়েন থাকবে। তা ছাড়াও ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থা থাকবে। ভোটারদের নিরাপত্তায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে সর্বশক্তি নিয়োগ করা হবে।

বেনজীর আহমেদ আরও বলেন, দুই সিটিতে ২ হাজার ৪৬৮টি কেন্দ্রের মধ্যে যেসব ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে সেদিকে র‍্যাবের বাড়তি নজর থাকবে। তবে আমরা‌ আগে থেকেই কিছু করতে চাচ্ছি না। কারণ অপব্যাখ্যা হতে পারে। দেশের ভোটার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভোটদান ও গ্রহণ করার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ। তবে যদি কেউ ভোট কেন্দ্রে কোনো বিশৃঙ্খলা বা গোলযোগ করার চেষ্টা করেন তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বা প্রতিহত করা হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা অনুসারে ৫৬ ঘণ্টার বিশেষ দায়িত্ব পালন করবে র‌্যাব। ইতোমধ্যেই বৃহস্পতিবার থেকে সে দায়িত্ব পালন শুরু হয়েছে। তবে ভোটারদের খেয়াল রাখা উচিত ম্যানহোলের ঢাকনা চোর বা এ ধরনের প্রার্থীরা যাতে নির্বাচিত না হয়। যথাযোগ্য প্রার্থীরা নির্বাচিত হবেন এটাই প্রত্যাশা।

বেনজীর আহমেদ বলেছেন, প্রার্থীর ক্যাম্পেইন করার জন্য যারা ঢাকার বাইরে থেকে এসেছিলেন, তারা অনেক করেছেন, তাদের থ্যাংক ইউ ভেরি মাচ, এবার আপনারা চলে যান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে অপ্রয়োজনীয় বা বহিরাগত কোনো লোকের অপতৎপরতা আমরা চাই না। অযথা লোক সমাগমের প্রয়োজন নেই। বহিরাগত বা ভোটার নন এমন যারা আছেন তারা যেখানে থাকছেন সেখানেই থাকেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে নিজের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য ছবি সংবলিত যেকোনো পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন। এ বিষয়ে নাগরিকদের সহায়তা একান্ত কাম্য।

নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেই : ডিএমপি কমিশনার মহা. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন ঘিরে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বইমেলার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ শেষে পুলিশ কমিশনার বলেন, গত এক মাস ধরে ঢাকায় নিরবচ্ছিন্নভাবে নির্বাচনি প্রচারণা চলছে। দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়নি। প্রত্যাশা করছি যেসব রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তাদের প্রার্থীরা সুষ্ঠু পরিবেশ বজার রাখবেন। তাহলে আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে কথা দিতে পারি, প্রতিটি নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য ডিএমপি প্রস্তুত।

বহিরাগতরা আসার বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা চালানোর জন্য ঢাকার বাইরে থেকে মানুষ এসেছে। বিষয়টি অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। আমরা এসব লোকজন সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছি। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগ অথবা মামলা আছে কি না, গোয়েন্দা টিম সেটি জানতে কাজ করছে। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করতে পারলে ওই সব স্থানে আমরা অভিযান চালাব। তবে গণঅভিযান চালিয়ে মানুষের মনে ভীতি সৃষ্টি করতে চাই না।

মোতায়েন রয়েছে ৬৫ প্লাটুন বিজিবি : বিজিবি সদর দফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, রাজধানীতে মোট ৬৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) জন্য ৩৮ প্লাটুন ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) জন্য ২৭ প্লাটুন। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। বিজিবি ভোটের আগে ও পরে মোট চার দিন দায়িত্ব পালন করবেন।