রাত পোহালেই টেকনাফ পৌর আ.লীগ সম্মেলন: হাড্ডা হাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ৪ years ago

খাঁন মাহমুদ আইউব : রাত পোহালেই কক্সবাজারের টেকনাফ পৌর আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে সম্মেলনের সকল আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। সম্মেলনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা কাউন্সিলরদের দ্বারে দ্বারে ধর্ণা দিচ্ছেন শেষবারের মতো। তবে এবারের সম্মেলন বিগত সম্মেলন থেকে উত্তেজনাকর ও গুরুত্বপূর্ণ, সুতরাং নেতৃত্বে যেই আসুক স্থানীয় রাজনীতে বইছে নতুন মেরুকরণের হাওয়া। তাই সভাপতি কে হচ্ছেন তা নিয়ে তৃনমূল নেতা কর্মীদের মাঝে চলছে চুল ছেড়া বিশ্লেষন।

এর আগে ১৯ জুলাই সম্মেলন অনুষ্টিত হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন জটিলতার কারনে তা পিছিয়ে যায়। তবে এই পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক রয়েছে। যে কোন ভাবেই রোববার (২৪ জুলাই) টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সম্মেলন সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছেন উখিয়া-টেকনাফ সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সভাপতি জেলা আওয়ামীলীগ নেতা রাজা শাহ আলম।

সভাপতি থাকতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতিকে দিয়ে সম্মেলন করার ব্যাপারে শুরুর দিকে জাবেদ ইকবাল চৌধুরীর আপত্তি থাকলেও পরবর্তীতে তার সম্মতিতেই প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

সম্মেলনে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান প্রধান অতিথি। জেলা আওয়ামীলীগ নেতা রাজা শাহ আলম, ইউনুছ বাঙ্গালী, সাবেক সাংসদ আব্দুর রহমান বদি বিশেষ অতিথি। বদরুল হাসান মিল্কি বিশেষ বক্তা। উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মাষ্টার জাহেদ হোসেন উদ্বোধক ও সা. সম্পাদক নূরুল বশর প্রধান বক্তা ও পৌর আওয়ামীলীগের সি. সহসভাপতি ইউছুপ মনু সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে।

দলীয় নেতা কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সম্মেলনে সভাপতি পদে সাবেক সাংসদ ও জেলা আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুর রহমান বদি, পৌর আওয়ামীলীগের বর্তমান সভাপতি জাবেদ ইকবাল চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর আবু হারেছ ও উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা সাইফুদ্দীন খালেদ, পৌর আওয়ামীলীগের সি. সহ-সভাপতি ইউছুপ মনো এবং সাধারণ সম্পাদক পদে পৌর আওয়ামীলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলম বাহাদুর, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদ হোসেন এর নাম শুনা যাচ্ছে।

এদিকে আব্দুর রহমান বদি প্রতিদ্বন্দিতার বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে না চাইলেও দলীয় সূত্র বিষয়টি অনেকটা নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন।

আব্দুর রহমান বদি দূর্ণীতি মামলার সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় প্রতিদ্বন্দিতার সুযোগ হারাবে বলে কানাগুষা চল্লেও যহেতু সাজা স্থগিত করা হয়েছে সেহেতু তিনি প্রতিদ্বন্দিতা করতে কোন বাঁধা নেই বলে জানিয়েছে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সভাপতি রাজা শাহ আলম।

একটি নির্ভর‍্যোগ্য সূত্র মতে, সাধারণ সম্পাদক পদটি আলোচনার বাহিরে থাকলেও আব্দুর রহমান বদি ও মো. আলম বাহাদুর এক জোট, অপরদিকে জাবেদ ইকবাল, ইউছুপ মনো আবু হারেছ ও সাইফুদ্দীন খালেদ এবং জাহেদ হোসেন আরেকটি জোট।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা আওয়ামীলীগের কয়েকজন সিনিয়র নেতা বলেন, সভাপতি পদে আপাতত ৪ জন মাঠে থাকলেও মূলত প্রতিযোগীতা হবে এমপি বদি ও জাবেদ ইকবাল চৌধুরীর মধ্যে। বিগত সময়ে আব্দুর রহমান বদি সংসদীয় রাজনীতিতে জড়িত থাকলেও স্থানীয় ভাবে দলীয় রাজনীতি থেকে অনেকটা পিছিয়ে পড়েছেন তিনি। তাই বিষয়টি বুঝতে পেরে দলের হাল ধরতে জোরালো ভাবে মাঠে নেমেছেন। অপরদিকে তৃণমূল থেকে উঠে আসা জাবেদ ইকবাল চৌধুরীও কোন অংশে কম নই। দ্বীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় তিনিও অসংখ্য নেতা কর্মী সৃষ্টি করেছেন সুতরাং তৃনমূলে তার বেশ সমর্থন রয়েছে। তবে সপ্তাহ খানেক ধরে জাবেদ ইকবাল চৌধুরী অনেকটা আড়ালে থাকলেও এটাকে তার রাজনৈতিক কৌশল বলে ধারনা করছেন অনেকে।

এদিকে জাবেদ ইকবাল চৌধুরী কোন বক্তব্য পাওয়া না গেলেও তার ফেইসবুক টাইম লাইনে তিনি গঠনতন্ত্র না মেনে সম্মেলন করা হচ্ছে সেই ইঙ্গিই দিয়েছেন। একইভাবে সাধারণ সম্পাদক মো. আলম বাহাদুর সম্মেলন নিয়ে কোন বক্তব্য করতে অপারগতা জানান।

৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়েদ উল্লাহ জানান, আমরা চাই প্রত্যেক কাউন্সিররের মতামতের ভিত্তিতে নেতা নির্বাচিত হবে। আমরা বরাবরের মতো একটি সুস্থ গ্রহন যোগ্য সম্মেলন আশা করি।

২০১৩ সালে পৌর আওয়ামীলীগের প্রথম সম্মেলনে জাবেদ ইকবাল চৌধুরী সভাপতি ও মোহাম্মদ আলম বাহাদুর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। মাঝে আর কোন সম্মেলন অনুষ্টিত হয়নি।