রঙ্গিখালী খাদিজাতুল কোবরা মহিলা মাদ্রাসার সাবেক পরিচালনা কমিটিকে নিয়ে অপপ্রচারের নিন্দা ও প্রতিবাদ

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago

বার্তা পরিবেশক :: সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ এবং সংবাদ মাধ্যমে হ্নীলা রঙ্গিখালী খাদিজাতুল কোবরা মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় সৃষ্ট একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য ও মতামত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যা নিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই মাদ্রাসার ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। সর্বস্তরের জনসাধারণের জ্ঞাতার্থে আমাদের জানামতে প্রকৃত ঘটনা আপনাদের সামনে তুলে ধরে বিভ্রান্তি দূর করার চেষ্টা করবো।
২০১৪ ইং হতে অত্র মাদ্রাসার বহিস্কৃত সুপার ফখরুল ইসলাম ফারুকী অবৈধভাবে বহাল তবিয়তে রয়েছে। নন এমপিওভূক্ত এই মাদ্রাসাটি পরিচালনা কমিটি ও পাশর্^বর্তী জনসাধারণের দেওয়া চাঁদা-অনুদানের উপর নির্ভর করে চলে আসছে। যেসব শিক্ষক-শিক্ষিকা খেয়ে না খেয়ে উক্ত মাদ্রাসায় পাঠদান করে আসছি তাদের বিগত ২০১৪ইং হতে ৪বছর ধরে কোন ধরনের বেতন-ভাতা দেয়নি। অসহায়-গরীব ও ক্ষুধার্ত শিক্ষকগণ এসব বেতন-ভাতা দাবী করলে বিভিন্ন ধরনের নাজেহালের শিকার হতে হয়েছে। যার কারণে বিভিন্ন সময়ে উক্ত সুপারের বিরুদ্ধে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, ইউএনও অফিস ও মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করা হয়।

ইতিমধ্যে এই মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সুপারের সাথে বিভিন্ন মহলের মধ্যে মতবিরোধ চলে আসছিল। হ্নীলা ইউপির মরহুম আলহাজ¦ এইচকে আনোয়ার চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় দ্বিধা-দ্বন্দ ভূলে সমন্বয় করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সাবেক কমিটিকে প্রধান্য দিয়ে নতুন একটি পরিচালনা কমিটি গঠনের সুখবরে আমরা সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ আশান্বিত হই। শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির শরণাপন্ন হয়ে বেতন-ভাতা নিয়ে এখনো পর্যন্ত ছাত্রীদের পাঠদান করে আসছি।

সামনে ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে বেতন এবং মাদ্রাসার স্বীকৃতি নবায়ন ও এমপিও তদবিরের জন্য তৎপর হয়ে সাবেক কমিটিকে অবহিত করি। তখন মাদ্রাসার বিভিন্ন খাতের আয়ের টাকা সুপারের হাতে ছিল। কমিটির লোকজন আলোচনা স্বাপেক্ষে শিক্ষকদের বেতন এবং মাদ্রাসার স্বীকৃতি নবায়ন ও এমপিও তদবিরের জন্য সুপারকে দায়িত্ব দেন। কিন্তু সুপার কোন ধরনের দায়িত্ব পালন না করে কমিটির লোকদের সাথে বিভিন্ন অজুহাতে কালক্ষেপন করতে থাকে। এসব বিষয় নিয়ে মূলত সাবেক কমিটির লোকজন ও সুপারের মধ্যে তুমুল বাক-বিতন্ডা হয়। বিষয়টি আমরা শুনতে পেয়ে ক্লাস রোম থেকে আমরা নিচে নেমে উভয়পক্ষকে শান্ত করি। তাদের মধ্যে কোন ধরনের লাঠি-সোঠা নিয়ে মারামারীর ঘটনা চোখে পড়েনি। এরপর সৃষ্ট বাক-বিতন্ডা নিয়ে সুপারের অনুরোধে অফিসে সমঝোতা বৈঠকে হয়। এতে ঈদুল আযহার পরে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক ঘন্টা পর হঠাৎ পুলিশ দেখতে পায়। কিছুক্ষণ পর নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানও হাজির হয়।

এরপর হতে বিভিন্ন সামাজিক এবং সংবাদ মাধ্যমে এই মাদ্রাসার বিপক্ষে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে কমিটির লোকজনসহ আমাদের ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করছে। আমরা সাধারণ শিক্ষকেরাও এই ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান কামনা করি। মাদ্রাসার অবৈধ সুপারের কারসাজিতে এই ধরনের কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহবান জানাচ্ছি।

প্রতিবাদকারী :

খুরশিদা ইয়াছমিন, বিলকিস আরা বেগম, হোসনে আরা বেগম,
মৌলানা ফরিদুল আলম জিহাদী, কোহিনুর আক্তার,
সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা,
রঙ্গিখালী খাদিজাতুল কোবরা মহিলা দাখিল মাদ্রাসা, হ্নীলা, টেকনাফ।