মিয়ানমারের সাবেক সেনা কর্মকর্তার রোহিঙ্গা গণহত্যার কথা স্বীকার

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৫ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : রাখাইনে ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর কথা স্বীকার করেছেন মিয়ানমারের এক সাবেক সেনা কর্মকর্তা। রেডিও ফ্রি এশিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

নায় মায়ো থেট নামের সেনাবাহিনীর ওই ক্যাপ্টেন ছয় বছর রাখাইনে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে যান এবং জান্তাবিরোধী সিভিল ডিসওবিডিয়েন্স মুভমেন্টের বাহিনীতে যোগ দেন। সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলায় সাক্ষী হিসেবে তলব করা হলে তিনি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে রাজী আছেন।
নায় মায়ো বলেন, ২০১৬ সালে কি-গান-বাইনে সন্ত্রাসী হামলার পর প্রথমবারের মতো একটি নিধন অভিযান শুরু করা হয়েছিল। ২০১৭ সালে (আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি) একই এলাকায় পুলিশের তিনটি তল্লাশি চৌকিতে অভিযান চালানোর পর আরেকটি নিধন অভিযান শুরু করা হয়। আমরা যখন দ্বিতীয়বার সেখানে গেলাম, তখন আমরা লক্ষ্য করলাম তেমন কিছুই নেই। স্থানীয়দের প্রায় সবকিছু কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

রোহিঙ্গা গণহত্যার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘একজন কর্মকর্তা ছিলেন যিনি ছুরির মতো মারাত্মক অস্ত্রের সন্ধান করছিলেন। তিনি গ্রামের মেয়েদের একটি ঘরে নিয়ে নগ্ন করে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়েছিলেন। আমি একজন সৈনিকের কাছ থেকে শুনেছি সে তার সহকর্মী জানিয়েছে একজন রোহিঙ্গা নারীকে সে ধর্ষণ করেছে। তার নাম মনে করতে পারছি না। একটা ছোট ছেলেকে একটা কূপে ফেলে দেওয়ার ঘটনা আমার মনে আছে। আমি যখন ২৩৩ নং পদাতিক বাহিনীতে কাজ করছিলাম তখন এই ঘটনাগুলো ঘটেছিল। এরপরে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছিল যা মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছিল। গ্রামবাসীদের তাদের বাড়িঘর থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং যারা পালাচ্ছিল তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়। অধিকাংশ লাশ গ্রামের পাশের মাঠে পুঁতে রাখা হয়েছে। আপনি যেমন ছবিতে দেখেছেন, লোকেরা দলে দলে তাদের গ্রাম ছেড়েছে।’

২০১৭ সালে রাখাইনে হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করে মিয়ানমারের সেনারা। অনেক নারীকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়। রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয় সেনারা। প্রাণে বাঁচতে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। ২০১৮ সালে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন তাদের প্রতিবেদনে জানায়, রোহিঙ্গারা জাতিগত নিধনের শিকার।