কবি এম.এরশাদুর রহমান :
টেকনাফের পরিচিতি :
বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা টেকনাফ । সাগর নদী পাহাড় এই তিন প্রকৃতির আবহে স্বয়ং বিধাতা টেকনাফকে সৃজন করেছেন সুন্দরের জন্য। এইজন্যে টেকনাফকে বলা হয় সুন্দরের শহর। টেকনাফ কত যে সুন্দর তা যে কেউ বলতে পারবেনা । কবির ভাষায়
সুন্দরের শহর টেকনাফ কি যে অপরুপা
যে কেউ বুঝবেনা চালাইনি যে দুপা ।
একদিকে নাফ নাফ নদী অন্যদিকে পাহাড় ।
কি যে নেই তাতে যেন রুপের বাহার ।
ছেড়া দিয়া সেন্টমার্থিন টইংগার পাহাড় ন্যাচার পার্ক ।
কুদুম গুহা মাথিন কুপ দেখবে পাখির ঝাক ।
নাফনদী : টেকনাফ উপজেলার অন্যতম নদী নাফনদী। নাফনদীটি হল দুই দেশের বিভক্তকারী নদী তাই তাকে আন্তজার্তিক নদী বলা হয় । এই নদীটির পূর্বপাড়ে মায়ানমার এবং পশ্চিম পাড়ে আমাদের সোনার বাংলাদেশ। এই নাফনদীর তীরেই জন্ম গ্রহণ করেন আব্দুর রহমান স্যার । অসংখ্য জ্ঞানী গুণীর জন্ম শহর এই টেকনাফ । যুগে যেেগ পৃথিবীতে এমন কতগুলো মানুষের জন্ম হয় যারা শুধুই পরের জন্যই চিন্তা করেন নিজের জন্য নয় । তেমন এক মানুষ আব্দুর রহমান ।যিনি নিজে লেখা পড়া করেছেন এবং অন্যজন কিভাবে লেখা পড়া শিখে মানুষের মত মানুষ হবে ।তিনি রাত দিন পরিশ্রম করেছেন মানুষকে মানুষের মত করতে কি ভাবে জ্ঞান বিতরণ করা সেই চিন্তা ভাবনা করে। তিনি শিক্ষকতার মহান পেশায় নিয়োজিত ছিলেন তিনি ভাবতেন শিক্ষত হলে দুনিয়াতেও সফল অখিরাতেও সফল একজন শিক্ষক মরণের সাথে সাথে তার কবওে অসংখ্য সওয়াব পেীছে যাবে,তাকে ফেরেস্তারা বলবে তুমি কি এমন আমল করেছ যে তোমার আমল নামায় এত বেশি সওয়াব আসতেছে তখন শিক্ষক মুসকি হেসে জবাব দেবেন আমি শিক্ষক ছিলাম মাত্র । জীবনের শুরু থেকে শেষ পয়ন্ত মানুষের ছেলে মেয়ে গুলোকে মানুষের মত মানুষ করেছি এই ছাড়া আমি অদম বান্দা কিছুই করেতে পারিনি তবে নিয়মিত নামাজ পড়তাম সেই ভাবনা থেকে মুলত আব্দুর রহমান স্যারের শিক্ষকতা পেশায় আসা । বেতন পাক আর না পাক শিক্ষকতার মহান পেশায় জীবনের সোনালী সময় টুকুন কাটিয়ে দিয়েছেন এর্ব তিনি আল্লাহর রহমতে সফল হয়েছেন ।
জন্মও বংশ পরিচয় :
জেলার টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের একটি পাহাড়ি গ্রাম লেচুয়াপ্রাং। এই এলাকায় একসময় রাখাইনদের বসবাস ছিল বলে নাম ও সব রাখাইন ভাষায় রাখা হয়েছে। আর লেচুয়া প্রাং অর্থ হল, লে র্অ্থ চার , চাই অর্থ ধুন বা পরিমাপ যেমন ১৬ কানি সমান এক ধুন। প্রাং অর্থ বাগান অর্থাৎ লেচুয়া প্রাং অর্থ চারধুন সমান বাগান ।
সেই সুন্দর গ্রামে ১৯৫৫ সনের জানুয়ারী মাসের প্রথম তারিখ নব বর্ষের দিনে পিতা আজিজুর রহমান ও মাতা সৈয়দ জামাল এর ঘরকে আলোকিত করে আসে এক ছেলে সন্তানের,সবাই খুশীতে আটখানা জন্ম নিল ইতিহাসের একটি কাঁচা পাতার খুব বেশি খুশী হয়েছে আজিজুর রহমানের মা বাা ও সৈয়দ জামালের মা বাবা ।
নাম রাখলেন আব্দুর রহমান :
মহান আল্লাহর কাছে দুইটি নাম ই খুব প্রিয় একটি হল আব্দুল্লাহ অন্যটি হল আব্দুর রহমান। তাই দাদা দাদী আদর করে নাম রাখলেন আব্দুর রহমান এতে করে বুঝা যায় তার পরিবার ছিল খুবই ধার্মিক। শৈশবও কৈশোর। আব্দুর রহমান এর ছোট কাল কেটেছে তাদের সুন্দর ছবির মত গ্রামে। তার দাদি সোনাবান তাকে খুব বেশি আদর করতেন। কবির ভাষায় বলতে হয়;
দাদা দাদি নাতি পেলে ভুলে যায় ছেলের কথা
নাতী ও আদর করে ভাঙোন সবার নীরবতা ।
পড়ালেখা :
আগেকার দিনে মুসলিম ছেলে মেয়েদেও জন্য মসজিদের বারান্দায় পবিত্র কোরআন পড়ার ব্যবস্থা ছিল । তিনি সেই মক্তবে ভর্তি হলেন ।পড়লেন পবিত্র কোরআন শরিফ । এর পরে রঙিখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে তিনি ১৯৬৫ সালে ৫ম শ্রেণী পাশ করেন । এবং হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন সেখানে পড়ালেখা কওে সেখান হতে ১৯৭১ সালে তিনি এসএসসি পাশ করেন । স্যারেরা ছিলেন ৭ ভাই ৪ বোনের মধ্যে আব্দুর রহমান ছিল সবার বড় । বড় ভাইদেরকে সবাই বদ্দা বলে ডাকতেন এবং তাকে সবাই সম্মান করতেন । সবাই তাকে অনেক অনেক আদর করতেন ।স্কুলের জন্য জমির ব্যবস্থা ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশে স্বাধীনের পরপরই দেশকে সোনার বাংলাদেশ গড়তে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বাংলার বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান । দেশে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন দিলে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার পদপ্রার্থী হলেন এলাকার হাজী নজির আহম্মদ । তিনি সাবেক ২নং ওয়ার্ড় হতে মেম্বার প্রার্থী হলেন,তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার স্কুলের জন্য ৫০শতক জমি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে আব্দুর রহমান স্যারসহ সকল মানুষ তার পক্ষে কাজ করে তাকে মেম্বার বানালেন
তিনি তার কথা মত স্কুলের নামে ৫০শতক জমি দান করলেন ।
উলুচামরী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্টা :
১৯৭৪ সনে মাষ্টার আব্দুর রহমান এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গকে সাথে নিয়ে সবার সহযোগিতায় প্রতিষ্টা করলেন উলুচামরী প্রাথমিক বিদ্যালয়। সুচনা হল একটি নবদিগন্তের আলোকিত মানুষ তৈরীর একটি কারখানা। এই স্কুলের প্রতিষ্টাকালীন শিক্ষক ছিলেন মাষ্টার আবু তাহের,মাষ্টার আব্দু শুক্কুর। সেখানে আব্দুর রহমান স্যার সহ সকলেই সকাল ৯টা হতে দুপুর ১টা পর্যন্ত ছাত্র ছাত্রীদের পড়াতেন ।
১৯৭৬ সালে আব্দুর রহমান স্যার ডঃ গাজী কামরুল ইসলামের সাথে সাক্ষাৎ হন, তাকে পাহাড়ে যেতে ব্যাগসহ সহযোগিতা করেছেন। তখন এলাকায় শিক্ষিত মানুষ ছিলেন খুবই কম তারা হলেন মরহুম মাওলানা নজির আহম্মদ, মাওলানা কেফায়েত উল্লাহ , মাষ্টার ছিদ্দিক আহম্মদ ,মাষ্টার আবু তাহের, এবং মাষ্টার আব্দুর রহমান সহ আরো কয়েকজন আন্ডার এস এসসি ছিল ।১৯৭৬ সালে স্কুল ঘরটি ভেঙে গেলে মাষ্টার আব্দুর রহমান অনেক কষ্ট করে চাঁদা তুলে তুলে স্কুল ঘরটিকে আবার নতুন করে তৈরি করলেন ।স্কুলের করুণ অবস্থায় মাষ্টার আব্দুর রহমান সকল দার্য়িত্ব নিয়ে স্কুলের ছাত্র ছাত্রী বাড়ালেন। এর পরে মাওলানা খাইরুল বাশারের বিশেষ অনরোধে তিনি ১৯৭৫ হতে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত হ্নীলা শাহ মজিদিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় সককারি শিক্ষক হিসেবে নিযোগ পান। তিনি সেখানে অসংখ্য মানুষকে জ্ঞান বিতরণ করেছেন। ১৯৭৮সনে নতুন উদ্যোগে নিজ গড়া বিদ্যালয়ে ফিরে এসে নতুনভাবে ছাত্র ছাত্রীদের আবার পড়াতে শুর করেন ।পরে আরারো স্কুল ঘর টি ভেঙে গেলে তিনি রাত্রে পুথিঁ পড়ে স্কুলের জন্য বাশ বেত গাছ শন সংগ্রহ করে স্কুল ঘরটিকে নতুন ভাবে সাজালেন ।১৯৮৫ সনে স্কুলে নিজে কমিটির সহযোগিতায় দুইজন শিক্ষক নিয়োগ দেন তারা হলেন মাষ্টার সোলাইমান পান খালী।
মাষ্টার আবু জাহের চেীধুরী,জাদিমোরা। স্কুলটি জাতীয় করণ হল মাষ্টার আব্দুর রহমানের সাধনার ফলে ১৫/১১/১৯৮৬সনে উলুচামরী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হল হোছাইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসন আমলে ।
এখন তিনি সেই স্কুলের সরকারি শিক্ষক। তিনি একাধারে ১৯৮৬ সন হতে ২০০০সাল পর্যন্ত ১৫বছর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দার্য়িত্ব পালন করেন। তিনি সুদীর্ঘ ১১ বছর বেতন বিহীন ঐ স্কুলে চাকরি করেছেন। এই মহান শিক্ষক ৩১/১২/২০১৮ সনে এলপিআর এ যান এবং ৩১/১২/২০১৯ সনে অবসরে যাবেন। তার দুই ছেলে তিন মেয়ে সবাই শিক্ষিত
তিনি এখনো ছুটে যান নিজ গড়া স্কুল উলুচামরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তিনি এখনো সুস্থ আছেন নিয়মিত মসজিদে গিয়ে পাচঁ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সহিত আদায় করেন। আল্লাহ পাক এই মহান শিক্ষকের সমস্ত গুণা মাফ করুন এবং তাকে হায়াতে তাইয়েবা দান করুণ ও সুস্থ রাখুন ।
