মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের দুই গ্রামে আরকান আর্মির হা-ম-লা-অগ্নিসংযোগে হ-তা-হ-ত অনেক ; অবরুদ্ধ সাড়ে ৪শ

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ২ years ago

বিশেষ প্রতিবেদক : প্রতিবেশী দেশ মায়ানমারে চলমান বিদ্রোহী গ্রুপ এবং সরকারী বাহিনীর মধ্যে চলমান সংঘাত ও লড়াইয়ের মধ্যে আবারো রোহিঙ্গা মুসলিমদের ২টি গ্রামে রাতের অন্ধকারে বিদ্রোহী আরকান আর্মি হামলা-লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। এদের হামলায় অনেক মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে অন্যরা প্রাণ বাঁচাতে পাহাড়ি পথ দিয়ে পালানোর সময় ৪শ ৫০জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু অবরূদ্ধ হয়ে পড়েছে দাবী করছে তারা। এসব রোহিঙ্গা নাগরিক প্রাণ বাঁচাতে আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

উক্ত গ্রামের বাসিন্দা ইলিয়াছসহ বেশ কয়েকজন জানান,মায়ানমারের মন্ডু জেলার বুচিদং থানার টেটমিনসৌং এবং কেপ্রু দৌং গ্রাম ২টির উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্বে মিলিটারীর ব্যারাক ছিল। বিদ্রোহীদের হামলার মুখে মিলিটারী পালিয়ে গেলে গত ১৭ মে রাত ১০টারদিকে ৫০জনের ১টি গ্রæপ এবং ১৩জনের ১টি গ্রæপ এই দুই গ্রামে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি রকেট লাঞ্চার ছুঁড়তে থাকে এবং ঘর-বাড়ির উপর পাউডার ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে অসংখ্য নারী-শিশু ও পুরুষের মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। এই ঘটনার পর এই দুই গ্রামের ১৫হাজারের মতো নারী-পুরুষ ও শিশুরা দ্বিগ-বিদ্বিগ পালিয়ে যায়। এদের মধ্যে ৪শ ৫০জনের নারী-শিশু ও পুরুষের বহর মন্ডু জেলা শহরের দিকে পালিয়ে যাওয়ার সময় কালা পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে পৌঁছলে আরকান আর্মির সদস্যরা তাদের ঘেরাও করে ফেলে এবং নারী-পুরুষ পৃথক করে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। মগ বাগি বা আরকান আর্মির সদস্যরা তাদের মেরে ফেলার আশংকা করছে। এরই মধ্যে ২/৩শ মৃতদেহ পড়ে রয়েছে বলে জানান তারা।

বাশার নামে একজন জানান,নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে আমরা এ বিষয়টি কোন সম্প্রদায়কে জানাতে পারছিনা। আমরা প্রাণ রক্ষার্থে আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এদিকে নাগাকুরার একটি সুত্র জানিয়েছে, মিলিটারীদের হাত ছাড়া হওয়া ব্যাটালিয়ন সদর পুন:উদ্ধারের জন্য বিদ্রোহীদের উপর হামলার প্রস্তুুতি নিচ্ছে। বিদ্রোহীরা ঘাঁটি ছাড়তে নারাজ হওয়ায় স্থানীয় রোহিঙ্গা মুসলিম নাগরিকদের সরিয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের যাওয়ার জায়গা না থাকায় সেখানেও হামলার শিকার হওয়ার আশংকা করছে। ###