টেকনাফ টুডে ডেস্ক : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একদিকে জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বাড়ছে, অন্যদিকে আবার হঠাৎ করে একলাফে লিটারে ১৫ টাকা বেড়েছে ডিজেল-কেরোসিনের দাম। ফলে আরও দ্বিগুণ বাড়বে দ্রব্যমূল্য। এখন সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? তাদের তো এখন না খেয়ে অপুষ্টিতে মৃত্যু হওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে। দেশের বর্তমান এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে রাজপথে নামা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি জানান।
শনিবার কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য তরিকুল ইসলামের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘তরিকুল ইসলাম স্মৃতি সংসদ’ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও সম্প্রতি ডিজেল-কেরোসিনের দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের অবস্থা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ সরকারের পতনের কোনো বিকল্প নেই। একমাত্র পথ হচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকারকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সবাইকে রাজপথে নেমে আসতে হবে। আমাদের শক্তি দিয়ে, জনগণের শক্তি দিয়ে এই ভয়াবহ দানবীয় সরকারকে পরাজিত করে জনগণের রাষ্ট্র, জনগণের সংসদ, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে মানুষ জেগে উঠেছে, কথা বলতে শুরু করেছে। তারা নিজের অধিকার আদায়ের জন্য কথা বলছে, ভোটের কথা বলছে, ভাতের অধিকারের কথা বলছে, স্বাস্থ্য অধিকারের কথা বলছে। সুতরাং সেখান থেকে জনগণের দৃষ্টি সরিয়ে দিতে বিভিন্ন রকম ইস্যু তৈরি করছে ক্ষমতাসীন সরকার।
কর্মীদের হট্টগোলে ক্ষুব্ধ মহাসচিব
স্মরণসভা উপলক্ষে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের নিচতলার মিলনায়তনে সহাস্রাধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে তিল পরিমাণ ঠাঁই ছিল না। এমনকি সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের জন্যও কোনো নির্ধারিত স্থান বরাদ্দ রাখা হয়নি। ফলে অনেক সংবাদকর্মী অনুষ্ঠান কভার না করে চলে যান। বিগত কয়েকটি দলীয় কর্মসূচিতে এ রকম সমস্যা তৈরী হলেও দলের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেক সংবাদকর্মী। অনুষ্ঠানে নেতারা যখন বক্তব্য দিচ্ছেন তখনও পেছনের দিকে এবং মূল মঞ্চের দুই পাশে কর্মীরা সর্বক্ষণ কথা বলতে থাকেন। এ নিয়ে দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বক্তব্য দিতে এসে কর্মীদের কানাঘুষা ও কথা বলা বন্ধ করতে বলেন। কিন্তু এরপরও কিছু কিছু কর্মী সেদিকে কর্ণপাত করছিলেন না।
একপর্য়ায়ে তারা বলেন, কথা শুনতে না চাইলে এই কক্ষের বাইরে চলে যান অথবা আপনারা মাইকে এসে কথা বলেন, আমরা মঞ্চে বসে শুনি।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভাপতির বক্তব্য দেওয়ার সময়েও একই অবস্থার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ডায়াস থেকে তিনি নিজের আসনে গিয়ে বসে পড়েন।
হট্টগোলকারীদের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, সমস্যাটা কী? এভাবে আমি কথা বলব না। পরে সকলে পিনপতন নীরব হওয়ার পর আবার ডায়াসে এসে বিএনপি মহাসচিব বক্তব্য রাখেন।
বিএনপি মহাসচিবের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় নেতা আজিজুল বারী হেলাল, শামীমুর রহমান শামীম, আমিরুজ্জামান শিমুলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা নিতাই রায় চৌধুরী, আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, জয়ন্তু কুমার কুন্ড, যুবদলের সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, কৃষক দলের শহিদুল ইসলাম বাবুল, ছাত্র দলের ফজলুর রহমান খোকন প্রমুখ রাখেন।
