মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর ২৮ লক্ষ মাস্ক বিতরণ সম্পন্ন

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৬ years ago

কক্সবাজার, ২১ অক্টোবর ২০২০: মানবিক সহায়তা প্রদানকারী অংশীদাররা কক্সবাজারের ৩৪টি রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প এবং জেলার আটটি উপজেলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে ২৮,৫৫,৮৫০ পুনরায় ব্যবহারযোগ্য মাস্ক বিতরণ সম্পন্ন করেছে। কোভিড-১৯ এর ফলে জীবন-জীবিকা ও অর্থনৈতিক প্রভাব কাটিয়ে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় সৃষ্ট শূন্যস্থান পূরণ করতে, খাদ্যনিরাপত্তা সেক্টরের লাইভলিহুড ওয়ার্কিং গ্রুপের অংশীদাররা কক্সবাজারের সংশ্লিষ্ট সরকারী সংস্থাসমূহের সঙ্গে সমন্বয় করছে। শরণার্থী ক্যাম্প এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ২,৪৮০জন দক্ষ দর্জিকে মাস্ক তৈরির মাধ্যমে আয়-বর্ধনমূলক কাজে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। লাইভলিহুড ওয়ার্কিং গ্রুপ বিভিন্ন সেক্টরের সমন্বয় করে মার্চের শেষের দিকে এই উদ্যোগ গ্রহণ করে।

পুনরায় ব্যবহারযোগ্য মাস্কগুলো স্থানীয় দর্জিদের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে এবং ২৮,৫৫,৮৫০টি মাস্ক শরণার্থী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে পাশাপাশি এর ব্যবহারিক নির্দেশিকা শেয়ার করা হয়েছে। ৫ বছরের বেশী বয়সী প্রত্যেকে ২টি করে তিন স্তর বিশিষ্ট কাপড়ের তৈরি মাস্ক পেয়েছেন যা কক্সবাজার সিভিল সার্জন অফিস কর্তৃক অনুমোদিত এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা অনুসারে তৈরি করা হয়েছে। ৩৪টি ক্যাম্পে মাস্ক বিতরণ করার আগে, ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের গুরুত্ব দেওয়া হয় যেমন- প্রবীণ এবং স্বেচ্ছাসেবীরা, যারা বিতরণ পয়েন্টগুলোতে থেকে কাজ করেন এবং প্রতিনিয়ত বিভিন্ন মানুষের সংস্পর্শে আসেন। একই সঙ্গে নারী বান্ধব কেন্দ্রগুলোতে বিতরণ করা হয় যেখানে নারী এবং কিশোরীরা জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা থেকে নিরাপদ থাকতে এবং সহযোগিতা পেতে আসেন। এছাড়া, কক্সবাজারের ৮টি উপজেলায় ৬,২৭,৭০০ বাংলাদেশীর মধ্যে ১২ লক্ষ ৫৫ হাজার পুনরায় ব্যবহারযোগ্য কাপড়ের মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে।

সেক্টর এবং মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ব্যাপক কর্মযজ্ঞটি সম্ভব হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ৪০টিরও বেশি স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও, জাতিসংঘের সংস্থাসমূহ এবং অন্যান্য অংশীদাররা। যারা মাস্ক উৎপাদনের কাজের পাশাপাশি সচেতনতামূলক বার্তাগুলো ছড়িয়ে দিতে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করেছেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীরা তাদের পরিবার এবং কমিউনিটিকে রক্ষা করতে জরুরী সাড়াদানের সম্মুখসারির কর্মী হিসেবে একসঙ্গে কাজ করেছেন। স্থানীয় বাজারে ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম(পিপিই)-এর চাহিদা মেটাতে মাস্ক তৈরি এবং বিতরনের কাজটি পরিচালিত হচ্ছে।

মাস্ক তৈরির এই উদ্যোগটি এখন পর্যন্ত কক্সবাজারের শরণার্থী এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা বাংলাদেশীদের জন্য একটি জীবিকার সুযোগ তৈরি করেছে বিশেষ করে নারী নেতৃত্বাধীন পরিবারগুলোর জন্য। পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণে তাদেরকে উৎপাদন, চাহিদা ও যোগানের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে কয়েক হাজার নারী, পুরুষ প্রশিক্ষণার্থী লাইভলিগুড ওয়ার্কিং গ্রুপের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এবং এর ফলে ২,৪৮০ জন স্থানীয় দর্জি ইতোমধ্যে পুনরায় ব্যাবহারযোগ্য কাপড়ের মাস্ক তৈরি করতে সক্ষম। এই উদ্যোগ, বছরের শেষ পর্যন্ত চলবে। এছাড়াও, নিরাপদ ও মর্যাপূর্ণ ভাবে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মায়ানমারে ফিরে যাবার পর এই দক্ষতা এবং জ্ঞান তাদের জীবিকা নির্বাহে কাজে লাগবে।