মাতামুহুরী নদীর দিগরপানখালী পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে মানববন্ধন ; পরিদর্শনে ইউএনও

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৫ years ago

এম.জিয়াবুল হক : চকরিয়া উপজেলার ১৭ পয়েন্টে জেলা প্রশাসনের বৈধ বালু মহাল থাকলেও গেল কয়েকবছর ধরে মাতামুহুরী নদী, সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও পুকুর জলাশয় থেকে অবৈধভাবে মাটি বালু লুটের মহোৎসব যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। আর এই অবস্থা অব্যাহত থাকার কারণে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন থেকে ইজারা নেয়া বালু মহালগুলোর ব্যবসা লাটে উঠার উপক্রম হচ্ছে।
অবশ্য এসব অবৈধ বালু উত্তোলন ও মাটি লুট বন্ধে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন বারবার অভিযানও পরিচালনা করছেন। কিন্তু বারেবারে জড়িতরা বহাল তবিয়তে থেকে আবারও বিভিন্ন মোকাম থেকে বালু মাটি লুটের মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছেন। অনুরূপভাবে চকরিয়া পৌরসভার শহররক্ষা বাধেঁর সন্নিকটে দিগরপানখালী এলাকায় নদী থেকে প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়া স্যালু মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছিলেন একটি দাপুটে মহল। এলাকাবাসির দাবি, কয়েকমাসে এই দাপটশালী মহল দিগরপানখালীর ওই মোকাম থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রির মাধ্যমে কমপক্ষে কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়েছেন।
বালু লুটের বাণিজ্যে জড়িতরা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হলেও কক্সবাজার জেলা প্রশাসন বঞ্চিত হয়েছেন বিপুল অঙ্কের রাজস্ব আয় থেকে। অন্যদিকে বালু উত্তোলনের কারণে দিগরপানখালীর আশপাশের গ্রামের শতাধিক জনবসতি ও বিপুল ফসলি জমি নদী ভাঙ্গনের হুমকিতে পড়েছে। আবার দিবারাত্রি বালু ভর্তি শতাধিক ডাম্পার ট্রাক পরিবহন কাজে নিয়োজিত থাকার কারণে পৌরসভার ভাঙ্গারমুখ টু ফকিরা বাজার সড়ক ছাড়াও আরো কয়েকটি গ্রামীণ সড়ক ভেঙ্গে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। সড়কের বিভিন্ন অংশে গর্তের সৃষ্টি হয়ে বাড়ছে জনদুর্ভোগ।
এ অবস্থায় মাতামুহুরি নদী থেকে স্যালু মেশিনে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থার দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসি। শুক্রবার ৪ মার্চ বিকালে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, চকরিয়া পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড ভাঙ্গারমুখ টু ফকিরা বাজার সড়কের লাগোয়া নদী থেকে দিনরাত সমান তালে স্থানীয় বালুদস্যুরা স্যালু মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। আর শতাধিক ডাম্পার ট্রাক যোগে প্রতিদিন বালু পরিবহন করার কারণে বর্তমাসে সড়কের অবস্থা যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা! পরিণত হয়েছে। সেই সাথে সরকার হারাচ্ছে বিপুল টাকার রাজস্ব।
মানববন্ধনে এলাকাবাসি বলেন, মাতামুহুরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন এখনই আইনগত ব্যবস্থা না নিলে আগামী বর্ষায় সড়কটি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে এলাকাবাসির দাবির প্রতি সমর্থন জানান চকরিয়া পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বেলাল উদ্দিন, পৌরসভার সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর আনজুমান আরা বেগম। তাঁরাও বালু উত্তোলনকারীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
এদিকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে এলাকাবাসির মানববন্ধনের বিষয়টি জানতে পেরে শুক্রবার বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেপি দেওয়ান। তিনি বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং উত্তোলনকারীদের ও বিক্রির সাথে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা। অবৈধভাবে উত্তোলনকারী ও অবৈধ ভাবে বালু বিক্রির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।##