বিমান হামলায় নিহত দুই শতাধিক তালেবান ; সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষ বাড়ছে

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৫ years ago
Afghan security personnel and Afghan militia fighting against Taliban, stand guard in Enjil district of Herat province on July 30, 2021. (Photo by Hoshang Hashimi / AFP)

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : আফগানিস্তানের জাওজান প্রদেশের রাজধানী শেবেরঘানে তালেবান যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এ হামলায় দুই শতাধিক তালেবান নিহত হয়েছে। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এমনটাই জানিয়েছেন। আজ রোববার বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।

আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ফাওয়াদ আমান এক টুইট বার্তায় জানিয়েছেন,গতকাল শেবেরঘানে তালেবান যোদ্ধাদের জমায়েত ও গোপন আস্তানা লক্ষ্য করে বিমানবাহিনী হামলা চালায়। এ হামলায় ২০০ জনের বেশি তালেবান নিহত হয়। এতে তালেবানের বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ ও যানবাহন ধ্বংস হয়েছে।

আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা জানান, গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বি-৫২ জঙ্গি বিমান দিয়ে তালেবান লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। মার্কিন বিমানবাহিনীর এ হামলায় ব্যাপক হতাহতের শিকার হয়েছে তালেবান।

এদিকে, সপ্তাহব্যাপী সংঘর্ষের পর গতকাল শেবে শেবেরঘানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করে তালেবান। আগের দিন গত শুক্রবার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ নিমরোজের রাজধানী জারাঞ্জ দখলে নেয় সশস্ত্র সংগঠনটি। এক দিনের মধ্যেই তালেবানদের হাতে চলে গেছে আরেকটি প্রাদেশিক রাজধানীর দখল।

বার্তা সংস্থা এএফপির সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে জওজান প্রদেশের রাজধানী শেবেরঘান সংগঠনটির নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। জওজান দেশটির উত্তরাঞ্চলে তুর্কমেনিস্তান সীমান্তে অবস্থিত। প্রদেশটির ডেপুটি গভর্নর কাদের মালিয়া খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, শহরের পতন হওয়ায় সরকারি বাহিনীর সদস্য ও কর্মকর্তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন। প্রাদেশিক কাউন্সিলর বিসমিল্লাহ সাহিল জানান, গভর্নরের অফিস, পুলিশের প্রধান কার্যালয় এবং কেন্দ্রীয় জেলখানার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে তালেবান। তবে এয়ারপোর্টসহ শহরের কিছু এলাকা এখনো সরকার সমর্থিত বাহিনীর হাতে রয়েছে।

এ নিয়ে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তালেবান যোদ্ধাদের হাতে আফগানিস্তানের দুটি প্রাদেশিক রাজধানীর পতন হলো। আফগানিস্তানজুড়ে তালেবানের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর তীব্র লড়াইয়ের মধ্যে দুটি রাজধানী শহরের পতন দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য এক বড় ধাক্কা।