বার্তা পরিবেশক : গত ১৫ নভেম্বর দৈনিক কক্সবাজার, দৈনিক আজকের কক্সবাজার, অনলাই নিউজপোর্টাল কক্সবাজার নিউজ ডটকম’য়ে বিতর্কি’তে ভরপুর হোয়াইক্যং ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, ব্যবস্থা নিতে জেলা আওয়ামী লীগে আবেদন’ শীর্ষক সংবাদটি আমি নিম্মস্বাক্ষরকারীর দৃষ্টিগোচর হয়। সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাই ওই প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দার সাথে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রকৃত বিষয় হচ্ছে অভিযোগকারী বশির আহমদ একজন চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী। ২০১২ সালে কোটবাজারে র্যাবের হাতে ইয়াবাসহ হাতেনাতে আটক হন তিনি। দীর্ঘ দিন কারাভোগ শেষে জামিনে এসে অদ্যাবাধি ইয়াবা ব্যবসা অব্যাহত রাখে। সম্প্রতি টেকনাফ থানা কর্তৃক হোয়াইক্যং ইউনিয়নে মাদক নির্মূল কমিটি ও হোয়াইক্যং কমিউিনিটি পুলিশিং ফোরাম গঠনের ক্ষেত্রে চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী বশিরকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অন্তর্ভূক্ত করে নাই। সে ক্ষেত্রে তিনি আমাকে দোষারোপ করছেন। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোনো মাদককারবারীকে কমিটিতে পদায়ন না করতে কঠোরভাবে নির্দেশান দেন।
এরই প্রেক্ষিতে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম থেকেও তাকে দূরে রাখা হয়েছে। সে সুবাধে তিনি প্রতিহিংসা পরায়ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এহেন মিথ্যাচার ও রাজাকার আখ্যায়িত দেন। যা চরমভাবে আমাকে ও আমার মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে হেয় প্রতিপন্ন করে মানিহানি করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমি আইনের আশ্রয় গহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
আমি ও আমার পরিবার ঐতিহ্যগতভাবে আওয়ামী লীগের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিএনপি জামায়াতের আমলে আমার পাশাপাশি ভাই সহ আমার আতœীয়স্বজন অবর্ণনীয় নির্যাতন ও একাধিক মিথ্যা মামলার শিকার হই। আমার মরহুম পিতা আলহাজ্ব মনিরুজ্জামান সিকাদার একটি প্রতিষ্ঠান। যাঁর হাত ধরে উলুবনিয়া রাস্তার মাথা জামে মসজিদ, কাটাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় হাজ¦ী ইউসুফ আলীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন, জন চলাচলের জন্য উলুবনিয়ার রাস্তা নির্মাণ, উলুবনিয়া জামান-সখিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (নীজের দান করা জমির উপর), উলুবনিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ (নীজের দান করা জমির উপর), উলুবনিয়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, কবরস্থান (নীজের দান করা জমির উপর), সাধারন খেটে খাওয়া ভূমিহীন মানুষদের নিয়ে উলুবনিয়া সমবায় সমিতি লিঃ প্রতিষ্ঠিত করে কর্মসস্থানের ব্যবস্থা করিয়ে দেওয়া, গ্রামের মাঝখানে আর্ত মানবতার সেবায় নিয়োজিত হয়ে নীজের এককানি জমির উপর একটি বড় পুকুর সহ উন্নয়নমূলক কার্যক্রম আমার মরহুম বাবার আন্তরিক প্রচেষ্টার ফসল। আমার পিতা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান পিরিয়ডে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন কাউন্সিলের নমিনেশন মেম্বার ছিলেন এবং চট্টগ্রাম জেলার শ্রেষ্ঠ মেম্বার হিসেবেও পুরুস্কৃত হয়েছিলেন। স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭৩ সালেও বিপুলভোটে মেম্বার নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বড় ভাই সৈয়দ আহমদ সিকদার ও আনোয়ার সিকদার দ্বয়কে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন। তাই তারা গৌরবান্বিত মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধ থেকে ফিরে বাংলাদেশ সেনা বাহিনীতে চাকুরী করেছিলেন সৈয়দ আহম সিকদার।
পক্ষান্তরে অভিযোগকারী পরিবার বার্মাইয়া নাগরিক। তার বাবা কথিত জহির আহমদ চৌধুরী বার্মার সাহাব বাজার থেকে এদেশে অনুপ্রবেশ করেছিল। জহির আহমদের পিতা মোহাম্মদ বার্মার সাহাব বাজরের রোয়াজিগগিরি ছিলেন। সে সুবাধে উক্ত বশির তার পরিবারের অনেকেই মিয়ানমারের সাথে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে করে ব্যবাসা করে।
এছাড়া হোয়াইক্যং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও ওয়ার্ড কমিটি বিতর্কিত নয়। গঠনতন্ত্র মেনেই যথা নিয়মে প্রতিটি ওয়ার্ডের সম্মেলন ও কাউন্সিলে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সাংসদ অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ¦্ নুরুল বশরের উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ২০১৭ সালের শেষের দিকে ৯ টি ওয়ার্ডের কমিটি গঠিত হয়। এই সব আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কমিটিতে আমার জানামতে কোনো রাজাকার বা রাজাকারের সন্তান নেই। তাই সংবাদটি মিথ্যায় ভরপুর। সংবাদে উল্লেখিত ক্রস ফায়ারে নিহত মুফিদ আলম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন না। তিনি ছিলেন ৫ নং ওয়ার্ডের সভাপতি। আওয়ামী লীগের পদ পদবি ব্যবহার কোনো সময় অবৈধ ও অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়ায়নি এবং জড়ানোর প্রশ্নই আসেনা। সব মিলিয়ে তার অভিযোগ সমূহ সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। তাই এ রকম ভিত্তিহীন সংবাদে প্রকাশের ক্ষেত্রে যাচাবাছাই করার জন্য সংশ্লিষ্ঠ সকলকে অনুরুধ করছি।
প্রতিবাদকারী :
হারুনর রশিদ সিকদার
আহবায়ক
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, হোয়াইক্যং ইউনিয়ন শাখা ও
কৃষি ও সমবায় সম্পাদক
টেকনাফ উপজেলা শাখা।
