টেকনাফ টুডে ডেস্ক : আসন্ন বিজয় দিবসের আগে রাজাকাদের ‘আংশিক’ তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও নতুন আইনের দিকে তাকিয়ে এখনই তা করছে না মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
সোমবার মন্ত্রিসভায় রাজাকারদের তালিকা প্রণয়নের বিধান রেখে নতুন করে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইনের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।
একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কয়েকটি রাজনৈতিক দল পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষ নিয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলামী।
তখন যুদ্ধরত পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতা রাজাকার বাহিনী গঠিত হয়েছিল। আনসার বাহিনীকে এই বাহিনীতে একীভূত করা হয়েছিল।
প্রথমে এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে গঠিত শান্তি কমিটির অধীনে থাকলেও পরে একে আধা সামরিক বাহিনীর স্বীকৃতি দিয়েছিল পাকিস্তান সরকার।
একই রকম আধা সামরিক বাহিনী ছিল আল বদর বাহিনী ও আল শামস বাহিনী। তবে স্বাধীনতাবিরোধী এই বাহিনীগুলো সাধারণ অর্থে রাজাকার বাহিনী হিসেবেই পরিচিত বাংলাদেশে। এসব বাহিনী মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সমর্থনে ব্যাপক যুদ্ধাপরাধ ঘটায়।
প্রায় এক দশক আগে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরুর পর রাজাকারের তালিকা তৈরির দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।
এর ধারাবাহিকতায় গত বছর বিজয় দিবসের আগের দিন সংবাদ সম্মেলন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী ১০ হাজার ৭৮৯ জন ‘স্বাধীনতাবিরোধীর’ তালিকা প্রকাশ করেন।
কিন্তু ওই তালিকায় গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের নাম আসায় সমালোচনার প্রেক্ষাপটে সংশোধনের জন্য ওই তালিকা স্থগিত করা হয়।
এ বছর জানুয়ারি মাসে সংসদেও এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে। খোদ সরকারি দলের সদস্যরাই এ নিয়ে মন্ত্রী সমালোচনায় মুখর হন। সেসময় মন্ত্রী নতুন করে তালিকা তৈরির কথাও জানান।
এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির একটি উপকমিটি ওই তালিকা তৈরির কাজ শুরু করে। সেই কমিটি আসন্ন বিজয় দিবসের আগেই একাত্তরের রাজাকারদের ‘আংশিক’ তালিকা প্রকাশ করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে উপ-কমিটির আহ্বায়ক শাজাহান খান গত সেপ্টেম্বরে জানিয়েছিলেন।
তবে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কথা জানিয়ে শাজাহান খান সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সরকার যেহেতু আইন করছে। তাই আমরা একটু অপেক্ষা করতে চাচ্ছি। আর যতটুকু শুনেছি, আইনটি নতুন বছরের শুরুর দিকেই সংসদ অধিবেশনে পাসের জন্য উঠতে পারে। যে আংশিক তালিকা প্রকাশ করার কথা ছিল, সেটা এখন না দিয়ে মার্চে স্বাধীতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের আগে দেব।”
কাজের অগ্রগতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, “রাজাকারদের তালিকা তৈরির কাজ আমরা অনেকটা গুছিয়ে এনেছি। অনেক মুক্তিযুদ্ধ গবেষকদের গবেষণাও আমরা পর্যালোচনা করছি।”
রোববার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকেও রাজাকারদের তালিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
ওই বৈঠকে কমিটির পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধ কাউন্সিলের উপজেলা পর্যায়ের সদ্য সাবেক কমান্ডারকে আহ্বায়ক করে এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন জীবিত কমান্ডারদের নিয়ে রাজাকারদের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করার সুপারিশ করা হলে মন্ত্রণালয় তাতে সন্মতি জানায়।
এ কমিটি গঠনের জন্য দেশের সব জেলার ডিসিদের চিঠি দেওয়া হবে বলেও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বৈঠকে জানানো হয়।
গত ৯ অগাস্ট রাজাকারের তালিকা তৈরি করতে ছয় সদস্যের উপ-কমিটি গঠন করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।
