ডেস্ক নিউজ |
প্রশান্ত কুমার দাশমাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে কুমিল্লার বিবির বাজার সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ প্রশান্ত কুমার দাশ নামে এক ভিডিওগ্রাফার নিহত হয়েছেন। বিজিবির দাবি, তিনি মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রশান্তের নামে থানায় কোনও মামলা নেই। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া।
শুক্রবার (২৮ জুন) দিবাগত রাতে বিবির বাজার সীমান্তের সংরাইশ বেড়িবাঁধ এলাকায় প্রশান্ত নিহত হন। কুমিল্লা-১০ বিজিবি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে।
ঘটনাস্থল থেকে বিজিবি চার হাজার ৩শ’ ২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৩০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করে।
প্রশান্ত মোগলটুলি এলাকার বাদল চন্দ্র দাশের ছেলে। পরিবার এবং স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি একটি হত্যাকাণ্ড। প্রশান্ত কোনও মাদক ব্যবসা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তিনি ভিডিওগ্রাফারের কাজ করতেন।
প্রশান্ত পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন কিনা– জানতে চাইলে কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস ছালাম মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিবির বাজার সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত প্রশান্ত কুমার দাশের নামে থানায় কোনও মামলা নেই। তবে আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখছি।’
১০ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানান, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রশান্ত কুমার দাশকে বৃহস্পতিবার বিকালে আটক করা হয়। মাদকের একটি চালান যাবে– এ স্বীকারোক্তি অনুসারে তাকে নিয়ে গভীর রাতে বিজিবি বিবির বাজার সীমান্তে অভিযান চালায়। এ সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা মাদক ব্যবসায়ীদের একটি দল বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি চালায়। বিজিবি পাল্টা গুলি চালালে প্রশান্ত আহত হয়। তাকে কুমিল্লা কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের বাবা বাদল দাশ ও ভাই পাপ্পু দাশ জানান, নাজমুল নামে একটি ছেলে বৃহস্পতিবার বিকালে বাসা থেকে প্রশান্তকে ডেকে নিয়ে যায়। রাতে খবর আসে বিজিবি তাকে আটক করেছে। তারপর তারা বিবির বাজার সীমান্তে বিজিবির ক্যাম্পে যান। তখন তাদেরকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। বিজিবি সদস্যরা তাদের বলেন, কুমিল্লা কোটবাড়ি (১০ বিজিবি) ব্যাটালিয়নে যোগাযোগ করতে। পরে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে খবর আসে বিজিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে প্রশান্ত মারা গেছেন।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ আবির আহমেদ ফটো বলেন, ‘প্রশান্ত এলাকায়ই বড় হয়েছে। সে ভিডিওগ্রাফারের কাজ করতো। তার রোজগারে মা-বাবা এবং পরিবার চলতো। সে মাদক বা কোনও অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত ছিল এটি আমার জানা নেই।’
