বার্য়ানের কাছে পিএসজির হার

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ৪ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : শুরুতে বলের দখলটা ছিল বায়ার্নের পায়ে। একের পর এক আক্রমণে তারা বিদ্ধ করছিল পিএসজির প্রান্তকে। তবে সেগুলো গোলে রূপ নিচ্ছিল না। প্রথমার্ধটা তাই গোল শূন্যতেই শেষ হয়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি মিউনিখকে। ফরাসি তারকার পায়ের জাঁদুতে বল জড়ায় পিএসজির জালে।

ভালোবাসা দিবসের রাতে পিএসজিকে ১-০ গোলে হারিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। কিলিয়ান এমবাপ্পেদের ঘরের মাঠ প্যারিসের পার্ক দেস প্রিন্সেস স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর ম্যাচে তাদের হারায় বায়ার্ন।

খেলার সময় ৫৩ মিনিটে গড়িয়েছিল। গোরেটজকা চৌপো-মোটিংকে বাম দিকে খুঁজে পান এবং তিনি ডেভিসের দিকে বল বাড়ান। সেখান থেকে বল যায় কিংসলে কোম্যানের কাছে। ডান পায়ের শটে সোজা পিএসজির জালের ভেতরে প্রবেশ করান তিনি। তাতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে বায়ার্ন।

সেই গোলের পর হতাশা প্রকাশ করতে দেখা যায় এমবাপ্পেকে। তারপর দলের ভাগ্য ফেরাতে কয়েক মুহূর্তের মধ্যে তিনি নিজে নেমে পড়েন মাঠে। আর তাতেই বায়ার্ন কোচ জুলিয়ান নাগালসম্যানের আশঙ্কা সত্যি হয়ে যায়। গোল হজম পর্যন্ত পিএসজির টুটি যেন বায়ার্ন চেপে ধরেছিল। আক্রমণ যে জমিয়েই তুলতে পারছিল না। তবে ৫৭ মিনিটে কার্লোস শলের পরিবর্তে কিলিয়ান এমবাপ্পে মাঠে নামতেই বদলে যায় ম্যাচের দৃশ্য। ঝিমিয়ে পড়া পিএসজি হুট করেই যেন জেগে উঠে।

এমবাপ্পে মাঠে নামতেই আক্রমণ বাড়ে পিএসজির। শুরুতেই পেয়ে গিয়েছিলেন গোল। তবে সেটা বাতিল হয় অফসাইডের কারণে। ৮৩ মিনিটে আবারও আক্রমণে যায় পিএসজি। দানিলো পেরেইরা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বল। আর সেটাই জালে জড়িয়ে দলকে সমতায় ফেরান এমবাপ্পে। উল্লাসে ফেটে পড়েন বলকে সঙ্গে নিয়ে, ঝিমিয়ে পড়া দর্শকদেরও ইশারায় চাঙ্গা হয়ে উঠতে বলেন।

কিন্তু কয়েক মুহূর্ত পরই ভিএআর চেক করে দেখা যায় এটি ছিল অফসাইড। ফলে বাতিল হয় এই গোলটিও। শেষ পর্যন্ত দুই দল আর কোনো গোলের দেখা না পাওয়ায় ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বায়ার্ন। দলের একমাত্র গোলটি করেছেন ফরসী তারকা কোম্যান।

প্যারিসের কোম্যানের গোলে বায়ার্নে হার পিএসজির

বায়ার্ন ফুটবলার কিংসলে কোম্যানের জন্ম প্যারিসে। কাতার বিশ্বকাপেও তিনি ছিলেন ফ্রান্সের অন্যতম ভরসা। একসময় তিনি নিজেও খেলতেন ঘরের ক্লাবটির হয়ে। ২০১৩ সালে সিনিয়র লেভেল শুরু করা এই ফরাসি ফুটবলার পরের বছর অবধি সেখানেই ছিলেন। পরে পাড়ি জমান জুভেন্তাসে। সেখান থেকে ৫ বছর ধারে খেলতে এসেছিলেন বায়ার্ন মিউনিখে। তারপর ক্লাবটিতেই স্থায়ী হয়ে যান।

তিন বছর আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে এই পিএসজিকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বায়ার্ন মিউনিখ। সেই ফাইনালের একমাত্র গোলটি করেছিলেন কোম্যান। সেই ট্রফি জয়ের আনন্দ শেষে এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রাউন্ড ১৬ তেও তার গোলেই পিএসজিকে হারিয়েছে বায়ার্ন।