বাগেরহাটে চন্দ্রমহল ইকোপার্ক থেকে ৪৩ বন্যপ্রাণী, চামড়া ও কঙ্কাল উদ্ধার

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৪ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ এবং র‌্যাব-৬ যৌথ অভিযানে বাগেরহাটের চন্দ্রমহল ইকোপার্ক থেকে ১৬ প্রজাতির ৪৩টি বন্যপ্রাণী, চামড়া ও কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার রনজিতপুর এলাকায় অবস্থিত ইকোপার্কটি থেকে এসব বন্যপ্রাণী এবং বন্যপ্রাণির চামড়া ও কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। আইনবহির্ভূতভাবে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের অপরাধে ইকোপার্কের ব্যবস্থাপক মোহাম্মাদ আলী চাকলাদারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এসময় র‌্যাব-৬ কর্মকর্তা পুলিশ সুপার আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম, বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারি কমিশনার নূরই আলম সিদ্দিকি, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ খুলনার প্রধান কর্মকর্তা তন্ময় আচার্য্য, পরিদর্শক রাজু আহমেদ ও র‌্যাব সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জব্দকৃত বন্যপ্রাণির মধ্যে একটি কুমির, ২টি চিত্রাহরিণ, ১টি হনুমান, ৫ টি বানর, ১টি ময়ুর, ২টি উঠপাখি, ৫টি অস্ট্রেলিয়ান ঘুঘু, ২টি কচ্ছপ, ৭টি বক, ২টি মাছমুতাল পাখি রয়েছে। এছাড়াও ৬টি হরিণের শিং, ৬টি চামড়া, একটি ভাল্লুকের চামড়া, একটি ক্যাঙারুর চামড়া ও একটি তিমির কঙ্কাল জব্দ করেছে র‌্যাব-৬ এর সদস্যরা। জব্দকৃত এসব প্রাণী বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তীতে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, চন্দ্রমহল ইকোপার্কের মালিক অবৈধভাবে ব্যবসার উদ্দেশ্যে এসব প্রাণী লালন পালন করে আসছিলেন। যা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের পরিপন্থী।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সহকারি কমিশনার নূরই আলম সিদ্দিকি বলেন, অবৈধভাবে বন্যপ্রাণী রাখার অপরাধে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন-২০১২ এর ৩৭(২), ৪০, ৩৪ (খ) এবং ২৪ ধারা মোতাবেক চন্দ্রমহল ইকোপার্কের ব্যবস্থাপক মোহাম্মাদ আলী চাকলাদারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ব্যবস্থাপক মোহাম্মাদ আলী চাকলাদার জরিমানার টাকা নগদে পরিশোধ করায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

বন্যপ্রাণী ও জীব বৈচিত্র সংরক্ষণ কর্মকর্তা তন্ময় আচার্য্য বলেন, কেউ কোন বন্যপ্রাণী অবৈধভাবে তার সংরক্ষণে রাখলে তার বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করি। এর অংশ হিসেবে চন্দ্রমহল ইকোপার্কে র‌্যাবের সহায়তায় অভিযান চালানো হয়।

১০ বছর আগে বাগেরহাট সদর উপজেলার রনজিতপুর এলাকায় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সেলিম হুদা চন্দমহল ইকোপার্কটি তৈরি করেন। এখানে নির্ধারিত ফি দিয়ে দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারেন। দর্শনার্থীদের আকর্ষণ রাখতে এই ব্যবসায়ী এখানে বিভিন্ন বন্য প্রাণি খাঁচায় আটকে লালন-পালন করেন।