নিজস্ব প্রতিবেদক : ৮বছর আগে সামাজিক রীতি অনুযায়ী মুসলিম আইনে দুই লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন পারভীন আক্তার (২৬) ও রিয়াজ উদ্দিন (৩২)। বিয়ের সময় উভয় পরিবারের সম্মতিতে আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে নববধুকে ঘরে তুলেন বর রিয়াদ। তারপর সুখের সংসার অতিবাহিত হতে শুরু করে দুইজন। কিন্তু সেই সুখের সংসার আটবছর পর এসে থমকে দাঁড়ায়। এর কারণ হিসেবে প্রশ্ন উঠে, আটবছর সংসার জীবন অতিবাহিত হলেও বর রিয়াজ উদ্দিন বাবা আর গৃহবধু পারভীন আক্তার মা হতে পারেনি। বর রিয়াজ উদ্দিন চকরিয়া পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের নিজপানখালী গ্রামের মৃত এজাহার হোসেনের ছেলে। অন্যদিকে পারভীন আক্তার উপজেলার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ভাঙ্গাপাড়ার মৃত সফর মুলুকের মেয়ে।
স্থানীয় লোকজনের দাবি, সন্তান না হওয়ায় বর রিয়াজ উদ্দিন আর স্ত্রী পারভীনের মধ্যে একধরণের শুন্যতা তৈরী হয়। সেই থেকে শুরু হয় পারিবারিক কলহ। বিষয়টি দফায় দফায় গড়ায় শালিস বিচারে। এ নিয়ে দুই পরিবারের লোকজন বেশ কয়েকবার বৈঠক করেও সমাধানে আসতে পারেনি। সর্বশেষ ২০২২ সালের ১৮ ফেব্র“য়ারী বর ও কণেপক্ষের লোকজনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সৃষ্ঠ ঘটনা সমাধানে শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া পৌরসভার নারী কাউন্সিলর আঞ্জুমান আরা বেগম, চিরিঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য সিআইপি জাফর আলম, ফাসিয়াখালী ইউপির ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মহিউদ্দিন ছাড়াও দুইপক্ষের বিচারক এবং স্বজনরা।
জানা গেছে, সালিশী বৈঠকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ ও আবার স্ত্রীর চালচলনে স্বামীর সন্দেহসহ বেশ কটি ঘটনার উদ্ভট ঘটে। পরে দুইপক্ষের লোকজন বিষয়টি ডির্ভোসের মাধ্যমে সমাধানের মতামত দিলে বিচারকরা তা করে দেন। বিচারের রায়ে দেনমোহরের বকেয়া থাকা দেড় লাখ ও খরপোষ বাবত ১০ হাজার পাঁচশত টাকাসহ মোট ১ লাখ ৬০ হাজার পাঁচশত টাকা স্বামী রিয়াজ উদ্দিনের কাছ থেকে গ্রহণ করেন স্ত্রী পারভীন। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া পৌরসভার নারী কাউন্সিলর আঞ্জুমান আরা বেগম। তিনি বলেন, বিচারে দুইপক্ষ সন্তেুাষ্ট হয়ে বিবাহ বিচ্ছেদ করেছে। মেয়ের পরিবার বিচারের রায় মতে সকল পাওনা গ্রহন করে বিষয়টি সমাধান করে নিয়েছে। বিচারের রায়ে বলা হয়েছে, দুইপক্ষ বিয়ের বিষয় নিয়ে ভবিষ্যতে কোনধরণের সংঘাতে জড়াবেনা, মামলা-মোকাদ্দমায় যাবেনা। তাঁরা নতুন করে অন্যত্র বিয়ে করে সংসার করবে।
এদিকে রিয়াজ উদ্দিনের মা হামিদা বেগম অভিযোগ করেছেন, দুইপক্ষের লোকজনের সম্মতিতে সকল পাওনা মিটিয়ে আমার ছেলে ও তাঁর স্ত্রীর মধ্যে একমাস আগে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে। কিন্তু একমাস পরে এসে দেনমোহরসহ বিচারের রায়ের ওই টাকা পাইনি দাবি করে সর্বশেষ রোববার (১৩ মার্চ) সকালে ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ভাঙ্গাপাড়ায় আমার বাড়িতে হামলা করেছে ছেলের সাবেক স্ত্রী পারভীন ও তাঁর পক্ষের লোকজন। এসময় ২০-২৫ জনের অস্ত্রধারী লোকজন আমার বাড়িতে ঢুকে তাণ্ডব চালিয়ে বাড়ির উঠানের বিভিন্ন গাছ কেটে দিয়েছে। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে লুট করে নিয়েছে একটি পালিত গরু ও দুইটি ছাগল। হামিদা বেগম অভিযোগ করে জানান, তাঁর ছেলেকে এখন হত্যা করবে বলে হুমকি দিচ্ছে বহিরাগত লোকজন। তাদের হুমকিতে আমার ছেলেসহ পরিবার বর্তমানে আতঙ্কে ভুগছি। আমরা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তার পাশাপাশি আমাদের জীবন ভিক্ষার আবেদন জানাচ্ছি। আমাদের বাঁচান। ##
