এম.জিয়াবুল হক : কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার উপকুলীয় জনপদের ‘বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির মালিকানাধীন জমি বেচাকেনায় মৌজা মুল্য লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটের আলোকে বাজার মুল্য হারে জমি বিক্রি না হওয়ায় প্রতিবছর জমি মালিকপক্ষের অংশিদার লোকজনের পাশাপাশি সমিতি বিপুল টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ অবস্থায় সমিতির বেশিরভাগ সভ্য-পোষ্যরা বর্তমান বাজার দরের আলোকে সমিতির ভু-সম্পদ সমিতির অভ্যন্তরে মৌজা মুল্যে নির্ধারণ করার দাবী জানিয়েছেন।
সমিতির সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, সমবায় আইনের আলোকে সমিতিভুক্ত জমি সমিতি বহির্ভুত কোন ব্যক্তির অনুকূলে সরাসরি হস্তান্তর-বিক্রি করা যায়না। কিন্তু সমিতির সভ্য-পোষ্যরা সমিতির মালিকানা অক্ষুন্ন রেখে ভোগদখলী জমি পরস্পরের মধ্যে ভোগদখল হস্তান্তর করে আসছে দীর্ঘবছর যাবত। এ অবস্থার ফলে উপজেলা সাব-রেজিস্টার কার্যালয়ে সমিতির জমি বেচাকেনা সংক্রান্ত কোন তথ্য থাকছেনা।
সমিতির সভ্যরা জানিয়েছেন, বেশ ক’বছর আগে চকরিয়া উপজেলা সাব-রেজিস্টার কার্যালয় বদরখালী ঘোনা মৌজার একটি মনগড়া মূল্য নির্ধারণ করে এসংক্রান্তে তালিকা লিপিবদ্ধ করেছে। কিন্তু উল্লেখিত তালিকা সমিতির অভ্যন্তরে পরস্পরের মধ্যে ভোগদখল হস্তান্তর মূল্যের তুলনায় প্রায় ১৬-১৭ গুণের কম।
সমিতির জমি বেচাকেনা বা হন্তান্তরের ক্ষেত্রে মৌজা মুল্যের এধরণের অসঙ্গতি সমিতির ৫০ হাজার সভ্য- পোষ্যকে ক্রমে বিক্ষুদ্ধ করে তুলছে। অথচ বিগত ২০১৬-২০১৭ সালে সমিতির সভ্য-পোষ্যদের মধ্যে হস্তান্তর সংক্রান্ত তথ্যে দেখা যায়, প্রতি ৪০ শতক জমির মূল্য সর্বনি¤œ ১ কোটি ২০ লক্ষ ও সর্বোচ্চ ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকারও বেশি মূল্যে হস্তান্তর হয়েছে। পরবর্তী ২০১৮ ও ১৯ সালে আরও বেশী। অপরদিকে সমিতি বহির্ভুত ব্যক্তির অনুকূলে থাকা এসব জমি হস্তান্তর বা বিক্রির সুযোগ থাকলে প্রতি ৪০ শতক ২ কোটি টাকার উপর হতো বলে মন্তব্য সমিতির একাধিক প্রবীণ সভ্য।
বদরখালী সমিতির মালিকানাধীন জমির মৌজা মুল্য প্রসঙ্গে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি নিয়ে বলেছেন “বদরখালীর জমির মূল্য তো ঢাকার গুলশান-বনানীর সমমানের” অথচ উপজেলা সাব রেজিস্টার কার্যালয় বদরখালী মৌজার জমির হস্তান্তর সংক্রান্ত কোন প্রকার তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ না করে প্রতি শতকের মূল্য নির্ধারণ করেছেন মাত্র ৮ লক্ষ টাকারও কম। যা সমিতির আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সভ্য-পোষ্যদের অধিকার হরণের শামিল।
এদিকে সমিতির সভ্য-পোষ্যরা বিগত দুইবছর ধরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে মৌজা দর সমিতির অভ্যন্তরে প্রচলিত দরের ভিত্তিতে নির্ধালন করার আবেদন নিবেদন করে আসছে। সর্বশেষ সমিতির সম্পাদক বাদি হয়ে এ সংক্রান্ত একটি রিট মামলাও দায়ের করেছেন। গত ৮ জুলাই শুনানীতে আদালত আদেশ প্রাপ্তির একমাসের মধ্যে সমিতির আবেদন নিস্পত্তি করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন। গতবছরের ১২ ডিসেম্বের জেলা প্রশাসকের দপ্তর হাইকোর্টের আদেশ পেলেও এখনো বিষয়টির আলোকে কোন সুরাহ হয়নি বলে দাবি করেছেন সমিতির সদস্যরা।##
