বড় ভাইকে পিটিয়ে ঘরবাড়ি কেড়ে নেয়ার অভিযোগ ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৩ years ago

অনলাইন ডেস্ক :

টেকনাফের হ্নীলায় বসতবাড়ি এবং জমি-জমা জোরপুর্বক দখলে নিয়ে বড় ভাই আবু সোলেমান ওরফে ভুলুর পরিবারকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাই আলমগীরের বিরুদ্ধে।

বর্তমানে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে একটি ভাড়া বাসায় আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন আবু সোলেমান ও তার স্ত্রী। তিনি টেকনাফ হ্নীলার ফুলের ডেইল এলাকার হাজী জাফর আমহদের ছেলে।

আবু সোলেমান অভিযোগ করে বলেন, ‘১৯৮৩ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত আমি সৌদি আরবে ছিলাম। এসময় আমার ভাই আলমগীরসহ অন্যান্য ভাইদের সবসময় সহযোগিতা করতাম। এমনকি আলমগীরকে সৌদি আরবে নিয়ে কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করে দিয়েছিলাম। পরে আমি দেশে এসে ঘরবাড়ি করলে আমার সম্পত্তির উপর কুনজর পড়ে আলমগীরের। সেও দেশে ফিরে আসে। এবং পরে মাদক ব্যবসায় লিপ্ত হয়ে পড়ে। তার বিরুদ্ধে মাদকের ৪টি মামলাও রয়েছে। এবং মাদক নিয়ে ঢাকায় পুলিশের কাছে চার বার গ্রেপ্তার হয়। জেল থেকে বের হয়ে আমি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছি বলে আমাকে এবং আমার পরিবারকে অত্যাচার, নির্যাতন ও নিপীড়ন করতে থাকে। এমনকি তার সাঙ্গপাঙ্গ এলাকার কিছু সন্ত্রাসীদের যোগসাজশে আমার ছেলে মুহাম্মদ হোসেন মক্কীকে সড়ক দুর্ঘটনার নাটক সাজিয়ে মেরে ফেলে। এসব কর্মকাণ্ড করেও থেমে থাকেনি আলমগীর, পরপর দুইদিন আমাকে, আমার স্ত্রী ও পুত্রবধূকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখে। পরে ৯৯৯-এ কল দিয়ে বন্দি থেকে মুক্তি পায় আমরা।’
আবু সোলেমান বলেন, ‘স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে বিচার দিয়েও কোনো সুরহা না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। এরই মাঝে আমাদের বসতঘর থেকে বের করে দিয়ে ঘর ও জায়গা সম্পত্তি দখল করে নেয় আলমগীর।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে আমি নিঃস্ব হয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছি। সংসার চলাতেও আমি হিমশিম খাচ্ছি। এবং আলমগীরের হিংস্রতায় প্রাণের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। সে রাতদিন আমাদের মোবাইলে অডিও পাঠিয়ে বিশ্রি গালি-গালাজ ও প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। আলমগীরের অত্যাচার থেকে বাঁচার জন্য প্রশাসনসহ ও প্রধামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও সুদৃষ্টি কামরা করছি।’

আবু সোলেমানের স্ত্রী কুলসুমা খাতুন বলেন, ‘আলমগীর একজন দলখবাজ ও জাল নোট কারবারি। সে আমার দেবর মো. শাহজাহানের জমিও জোরপূর্বক দখল করেছে। যখন আমাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো ছিল তখন সে ছোট ভাই শাহজাহানকে অস্ত্র ও জাল নোট দিয়ে পুলিশকে ধরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু আমরা এতে সম্মতি না দেয়ায় আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। তার কাছে আমরা বড় অসহায়। এখন আমরা খুব কঠিন সময় পার করছি। এরই মাঝে মোবাইলে কল ও রেকর্ড পাঠিয়ে প্রতিনিয়ত অশ্লীল গালি-গালাজ ও মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। তার হাত থেকে আমরা বাঁচতে চাই। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

এসব বিষয়ে গেল ২৪ জুলাই টেকনাফ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন আবু সোলেমান।

টেকনাফ থানা পুলিশের উপপরিদর্শক কামাল বলেন, ‘ভুক্তভোগী আবু সোলেমান অভিযোগ দিলে আমরা ঘটনাস্থলে যাই গিয়ে জানতে পারি আলমগীর খুবই খারাপ প্রকৃতির লোক। তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ কারো কথা শুনেন না, কাউকে তোয়াক্কা করেন না। তার ব্যাপারে অপকর্মের যথেষ্ট অভিযোগ পাই আমরা। এ বিষয়টি যেহেতু জমি-জমা সংক্রান্ত তাই টেকনাফ থানা পুলিশ থেকে ভুক্তভোগীকে আদালতে গিয়ে দেওয়ানি মামলা করার পরামর্শ দেয়া হয়।’

এ ব্যাপারে আলমগীরকে কল দিলে তার স্ত্রী সেলিনা আক্তার ফোন রিসিভ করেন এবং সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে আলমগীর বাড়িতে নেই বলে ফোন কেটে দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আলমগীরের বিরুদ্ধে ঢাকার মতিঝিল, পল্টন ও রমনা থানাসহ কয়েকটি থানায় হত্যা ও ইয়াবা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।