ফাসিয়াখালীতে বাগানের ৬৫টি রকমারি গাছ কেটে লুটের অভিযোগ

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago

এম.জিয়াবুল হক.চকরিয়া : লামা উপজেলার ফাসিয়াখালীতে জায়গা জবরদখলে বাগানে ঢুকে রকমারি ৬৫টি ছোট-বড় গাছ কেটে লুটে নিয়ে গেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। আড়াইমাস আগে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাগান মালিক থানা পুলিশের দ্বারস্থ হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে লুন্ডিত এসব গাছ উদ্ধার করে। পরে এসব গাছ পুলিশের হেফাজতে নিলামে বিক্রি করা হলেও অদ্যবদি গাছ বিক্রির টাকা ফেরত পায়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন বাগান মালিক আবদুল আলীম।
অভিযোগে ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের মৃত আকবর আলী খাঁনের ছেলে ভুক্তভোগী আবদুল আলীম জানান, ২৮৬ নম্বর ফাসিয়াখালী মৌজায় তাঁর ৫ একর জায়গা আছে। উল্লেখিত জায়গার কিছু অংশে বসতঘর ও বিশাল অংশে তিনি রকমারি গাছের চারা রোপন করে বাগান সৃজন করেছেন। ২০০৭ সালে উল্লেখিত জায়গা দখলে নিতে স্থানীয় নাজির হোসেন গং নানাভাবে অপচেষ্ঠা করেন। এরই জেরে তিনি (বাগান মালিক) বাদি হয়ে বান্দরবান যুগ্ম জেলা জজ আদালতে একটি মামলা (অপর ১২৭/৭০৭) দায়ের করেন।
দীর্ঘ আটবছর মামলার শুনানী শেষে আদালত ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রæয়ারী রায় ঘোষনা করেন। তাতে আদালত উল্লেখিত জায়গার মালিক আবদুল আলীমের পক্ষে ডিগ্রি দেন। আদালতের ডিগ্রিমুলে লামা উপজেলা প্রশাসন তাকে জায়গার দখল বুঝিয়ে দেন। সেই থেকে তিনি ওই জায়গা শান্তিপুর্ণভাবে ভোগদখলে রয়েছেন।
ভুক্তভোগী বাগান মালিক আবদুল আলীম অভিযোগ তুলেছেন, ৫ একর জায়গা তাঁর দখলে থাকলেও ২০১৭ সালের প্রথমদিকে ফের তাঁর এক একর জায়গা দখল নিতে নতুন করে চক্রান্ত শুরু করে একই ইউনিয়নের অংসাঝিরি এলাকার মৃত মীর হামজার ছেলে ইসহাক আহমদ। এমনকি জায়গা দখলে বাঁধা দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওইসময় ইসহাক ও তাঁর ছেলে তাওহীদুল ইসলাম ভাড়াটে লোকজন নিয়ে হামলা করে আমার পরিবারের উপর। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমিসহ পরিবারের বেশ কজন সদস্য আহত হয়।
এ ঘটনায় আমি ২০১৭ সালের ৮ মে লামা উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ৫জনের বিরুদ্ধে মামলা করি। আদালতের নির্দেশে লামা থানা পুলিশ ওইবছরের ৩০ মে আমার নালিশী অভিযোগটি মামলা (নং ১৪) হিসেবে নথিভুক্ত করেন। পুলিশ মামলার আসামি ইসহাক ও তাঁর ছেলে তাওহীদুল ইসলামকে গ্রেফতার করে হাজতে প্রেরণ করেন।
ভুক্তভোগী বাগান মালিক আবদুল আলীম দাবি করেছেন, মামলায় জামিনে এসে আসামি বাবা ও ছেলে আমাকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলো। এমনকি তাঁরা আমার বাগানের গাছ কেটে লুটে নেয়ার হুমকিও দেয়। এ ঘটনায় তাদের জামিন বাতিল চেয়ে আমি পুনরায় আদালতে আবেদন করি। তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত ইসহাক ও তাঁর ছেলে তাওহীদুল ইসলাম সহযোগি অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্ত জড়ো করে ২০১৮ সালের ২৪ নভেম্বর প্রকাশ্যে বাগানে ঢুকে কেটে নিয়ে গেছে অন্তত ৬৫টি ছোট-বড় গাছ।
ভুক্তভোগী আবদুল আলীম বলেন, গাছ কেটে লুটের ঘটনায় আমি লামা থানায় আবারও লিখিত দায়ের করি। ওসির নির্দেশে থানার এসআই জয়নাল আবেদিন অভিযান চালিয়ে আসামিদের হেফাজত থেকে লুন্ডিত এসব গাছ উদ্ধার করে। পরে এসব গাছ নিলামে বিক্রি করা হলেও বিগত আড়াই মাসে আমি গাছ বিক্রির টাকা ফেরত পায়নি।