ফাইতংয়ে জায়গা দখলে নিতে প্রভাবশালী চক্রের মিশন ; বাগানের গাছ লুটের হুমকি

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৬ years ago

নিজস্ব প্রতিবেদক : লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের ফাদুরছড়া গ্রামের নুরুল ইসলাম ও তার ছেলে মোহাম্মদ ফারুকের ক্রয় ও বন্দোবস্তী প্রাপ্ত পাঁচ একর ৩০ শতক জমি জবর দখল করে ১০ লাখ টাকা মূল্যের বাগানের গাছ কেটে ফেলার হুমকি দিয়েছে আবদুল করিম বান্ডুর লাঠিয়াল বাহিনী। অতর্কিত এই ধরণের হুমকির ঘটনায় অসহায় ওই পরিবারটি তাদের অব্যাহত হুমকির কারণে এক বছর ধরে নিজবাড়িতেও যেতে পারচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেছেন জমি মালিক মো. ফারুক।
জমি মালিক ফারুক আরো জানান, তাদের নামে বন্দোবস্তী ও ক্রয়কৃত জমিতে দীর্ঘ কয়েক যুগ আগে ঘর বাড়ি তৈরী করে অবশিষ্ট জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির বনজ ও ফলজ গাছের চারা রোপন করে তারা জীবন জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। ওই জমির উপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে পাশ্ববর্তী ভূমিদস্যু ও লাঠিয়াল বাহিনী আবদুল করিম বান্ডু গংয়ের। ওই প্রতারক চক্রটি ভূমি মালিকের জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মসনদ,বিভিন্ন ভূয়াঁ কাগজপত্র সৃজন ও চৌহর্দ্দি লঙ্গন করে এ জমি জবর দখল করতে গিয়ে প্রকৃত জমির মালিকদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে পরিবারটিকে নি:শ্ব করে তুলেছে।
মোহাম্মদ ফারুক তার পরিবারের উপর লাঠিয়াল বাহিনীর তান্ডব তুলে ধরে বলেন, ৩০৬নং ফাইতং মৌজার আর হোল্ডিং ৩৪৫ মূলে ১৯৮০-৮১ সালে ৩ একর জমি তার পিতা নুরুল ইসলামের নামে সরকার থেকে বন্দোবস্তী প্রাপ্ত হন। আর ৩২৪ হোল্ডিংয়ের মালিক এনামুল হক পিতা মো. ইসমাইল থেকে ৮০ শতক জমি ক্রয় করেন তার পিতা নুরুল ইসলাম। একই মৌজার জি হোল্ডিং ২৬ এর মালিক ছাথোয়াই প্রæু পিতা ক্যজু মার্মা থেকে মোহাম্মদ ফারুক ১ একর ৫০ শতক জমি ক্রয় করেন। পিতা-পুত্র উভয়ের মোট ৫ একর ৩০ শতক জমির মালিক।
অভিযোগ উঠেছে, ফাইতং মৌজার হোল্ডিং নং জি/৩৫৫, ১৯৮৬-৮৭ মূলে ৫ একর জমির মালিক হন আসাব উদ্দিন পিতা- মোহাম্মদ মিয়া। ওই জমি থেকে আসাব উদ্দিন বায়নানামা রেজিষ্ট্রি দলিল নং ৪৫৬/২০১৩ তারিখ ৩০/০৫/২০১৩ মূলে ৪ একর ৫০ শতক জমি বিক্রয় করে দেন ফরিদুল আলম পিতা- মৃত ঠান্ডা মিয়াকে। ওই জমিতে ফরিদ দখলে রয়েছে। এখানে আসাব উদ্দিনের অবিক্রিত জমি রয়েছে মাত্র ৫০ শতক। একই জমির মালিকের পরিচয়পত্র ও জন্মতারিখ জাল করে সাবেক ফাইতং ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সত্যায়িত দেখিয়ে ওই জমি ক্রয় করেন ছফুরা খাতুন। যার দলিল নং ৮২৫/২০১৩ইং তারিখ ০৪-০৯-২০১৩। এক হোল্ডিংয়ের জমি একই ব্যক্তি কি ভাবে ২জনকে বিক্রয় করল তা নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
এছাড়া আশরাফ আলীর পিতা আবদুল খালেক ১৯৮৪-৮৫ সালের বন্দোবস্তী মোকাদ্দমা নাম্বার ১৪৪ মূলে আর/২৪০৩ নং হোল্ডিংয়ের ৫ একর জমির মালিক। এ জমির দলিল ৪০৫/২০০৪ তাং ১৬-০৪-২০০৪ মূলে রুহুল আমিন পিতা- মৃত মৌলভী আবদুল ওয়াদুদকে বায়নানামা রেজিষ্ট্রি মূলে বিক্রয় করে দেন। আশরাফ আলী মারা যাওয়ার পর ছফুরা খাতুন পিতা- আলী আহমদ আশরাফ আলীর স্ত্রী,পুত্র ও কন্যা হতে আর ২৪০৩ নং হোল্ডিংয়ের ৪ একর ৫০ শতক জমি নোটারী পাবলিক দলিল নং ৩৭৯/০৫ তাং ১৮-০৫-১৬ মূলে একটি ভূঁয়া কবলা সৃজন করে।
অনুরূপভাবে এ কে এম মমতাজুল হক পিতা- মোজাহেরুল হকের নামীয় আর ৩১৭৩ হোল্ডিংয়ের ৫ একর জমি হতে ৪ একর ৫০ শতক জমি বায়না রেজিষ্ট্রি দলিল নং ৪৫১/২০১৮ মুলে ছফুরা খাতুন খরিদ করে। ওই জমি থেকে দাগ নং ২৫০৮ এর ২০ শতক জমি সরকার কর্তৃক ভূমি অধিগ্রহণ করে। ছফুরা খাতুনের ক্রয়কৃত জমির সাথে আমাদের বন্দোবস্তী পাওয়া ও খরিদাকৃত জমির মধ্যে হোল্ডিং নং ও চৌহর্দ্দির কোন মিল নেই। এরপরও আবদুল করিম বান্ডু জসিম উদ্দিন, সিরাজুল ইসলাম প্রকাশ বার্মাইয়া সিরাজ, আলী হোসেন, নুরুল আমিনসহ একদল লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে আমাদের জমি গুলো জোরপূর্বক দখলে রেখে আমাদের সৃজনকৃত ১০ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ কেটে নেয়ার জন্য পাঁয়তারা শুরু করেছে। বর্তমানে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে।
জায়গা জবরদখলে হুমকির ঘটনায় ইতোমধ্যে ভুক্তভোঘী মোহাম্মদ ফারুক ওই জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে লামা ও বান্দরবান জেলা সদরে সংশ্লিষ্ট শাখায় এর প্রতিকার পাওয়ার জন্য বেশ কটি মামলা করেছে। যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। এরপরও ওই লাঠিয়াল বাহিনী তার জমি ও ঘরবাড়িতে তাকে প্রবেশ করতে না দেয়ায় এ অসহায় পরিবারটি গত ১৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগপত্র পাঠিয়েছেন। ##