‘ফল-সবজিতে ফরমালিন মিডিয়ার গুজব’

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

ফল কেন পঁচে না? শাক-সবজি কেন দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তাজা থাকে? দেশের অধিকাংশ মানুষ মনে করেন এর মূলে নিশ্চয়ই ফরমালিন আছে! আসলে মিডিয়াই সবার মধ্যে এ ভুল ধারণা সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন টেলিভিশন আর পত্রপত্রিকায় ফরমালিন নিয়ে করা অধিকাংশ প্রতিবেদনই সঠিক নয়। ভুল তথ্যে সংবাদ পরিবেশন করে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করছে এসব মিডিয়া। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজল হক এক আলাপচারিতায় পরিবর্তন ডটকমকে এ সব কথা বলেন।
মাহফুজুল হক বলেন, ফরমালিন নিয়ে আমরা ভুল তথ্যের উপর চলছি। বিভিন্ন টেলিভিশন ও পত্রিকায় যে রিপোর্টগুলো হচ্ছে বেশিরভাগই ভুল তথ্যের ভিত্তিতে হচ্ছে। মানুষের ধারণা আমসহ বিভিন্ন ফলমূল ও শাকসবজিতে ফরমালিন দিয়ে অনেকদিন ধরে সংরক্ষণ করা হয়। আসলে এটা একটা ভুল ধারণা। আমাদের সবেচেয়ে বড় ভুল ধারণা হচ্ছে- ফরমালিন কোন কোন খাদ্যপণ্যে কার্যকরি তা আমরা জানি না। শুধু মাছ ও মাংসে ফরমালিন ব্যবহার করা হতে পারে। কারণ এ দুটি খাদ্যপণ্যে প্রোটিন আছে।
তিনি বলেন, ফরলামিন শুধুমাত্র প্রোটিন জাতীয় খাবারে কাজ করে। যে খাদ্যপণ্যে প্রোটিন নেই সে পণ্যে ফরমালিন কোন কাজ করে না। ফলমূল আর শাকসবজিতে কোনো প্রোটিন নেই। সুতরাং এসব খাদ্যপণ্যে ফরমালিন ব্যবহারের কোন সুযোগ নেই। আর ব্যবহার করলেও কোন কাজে আসবে না। ক্ষতিও তেমন নেই। কারণ এসব খাদ্যপণ্যে ফরমালিন মেশালেও প্রোটিন না থাকায় তা বাতাসে উড়ে যাবে। এই কেমিক্যালটি সেখানেই থাকবে ও কাজ করবে যেখানে শুধুমাত্র প্রোটিন আছে।
মাহফুজুল হক বলেন, মিডিয়ায় বিভিন্ন লোকজন ও এমনকি ঢাকা মেডিকেল কলেজের ডাক্তাররা বলছেন- ফলমূলে নাকি ফরমালিন ব্যবহার হচ্ছে। এগুলো খেলে নাকি মানুষ মরে যাবে? আসলে তারা এগুলো না জেনে বলছেন। তিনি বলেন, এগুলোর কোন বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণ ও ব্যাখ্যা তারা দিতে পারবেন না। বিভিন্ন পত্রিকায় লিখছে ‘বিষে ভরা শাকসবজি, ফলমূল। তারপর আমরা তাদেরকে ডেকেছি। কীভাবে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে তারা এগুলো পেয়েছেন জানতে চেয়েছি। এসবের কোন সদোত্তর কোন পত্রপত্রিকা দিতে পারেনি। আমরা ডাক্তারদের সঙ্গেও কথা বলেছি। তারাও কোন গ্রহণযোগ্য উত্তর দিতে পারেননি।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বলেন, আসলে আমাদের খাদ্যপণ্যগুলোতে বড় ধরনের কোনো সমস্যা নেই। সামান্য কিছু সমস্যা আছে। কিন্তু মিডিয়ায় যেভাবে বলা হচ্ছে- সে রকম কোনো সমস্যা নেই। যারা এসব বলছেন তারা না জেনে সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। অনেকে আতঙ্কিত হয়ে ফলমূল আর শাকসবজি খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। অথচ প্রত্যেক মানুষকে সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন একটি করে ফল খাওয়া জরুরি। মিডিয়ায় ভুল তথ্য প্রচার করার কারণে অনেক শিক্ষিত মানুষও ফল না খেয়ে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। ফল না খেয়ে অধিকাংশ মানুষ এখন অপুষ্টিতে ভুগছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে ফলমূল ও শাকসবজি সতেজ রাখার জন্য নানা ধরনের আধুনিক টেকনোলজি রয়েছে। এগুলোতে আর্টিফিশিয়াল ওয়াক্স প্রোটিন ব্যবহার করা হয়। এটা মৌমাছির চাক থেকে সংগ্রহ করা হয়। এগুলো এডিবল বা খাওয়ার যোগ্য। তাই ফল নষ্ট না হওয়ার জন্য আর্টিফিশিয়াল ওয়াক্স প্রোটিন এখন বেশি ব্যবহার হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে ২ থেকে ৩ মাস পর্যন্ত ফল সতেজ রাখা যায়। এটা স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতি।