হুমায়ূন রশিদ : টেকনাফে নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পে স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত পল্লী চিকিৎসক হামিদকে পোস্ট মর্টেম শেষে স্থানীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এই হত্যাকান্ডের ব্যাপারে থানায় কোন অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি।
জানা যায়, ২৩ ফেব্রুয়ারী বিকালে উপজেলার হ্নীলা জাদিমোরাস্থ নয়াপাড়ায় অলি আহমদের ভাড়াবাসায় অবস্থানকারী পল্লী চিকিৎসক হামিদ হোছন (৪১) এর মৃতদেহ পোস্টমর্টেম শেষে বাড়িতে আনা হয়। বাদে মাগরিব লেদা গোরস্থানে নামাজে জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে। এই ব্যাপারে নয়াপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক আব্দুস সালাম পরিবারের পক্ষ থেকে এজাহার দায়েরের প্রস্তুতির কথা জানানো হলেও নিহতের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি কোন মামলা করবনা। নিরাপত্তাহীনতা ও প্রাণনাশের ভয়ে মামলায় যাচ্ছেন না, নাকি অন্য কিছু জানতে চাইলে কোন সদুত্তর দেয়নি। শুধু কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, যারা আমার ২ ছেলে, ২ মেয়েকে এতিম করেছে আর আমাকে বিধবা বানিয়েছে আমি তাদের বিচার কেবল আল্লাহর নিকট চাই। ভাই এছাড়া আমি আর কিছু বলতে পারবনা বলে কেঁদে মুঠোফোনের লাইন কেটে দেন।
স্থানীয় মানুষ ও সাধারণ রোহিঙ্গারা মনে করেন, পাহাড় কেন্দ্রিক স্বশস্ত্র রোহিঙ্গা গ্রæপ খুবই শক্তিশালী এবং বিপদজনক। এসব চক্রের বিরুদ্ধে ক্যাম্পের অনেকে মামলা করে হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছে। হয়তো সেই আতংকেই নিরাপত্তাহীনতায় নিহত পল্লী চিকিৎসকের স্ত্রী আইনের আশ্রয় নিচ্ছেনা বলে মনে করেন।
উল্লেখ্য,গত শুক্রবার রাতে নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পের একদল স্বশস্ত্র রোহিঙ্গা গ্রæপ শালবাগান এলাকায় ডিসপেনসারীতে কর্মরত অবস্থায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নয়াপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ হোছনের পুত্র ডাঃ হামিদ (৪১) কে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাহাড়ের পাদদেশে নিয়ে গুলি করে ফেলে দিয়ে চলে যায়। অপরদিকে একই সময়ে সি-ব্লকের মোঃ সালামের পুত্র হাসান আলী (৩২) প্রকাশ কমিটি হাসানকে দোকানে কর্মরত অবস্থায় দূবৃর্ত্তরা কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এতে হাসানের শরীরে ২টি বুলেট বিদ্ধ হয়। মূমুষাবস্থার্য় হাসানকে চমেকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে কুখ্যাত ডাকাত ও রোহিঙ্গা উগ্রপন্থী কমান্ডার নুরুল আলম র্যাবের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহতের পর তারই অনুসারীরা গোলাগুলি, খুন, গুম ও অপহরণ তৎপরতা শুরু করায় ক্যাম্পে আতংকিত ও ভীতিকর পরিবেশ বিরাজ করছে।
