টেকনাফ টুডে ডেস্ক : জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-১ (সাঁথিয়া-বেড়া আংশিক) আসনে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিব মোমেনকে প্রার্থী ঘোষণা না করায় সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াত অফিসে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে জামায়াতের বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা।
জানা গেছে, ওই আসনে বেড়া জামায়াতের আমীর ডা. আব্দুল বাসেত খানকে প্রার্থী ঘোষণা করায় দলের কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে দলীয় কার্যালয়টিতে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
পাবনা জেলা জামায়াতের সূত্রের খবরে জানা যায়, ইতিপূর্বে পাবনা জেলা জামায়াত ব্যারিস্টার মোমেনকে এ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করায় নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাকে বিজয়ী করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে নির্বাচনী এলাকায় প্রচার প্রচারণা চালিয়ে আসছিল। হঠাৎ করে গত ১২ নভেম্বর পাবনা জেলা জামায়াত ডা. আব্দুল বাসেতকে প্রার্থী ঘোষণা করার জেরে পরবর্তীতে ব্যারিস্টার মোমেনের সমর্থকরা দলীয় সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মোস্তফা কামাল মানিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলানিউজ পোস্টকে জানান, আমরা এর আগে ব্যারিস্টার নাজিব মোমেনকে প্রার্থী করার মতামত দিয়েছিলাম। সে ঘোষণাকে অবজ্ঞা করে উপজেলা জামায়াতের মতামতকে উপেক্ষা করে জেলা জামায়াত এককভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সিদ্ধান্তের সাথে আমরা একমত নই। উপযুক্ত প্রার্থী মোমেনকে মূল্যায়ন না করায় আমরা দলীয় কার্যালয়ে কেবল তালা দিয়েছি। জেলা জামায়াত সিদ্ধান্ত পাল্টিয়ে ব্যারিস্টার মোমেনকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা না করলে প্রয়োজনে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হবে কার্যালয়ে।
এ বিষয়ে পাবনা জেলা জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী ডা. আব্দুল বাসেত বলেন, কেন্দ্র থেকে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। জামায়াত অফিসে তালা মেরে লাভ কি? তারা জেলা এবং কেন্দ্রে যোগাযোগ করুক। এর আগেও কেবল ক্ষমতার বড়াই দেখিয়ে ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন তার কর্মীদের দিয়ে নানা জটিলতা তৈরি করেছেন। এখন এটা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, এ আসনে ২০ দলীয় জোটের স্বার্থে নিজামীর পরিবারের কোন সদস্যকে বিএনপি ছাড় দিতে প্রস্তুত। কিন্তু অন্য কাউকে নয়।
নন্দনপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আলী মর্তুজা বলেন, ব্যারিস্টার নাজিব মোমেনকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা না দেওয়ায় নিজামীর রক্তের সাথে কেন্দ্র জামায়াত বেইমানি করেছে। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন ছাড়া অন্য কাউকে প্রার্থী করলে এই আসনে ২০ দলীয় জোটের ভরাডুবি নিশ্চিত।
