নিজস্ব প্রতিনিধি : দখলে দখলে সংকোচিত ও অস্তিত্বহীন হওয়ার পথে টেকনাফের ঐতিহ্যবাহী কায়ুকখালী খাল।
অতিসম্প্রতি ফের প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় খালটির অলিয়াবাদ সাইট্যাংখিল অংশে দখলের মহোৎসব চলছে।
মো. তৈয়ুব প্রকাশ মনিয়া নামে এক ব্যক্তি খালের উপর মাটি ভরাট করে তাতে বাড়ি তৈরী করে বসবাস করে আসছিল। বর্তমানে নতুন করে খালের আরো বৃহৎ অংশ দখল করে তাতে পাকা বাড়ি নির্মাণ করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উক্ত মনিয়া সাইট্যাংখিল এলাকার মো. আয়ুবের ছেলে। স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় সে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর আরো অভিযোগ সাইট্যাংখিলের অপরাধ ও অবৈধ কারবারের নিয়ন্ত্রণ করে থাকে এই মনিয়া। কিন্তু প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকায় কেউই তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পায়না।
এব্যাপারে বক্তব্য জানতে মনিয়ার মুঠোফোনে যোগোযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য জানা যায়নি।
এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি)
আবুল মনসুরের সাথে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানান।
এদিকে এলাকাবাসী জানিয়েছেন ইতিমধ্যে সাইট্যাংখিলের উভয়পাশের খালটি নানা কৌশলে দখল করে নিয়েছেন স্থানীয়রা। নদী কমিশনের দখলদারদের তালিকায় নাম রয়েছে আবুইয়া নামে আরেকজনের নাম। এছাড়া তালিকার বাহিরে আরো অনেকে খাল দখল করেছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। শুধু তাই নই কায়ুকখালী খালের ইসলামাবাদ অংশেও দখলদাররা একরের পর একর খাল দখল ভরাট করে আয়ত্তে নিলেও ভুমি প্রশাসনের নজরদারী না থাকায় তারা চুপচাপ ভোগ করে যাচ্ছেন।
জানা যায়, শতবছর আগে কায়ুকখালটিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল টেকনাফ বাজারসহ আশেপাশের জনবসতি। একসময় এই খালে বানিজ্যিক নৌ চলাচলসহ বড় বড় ফিশিং ট্রলারের অবাধ যাতায়াত থাকলেও ভুমিখেকোদের থাবায় খালটি সংকোচিত হতে হতে যেন প্রাণ যায় যায় অবস্থা। আবার সংকোচিত হওয়ার কারণে প্রতি বর্ষায় বৃষ্টির পানি নেমে যেতে না পারায় প্লাবিত হয়ে অন্তত ৫ গ্রামের শত শত ঘরবাড়ি, ফসলের মাঠ।
