প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী মান্না দের প্রয়ান দিবস

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৫ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : ২০১৩ সালের ২৪ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী মান্না দে। তার জন্ম ১৯১৯ সালের ১ মে। জীবদ্দশাতেই কিংবদন্তি হয়ে ওঠা ভারতের এই শিল্পী প্রায় সাত দশকের সংগীত-জীবনে বাংলা ছাড়াও বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার গান গেয়েছেন। এর মধ্যে যেমন সিনেমার বিপুল সংখ্যক গান রয়েছে, তেমনি রয়েছে ধ্রুপদী সংগীত, আধুনিক গান, রবীন্দ্রসংগীত আর নজরুলগীতি। মান্না দে’র পুরো নাম প্রবোধ চন্দ্র দে। বাবা পূর্ণচন্দ্র দে আর মা মহামায়া দে। পড়াশোনা কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজ আর বিদ্যাসাগর কলেজে। গানের হাতেখড়ি কাকা ও স্বনামধন্য গায়ক কৃষ্ণচন্দ্র দে’র কাছে। কাকা কৃষ্ণচন্দ্র দে’র সঙ্গে গান গাওয়ার জন্য মান্না দে মুম্বাইতে পাড়ি দেন ১৯৪২ সালে। কিছুদিন পরই সেখানে সিনেমায় প্লেব্যাকের সুযোগ পান। শচীন দেব বর্মণ এবং অন্য সংগীত পরিচালকদের সুরে ১৯৪০, ৫০ ও ৬০-এর দশকে প্রচুর কালজয়ী সিনেমার গান উপহার দিয়েছেন তিনি। ১৯৫৩ সালে ‘কতদূরে আর নিয়ে যাবে বলো’ গানটি তার রেকর্ড করা প্রথম বাংলা গান। ১৯৬০-এর দশক থেকে বাংলা সিনেমায় প্লেব্যাকেও তিনি ছিলেন অন্যতম শীর্ষস্থানীয় কণ্ঠশিল্পী। মান্না দে’র গাওয়া ‘কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’, ‘এই কূলে আমি’, ‘সে আমার ছোটবোন’, ‘ললিতা, ওকে আজ চলে যেতে বল না’, ‘আমি যামিনী তুমি শশী হে’, ‘শাওন রাতে যদি’, ‘আমি যে জলসা ঘরে’সহ অগণিত বাংলা গান প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের মুখে মুখে ফিরেছে। চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য ‘দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার’সহ ভারতের সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘পদ্মশ্রী’ ও ‘পদ্মভূষণ’-এ ভূষিত হয়েছেন মান্না দে। ২০০৫ সালে বাংলা ভাষায় মান্না দে’র আত্মজীবনী ‘জীবনের জলসাঘরে’ প্রকাশিত হয় এবং পরে একই নামে একটি প্রামাণ্যচিত্র মুক্তি পায়।