পাকিস্তান-আফগানিস্তান বাণিজ্য বৃদ্ধির তৎপরতা

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৫ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির মাধ্যমে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক অখণ্ডতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে যাবে এবং প্রতিবেশি দেশগুলোর মধ্যে কানেকটিভিটি বা সংযুক্তি বৃদ্ধি করবে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বাণিজ্য বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা আবদুল রাজাক দাউদ। অভিন্ন সমৃদ্ধি ও শান্তি অর্জনের এজেন্ডার অধীনে সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক আলোচনায় পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান প্রধানত জোর দিয়েছে ট্রানজিট, দ্বিপক্ষীয় ও অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্য ইস্যুতে। তিন দিনব্যাপী আফগানিস্তান পাকিস্তান ট্রানজিট ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এপিটিটিএ)-এর অষ্টম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমনটি জানিয়েছেন তিনি। এ খবর দিয়েছেন এক্সপ্রেস ট্রিবিউন। আবদুল রাজাক দাউদ এতে বলেন, বাণিজ্য বোঝাপড়ায় দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে মূল এজেন্ডাগুলোর মধ্যে রয়েছে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধি, গোয়েদার বন্দরে আঞ্চলিক বাণিজ্যের জন্য সংযুক্তি, এপিটিটিএি’র চূড়ান্তকরণে পর্যালোচনা এবং বিশেষ বাণিজ্যিক চুক্তি (পিটিএ)। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে আফগানিস্তানের সঙ্গে ট্রানজিট বাণিজ্য মসৃণ করতে এসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

দাউদ আরো জানান, আমরা ইতিমধ্যে আফগানিস্তানকে ট্রানজিট বাণিজ্যের জন্য গোয়েদার ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছি। ভবিষ্যতে মধ্য এশিয়ার অন্য দেশগুলো গোয়েদার বন্দরের সঙ্গে অদূর ভবিষ্যতে তাদের ট্রানজিট যুক্ত করার দাবি করছে।
পাকিস্তান মূলত তার প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর জন্য একটি ভালো উদ্যোগ হিসাবে গোয়েদার এবং বিন কাসিম বন্দর ব্যবহার করতে আফগানিস্তানকে অনুমতি দিয়েছে। এছাড়া আগামী জানুয়ারির শেষ নাগাদ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে পিটিএ চূড়ান্ত করা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন দাউদ। দু’দেশের মধ্যে তিন দিনের এ আলোচনায় উভয় পক্ষই পারস্পরিক সীমান্ত ব্যবহার করে ভারতের সঙ্গে পন্য বাণিজ্য বিষয়েও আলোচনা করবে।

দাউদ আরো জানান, করোনা সংক্রমণ এবং আরো কিছু আভ্যন্তরীণ ইস্যুর ফলে পাকিস্তান-আফগানিস্তান বাণিজ্য বন্ধ ছিলো। কিন্তু এখন সব কিছু স্বভাবিক হতে শুরু করায় দ্বিপক্ষীয় এবং ট্রানজিট বাণিজ্য পুনরায় আগের অবস্থানে ফিরতে পারবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। দু’দেশই এ সময় তাদের অর্থনৈতিক ক্ষতগুলো শক্তিশালী করার জন্য দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সুযোগগুলো কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা করে। আফগান প্রধানমন্ত্রী আশরাফ গনি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন বলেও জানান আব্দুল রাজাক দাউদ। পূর্বের সাত দফা আলোচনায় উভয় দেশই আঞ্চলিক স্বার্থে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি লক্ষ্য অর্জনের বিষয়ের একমত হয়েছিলেন। আর এখন চলমান আলোচনার মধ্য দিয়ে উভয় পক্ষই অন্যান্য অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্য ইস্যুগুলোর সঙ্গে ট্রানজিট এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের সকল সমস্যার সমাধানে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। চলমান কোভিড-১৯ মহামারির কারণে দু’দেশেরই বাণিজ্য প্রভাবিত হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে শিগগিরই এই পরিস্থিতি থেকে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।