ওসমান হোসাইন বাপ্পি :
ককসবাজার জেলার অন্তর্গত দেশের দক্ষিন-পূর্ব সীমান্ত জনপদ টেকনাফ উপজেলা। অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি । ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান । প্রতিনিয়ত পর্যটকদদের হাতছানি নিয়ে ডাকে। দক্ষিন-পশ্চিমে বঙ্গোপ সাগর, পূর্বে নাফ নদী ও মায়ানমার ও উত্তরে সুউচ্চ পাহাড়। সম্পদে ঐতিহ্যে টেকনাফ দেশের অন্যান্য উপজেলা হইতে স্বতন্ত্রের দাবিদার। প্রতি বছর শীত মৌসমে ককসবাজার কিংবা সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের ঢল থাকে। তবে এমন অনেক আছেন, যারা ককসবাজার গিয়েও টেকনাফ না বেড়িয়েই চলে আসেন। অথচ টেকনাফ গেলে দেখতে পাওয়া যাবে বাংলাদেশ-মায়ানমারে গাঁ গেছে বয়ে চলা বঙ্গোপসাগর থেকে উৎপন্ন নাফ নদী। যার মধুর কলতান পর্যটকদের বিভোর করবে। টেকনাফে আরও দেখতে পাওয়া যাবে ঐতিহাসিক মাথিনের কূপ, জলিলের দিয়া, নেটং পাহাড়, শাহ পরীর দ্বীপের ঐতিহাসিক ঘোলার চড়, সাবরাং এক্সক্লুসিব ট্যুরিজম পার্ক, সূর্য উদয় ও সূর্য অস্ত যাওয়ার মনোরম দৃশ্য, সৈকতের সাদা বালির চিকচিকে দৃশ্য, জেলেদের মাছধরার দৃশ্য। পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের শেষ সীমানা হচ্ছে টেকনাফ। ককসবাজার সমুদ্রতীর কলাতলী থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের তীঁরঘেঁষে ৮০ কিঃমিঃ নির্মিতব্য মেরিন ড্রাইভ সড়কটির নির্মান সম্পন্ন হলে এবার টেকনাফ সৈকতে হাজার হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।সৈকতে রাতের দৃশ্য দেখার জন্য সৈকতের পাশে বিভিন্ন হোটেলে থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে।টেকনাফ সৈকতে গেলে দেখতে পাওয়া যাবে লাল কাঁকড়া,শামুক,ঝিনুক ও জেলেদের মাছ ধরার অপরুপ দৃশ্য।টেকনাফ মডেল থানায় গেলে দেখতে পাওয়া যাবে পুলিশ কোয়ার্টার প্রাঙ্গনে অবস্থিত ঐতিহাসিক মাথিনের কূপ।কলকাতার পুলিশ কর্মকর্তা ধীরাজ ভট্টাচার্জের সঙ্গে টেকনাফের জমিদার ওয়ানথিনের একমাত্র কণ্যা মাথিনের নিবিড় প্রেমের সাক্ষী এই কূপ। শহর থেকে দুই কিলোমিটার দূরে নেটং পাহাড়ে গেলে দেখতে পাওয়া যাবে সবুজ শ্যামল হরেক রকম গাছের সারির অপরুপ দৃশ্য।এই পাহাড়ে রয়েছে হাতি,হরিণ,বানর,হুতুম প্যাঁচা,পাহাড়ি মুরগি,ময়ূর মেছো বাঘসহ কয়েক প্রজাতির পশুপাখি ও পাহাড়ে গা বেয়ে নামা ঝিরি ঝরনা।পাহাড়ের চূরায় উঠলে দেখা যাবে নাফ নদী ও মায়ানমারের পাহাড়ের সারি সারি দৃশ্য।নেটং পাহাড়ের উঁচু থেকে আবার দেখতে পাওয়া যাবে নাফ নদীর মাঝখানে অবস্থিত জলিলের দিয়া।বর্তমানে সেখানে বিদেশী পর্যটকদের জন্য গড়ে তোলা হচ্ছে বিশেষ পর্যটন এলাকা।আবার ককসবাজার থেকে আসার পথে দেখতে পাওয়া যাবে হোয়াইকং থেকে শামলাপুর যাওয়া পথে ঐতিহাসিক কুদুমগুহার অবস্থান। টেকনাফের শেষ সীমানা শাহ পরীর দ্বীপে রয়েছে ডুবুচর যা ঘোলার চর নামে পরিচিত। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সাবরাং এক্সক্লুসিভ ট্যুরিজোমের কাজ শেষ হলে বিদেশী পর্যটকরা বহুগুনে বৃদ্ধি পাবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস। বাস্তব পদক্ষেপ ও দৃষ্টি আকর্ষণ করলে একদিকে যেমন সরকারি কোষাগারে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা জমা হবে আবার অন্যদিকে পর্যটকের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
ওসমান হোসাইন বাপ্পি
অনার্স ২য় বর্ষ
ককসবাজার সরকারী কলেজ
