বিশেষ প্রতিবেদক : নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পে দূবৃর্ত্তদল হামলায় দু’চোখ নষ্ট হয়ে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাষ্টার ইলিয়াছ মারা গেছে।
জানা যায়, ১২ জানুয়ারী ভোররাত সাড়ে ৩টায় চমেক হাসপাতালের জরুরী বিভাগে চিকিৎসাধীন নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পের সি-বøকের ৮২১নং শেডের ও ৪নং রোমের বাসিন্দা মৃত হোছন আহমদের পুত্র মাষ্টার ইলিয়াছ চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। পোস্টমর্টেম শেষে তাকে বাড়িতে এনে দাফনের প্রস্তুতি চলছে।
গত ১০ জানুয়ারী রাত এশারের সময় পাহাড়ে অবস্থানকারী রোহিঙ্গা উগ্রপন্থী সংগঠনের মদদপুষ্ট স্বশস্ত্র একটি চক্র মাষ্টার ইলিয়াছকে তুলে নিয়ে প্রকাশ্যে মারধর ও ছুরিকাঘাত করে চোখ ২টি উপড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তাকে দ্রæত উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতাল হয়ে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে জরুরী বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্প পুলিশের আইসি আব্দুর রব ফরাজী, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাষ্টার ইলিয়াছ মারা যাওয়ার সত্যতা স্বীকার করেন।
এদিকে টেকনাফের আলোচিত বনদস্যু আব্দুল হাকিম ডাকাত ও নুর আলম ডাকাত মিলে পাহাড়ে নতুন আস্তানা গড়ে নানা অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে। এই চক্রটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প নিয়ন্ত্রণ করছে। যেসব রোহিঙ্গা নেতা এই চক্রের সিদ্বান্তের বাহিরে গিয়ে ক্যাম্পে নিয়োজিত আইন-শৃংখলা বাহিনীর সাথে এক হয়ে তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় এবং ক্যাম্পের বিচার-সালিশ তাদের মনোপ্লুত না হলে প্রায় সময় এই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে আসছে। সাধারণ রোহিঙ্গারা স্বশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে অসহায় বিধায় মুখ খুলে প্রতিবাদ করতে পারেনা। এদিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিহত মাষ্টার ইলিয়াছ পরিবারের কেউ নিরাপত্তাহীনতা থাকায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের মুখ খুলছেনা। এমন কি অভিযোগ বা মামলা পর্যন্ত করার কেউ সাহস পাচ্ছেনা। ডাকাত আব্দুল হাকিম ও নুর আলম গংয়ের ভয়ে শরণার্থী ক্যাম্পের অনেক পরিবার পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
