নির্বাচন ও পর্যটন মওসূমকে সামনে রেখে টেকনাফের স্থল পথের পরিবর্তে সাগর পথ এখন মাদক পাচারের মহাধুম

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago

মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী : বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বঞ্চলীয় মিয়ানমার সীমান্তবর্তী টেকনাফ মাদকের গেটওয়ে হিসাবে চিহ্নিত করেছে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর। স্থল ও নৌপথে ইয়াবা নামক ভয়ঙ্কর মাদক বাংলাদেশের রাজধানীসহ সমূদ্র উপকূলীয় জেলা সমূহে খালাস হচ্ছে। মাদকের ভয়াবহতার আগ্রাসন থেকে বাঁচতে সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় কঠোর নজরদারী এবং জিরোট্রলারেন্স নীতি গ্রহণ করে শেষ পর্যন্ত দেশব্যাপী মাদক বিরোধী অভিযান চলমান অব্যাহত রেখেছে। বিশেষ করে মাদক নিয়ন্ত্রণে টেকনাফের পাঁচটি ইউনিয়ন সাবরাং, টেকনাফ সদর, হ্নীলা, বাহারছড়া ও হোয়াইক্যং এ ৫টি র‌্যাব ক্যাম্প স্থাপনের পর থেকে স্থল পথে ঢালওভাবে মাদক প্রবেশ প্রায় হ্রাস পেয়েছে। চলতি বছর মাদক বিরোধী অভিযানে আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে কথিত বন্দোক যুদ্ধে ৬জন নিহতের পর মাদক পাচার ও ব্যবসায় সীমান্ত বাণিজ্যের উপর প্রভাব পড়েছে। পরবর্তীতে মাদক বিরোধী অভিযান এবং বন্দোকযুদ্ধ প্রশ্নবিদ্ধ হলে ফের চাংগা হয়ে উঠে মাদক পাচার ও ব্যবসা। চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে চুনোপুতুড়ী ইয়াবা ব্যবসায়ী ও পাচারকারী গ্রেফতার হলেও শীর্ষ তালিকাভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ীরা থেকে যায় ধরাছোয়ার বাইরে। এমতাবস্থায় মাদক নিয়ন্ত্রনে দায়িত্বে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট বাহিনী চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে তেমন আশার আলো দেখাতে পারেনী বলে সীমান্তের সচেতন মহল এ অভিমত প্রকাশ করেন। স্থল পথে মাদক বিরোধী অভিযান চলমান থাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা নিত্য নতুন অভিনব কৌশল আবিস্কার করে মাদক পাচার ও ব্যবসা করে আসছে। বিকল্প পথ হিসাবে সাগর পথকে মাদক পাচারে নিরাপদ নৌ-রুট হিসাবে বেচে নিয়েছে। ৭ অক্টোবর (সোমবার) একদিনে টেকনাফের বাহারছড়া নোয়াখালী সাগর তীরে বিজিবি, পুলিশ পৃথক অভিযানে ৮লাখ ১০ হাজার পিস ২ বস্তা বন্দী ইয়াবা উদ্ধার করে। একই সময়ে র‌্যাব ৭ টেকনাফ সদর সাগর উপকূল গোদারবিল এলাকা থেকে ৮৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ ১ জনকে আটক করে। নির্বাচনী বছর ও পর্যটন মওসূমকে সামনে রেখে স্থল পথের পরিবর্তে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সাগর পথকে মাদক পাচার ও ব্যবসাকে নিরাপদ মনে করে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা এ ঝুঁকি হাতে নিয়েছে। দেশে মাদকের চাহিদা মেটাতে এবং কালোটাকা অর্জনে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা মরিয়া হয়ে উঠেছে। দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলীয় দুদেশের সাগরের জিরোপয়েন্টের হাতবদল হয়ে বস্তা বস্তা মাদকের চালান দেশের জেলা ও উপজেলা সমূহে সাগর উপকূলে খালাস হচ্ছে। মাদক পাচার কাজে বেশীরভাগ ব্যবহার হচ্ছে ফিসিংবোট। এর আড়ালে বস্তা বস্তা মাদক দেশের স্থল ও নৌপথে ঢুকছে। এছাড়া মধ্যে মধ্যে সাগর পথে মাদক বিরোধী অভিযান কড়াকড়ি হলে বিকল্প পথ হিসাবে টেকনাফের সাগর তীরকে পাচারে নিরাপদ মনে করেন পাচারকারীরা। সম্প্রতি টেকনাফের নোয়াখালী সাগর থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধারকৃত ৮ লাখ ১০ হাজার ইয়াবার বস্তা মাদক পাচারকারীরা সাগরে ফেলে দিয়ে ফিসিংবোটটি সটকে পড়ে আইন শৃংখলা বাহিনীর ভয়ে। এ বিশাল মাদকের চালানটি নোয়াখালী ও বড় ডেইল এলাকায় শাহপরীরদ্বীপ জালিয়াপাড়ার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও পাচারকারীরা মওজুদের উদ্দেশ্যে পাচার করছিল বলে জানা যায়। পরে আইন শৃংখলা বাহিনীরা খবর পেয়ে এ ২টি মাদকের চালানটি জব্দ করে থাকে।