নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে ১৬ দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৬ years ago

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি : ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপ/আইএসসিজি-র অংশীদার অর্থাৎ জাতিসংঘের সংস্থা এবং এনজিওগুলো নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে ১৬ দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনের মাধ্যমে জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতার অবসান ঘটাতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য গৃহীত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে। ।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মত কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নারী ও কিশোরীদের মধ্যে জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা একটি চলমান হুমকি। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে জেন্ডার বিষয়ক ধারনা এবং চর্চা নারী ও কিশোরীদের ক্যাম্পের মধ্যে চলাফেরা, মানবিক সহায়তা ও তথ্য গ্রহণের সুযোগকে আরো সীমাবদ্ধ করছে। মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসার আগে যৌন ও জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতার শিকার হবার ফলে তারা নিজেদের মধ্যে গুটিয়ে থাকেন। শরণার্থী ক্যাম্পের পরিবারগুলো, নারীদেরকে, বিশেষতঃ কিশোরীদের যথাসম্ভব ঘরে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। যার ফলে, শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষনে তাদের উপস্থিতি ক্রমান্বয়ে কমে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, কোভিড-১৯ কক্সবাজারের সকল শরণার্থী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে, আগে থেকে বিদ্যমান জেন্ডার-সংশ্লিষ্ট ঝুঁকিগুলো আরোও বেড়েছে। অতিমারির মধ্যে সমগ্র বিশ্বেই চলাচলের উপর নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক চাপ বৃদ্ধির কারণে পারিবারিক অস্থিরতা বেড়েছে, যা প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে। “অতিমারির মাঝে, রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর কোভিড-১৯-এর জেন্ডার বিষয়ক প্রভাব” শীর্ষক র‌্যাপিড জেন্ডার অ্যানালাইসিস গত অক্টোবর ২০২০-এ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, সহায়তার সুযোগ সীমিত থাকার ফলে জেন্ডার-ভিত্তিক বৈষম্য উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে। এর মধ্যে ইনটিমেট পার্টনার দ্বারা সহিংসতা, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, ট্রান্সজেন্ডার সদস্য ও নারী যৌনকর্মীদের ওপর সহিংসতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মানবিক উদ্যোগের আওতায় জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতাকে মোকাবিলা করার জন্য জরুরিভিত্তিতে অর্থায়ন প্রয়োজন। ২০১৯ সালে, যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা বা জেআরপিতে সুপারিশকৃত অর্থায়নের মাত্র ৩ শতাংশ আবেদন করা হয়েছিল জেন্ডার-সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নের জন্য।

নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে ১৬ দিনব্যাপী এই কর্মসূচির বৈশ্বিক মূলমন্ত্র ‘অরেঞ্জ দ্য ওয়ার্ল্ড: ফান্ড, রেসপন্ড, প্রিভেন্ট, কালেক্ট!’ এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয়ভাবে- সহিংসতা প্রতিরোধে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে কাজ করার মূলমন্ত্র গৃহীত হয়। আইএসসিজি এবং এর সকল সহযোগী সংস্থাসমূহ সমন্বিতভাবে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন কার্যক্রমের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এসকল উদ্যোগের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলো নারী, কিশোরী ও বিভিন্ন জেন্ডারের জনগোষ্ঠী এবং জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতার শিকার হয়ে টিকে থাকা অথবা ঝুঁকিতে থাকা সকলের সাথে সংহতি জ্ঞাপন করছে এবং জিবিভি রেসপন্স এবং প্রিভেনশন প্রোগ্রামিং এর জন্য তহবিল সংগ্রহের জন্য অ্যাডভোকেসি চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সম্প্রদায় জিবিভির জন্য একটি কার্যকর ও সমন্বিত সাড়াদান কর্যক্রম পরিচালনার জন্য কাজ চালিয়ে যাবে, যার মধ্যে সামগ্রিক জেন্ডার রেসপন্সিভ জরুরি সেবাসমূহের প্যাকেজ অন্তর্ভূক্ত করা হবে। এই প্যাকেজের আওতায় থাকবে- যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য; মানসিক স্বাস্থ্য; মনোঃসামাজিক সহায়তা; নিরাপত্তা, আইনি সেবা, ন্যায়বিচার ও স্বনির্ভরতা; সকল ধরনের সাড়াদান কার্যক্রমে জেন্ডার এবং সুরক্ষাকে সম্পৃক্ত করা; জেন্ডার বিষয়ক বৈষম্যমূলক আচরনের ব্যাপারে সচেষ্ট করতে পুরুষ, ছেলে এবং সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয়দের সম্পৃক্ত করা; এবং জিবিভি প্রতিরোধে নারী, পুরুষ, ছেলে এবং মেয়েদের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার পূর্ণ ও সমান প্রবেশাধিকার দেওয়া; এবং এই জরুরি বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা।