মুহাম্মদ হানিফ আজাদ, উখিয়া :
কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তি পরিদর্শন করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দুত ইয়াংহি লি। বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ৩ ঘন্টাব্যাপী মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার ৩২ জন রোহিঙ্গার সাথে কথা বলেন তিনি।
বস্তি ম্যানেজমেন্ট কমিটির সেক্রেটারি মোহাম্মদ নুর জানান, জাতিসংঘ বিশেষ দুত ইয়াংহি লি মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হওয়া কুতুপালং বস্তিতে অবস্থান করা মিয়ানমারের নাইচ্ছা প্র“ গ্রামের জামালিদাসহ ২০ জন মহিলা ও খেয়ারি প্রাং গ্রামের মোহাম্মদ করিম সহ ১২ জন পুরুষের সাথে কথা বলেন।
এদের মধ্যে মিয়ানমারের গৌজবিল, সিকদার পাড়া, মাইচং, খিয়ায়ী প্রাং গ্রামের নির্যাতনের শিকার হওয়া রোহিঙ্গারা রয়েছেন।
এ সময় জাতিসংঘের বিশেষ দুতের সাথে ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সচিব বাকী বিল্লাহ এনজিও সংস্থা আইওএম ও ইউএনএইচসিআরের কর্মকর্তারা।
এর আগে বিশেষ দুত সকাল ৯ টা দিকে কুতুপালং রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের ইনচার্জ মোহাম্মদ শামসুদ্দোজার সাথে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঘন্টাব্যাপী একান্তে বৈঠক করেন।
মিয়ানমার কিয়ারী পাড়া গ্রামের নির্যাতিত রোহিঙ্গা আবদুস শুক্কুর, আবদুল আলিম, মোঃ গফুর জাতি সংঘের বিশেষ দূতকে বলেন, মিয়ানমারে সামরিক জান্তা ও রাখাইন যুবকরা মুসলমানদের উপর ব্যাপক নির্যাতন করেছে। হত্যা করেছে অনেককেই ধর্ষন, গণগ্রেফতার, নির্যাতন নিপড়ন চালিয়েছে। যার ফলে রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।
জাতিসংঘের বিশেষ দূতকে রোহিঙ্গারা কাছে পেয়ে মনের দুঃখের কথা বলেন। রোহিঙ্গারা বলেন, মিয়ানমারের নাগরিকত্ব পেলে রোহিঙ্গারা যেকোন মুহুর্তে মিয়ানমারে ফেরৎ যেতে রাজি। শুধু তাই নয় ওই দেশে রোহিঙ্গাদের চলাচলের নিষাধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে এবং মগ রাখাইন যুবকরা স্বাধীন ভাবে যেভাবে বসবাস করছে ঠিক তেমনি ভাবে রাখাইন প্রদেশের রোহিঙ্গাদের চলাচলের সুযোগ দিতে হবে।
এ সময় জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংহি লি তাদের কথা শুনে আবেক আফ্লুত হন।
