শামীম ইকবাল চৌধুরী : নাইক্ষ্যংছড়ি কৃষি অধিদপ্তরে কর্মরত উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা আবদু রহমান ও তার একি কর্মস্থলে চাকুরিরত স্ত্রী নাছিমা আক্তারের আপন খালার জামাইয়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে দুই জনেই দেখতে যান বলে খবর পাওয়া যায়।
সূত্রে জানাযায়, গত ২৫ মে সদর উপজেলার আদর্শগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মাষ্টার মো,ইউনুছের নমুনা সংগ্রহ করে কক্সবাজার ল্যাবে পাঠানো হলে সেই নমুনা ফলাফল পজেটিভ আসে। আর এদিকে করোনা রোগী মাষ্টার মো,ইউনুছ হলেন উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো,আবদু রহমান ও তাঁর স্ত্রী নিছিমা আক্তারের আপন খালার জামাই। ওই খালার জামাই মাষ্টার মো,ইউনুছের অসুস্থতার খবর পেয়ে দেখতে যান তাাঁরা। ওই দিনেই করোনার সেম্পাল সংগ্রহ করেন চিকিৎসকেরা।পরে সেম্পলের ফলাফল পজেটিভ আসাতে উপসহকারি কর্মকর্তা আবদু রহমান ও অফিস সহকারি (স্ত্রী) নাছিমা আক্তার দুই জনেই করোনা রোগী দেখতে যান সেই খানে করোনা সংস্পর্শের কথা কর্মস্থলে ছড়িয়ে পড়ে। ওই দুই কর্মকর্তাকে হোম কোয়ারেন্টেইনে থাকার পরার্মশ দেন কৃষি অধিদপ্তরে কর্মকর্তা।
তবে অফিস সহকারি নাছিমা আক্তার হোম কোয়ারেন্টেইন থাকলেও উপসহকারি কর্মকর্তা আবদু রহমান হোম কোয়ারেন্টাইন না মেনে অবাধে ঘুরাফিরা করছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান । এতে স্থানিয়রা বেশ শঙ্কিত।
তারা বলেন, ওই উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা আবদুর রহমান গত ২ মে রাত সাড়ে ৯ টায় রেষ্ট হাউজ সড়কে চলাফেরা করতে। তাকে দেখে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। সে আমাদের দিকে থাকিয়ে মুছকি হাসি দেয়। আমার শাররীক দূরত্ব বজায় রেখে ক্রস করে চলে চলে যায়।একজন সচেতন অফিসার এভাবে স্বাস্থ্য বিধি না মানলে সাধারণ মানুষের কি দোষ করলো? প্রশাসনের প্রতি অনুরুধ জানাবো এই অসচেতন নাগরিককে প্রাতিষ্ঠানিক হোম কোয়ারেন্টেইনে নিয়ে রাখার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
কৃষি উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো,সাইফুল ইসলাম জানান, উপসহকারি কর্মকর্তা আবদুর রহমান ও তার স্ত্রী নাছিমা আক্তার অফিস সহকারি দায়িত্বে আছেন। তারা দুইজন আপন খালার জামাই মাষ্টার মো,ইউনুছের অসুস্থতার খবর পেয়ে দেখতে যান। ওই খালার জামাইর করোনা পজেটিভ রিপোর্টের খবর পাওয়ার সাথে সাথে কৃষি অধিদপ্তরের উর্ধতন কর্মকর্তা ওই দুই কর্মকর্তাকে হোম কোয়ারেন্টেইনে থাকার পরার্মশ দিয়ে চৌদ্দ দিনের ছুটি দিয়ে দেন।
তবে সহকর্মী নাছিমা আক্তার ঘরবন্ধি থাকলেও উপসহকারি কর্মকর্তা আবদুর রহমান অহেতুক ঘুরাফেরা করতে দেখা যায় বলে বিভিন্ন লোকজন অভিযোগ করেছে।
তারা জানান, ওই সহকর্মী আবদু রহমান বিভিন্ন দোকানে আড্ডা বসায়। মানুষ তার থেকে দূরত্ব বজায় রেখে বসতে চাইলে সে নিজে গা-ঘেষেঁ বসতে দেখা যায়। সে স্বাস্থ্যবিধি মানতে নারাজ। মাক্সবিহীন অবাধে চলাফেরা করতে দেখা যায়।
নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক এক দোকানদার জানান, কৃষি কর্মকর্তা আবদুর রহমানকে তার কর্মস্থল থেকে হোম কোয়ারেন্টেইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বলে শুনেছি। তবে আমার দোকানের সামনে প্রতিদিন দেখতে পাই। তাকে হোম কোয়ারেন্টেইনে থাকার জন্য ছুটি দিয়েছে নাকি জিজ্ঞাস করলে তিনি জবাবে বলে কই না তো। আমাকে না আমার স্ত্রীকে বলেছে। স্ত্রী তো ঘরেই আছেন। এসব ডাকা মিথ্যা কথা বলে এড়িয়ে যায়। সেই স্বাস্থ্যবিধি মাক্সবিহীন চলাফেরা করতে দেখা যায়।
এদিকে স্থানিয় অনেকে জানান, এই করোনা পরিস্থিতির আগেও এই উপসহকারি কর্মকর্তা আবদুর রহমান অফিস ফাঁকি দিতে অভ্যস্ত।
কারন তার শ্বাশুড়বাড়ীর বেশ কয়েকজন সরকারি দলের বড় নেতা রয়েছেন। আবার বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন আপন ভাইরা ও আপন শ্যালক। এ দুই দলের প্রভাব কাটিয়ে অফিসে নামে মাত্র গিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে ব্লকে যাওয়ার কথা বলে এলাকার বিভিন্ন দোকানে আড্ডা দিতে দেখা যায় বলে জানান স্থানিয় অনেক ব্যবসায়িরা ।
এলাকাবাসী এই কর্মকর্তা বেপরোয়া চলফেরাতে করোনা ঝুঁকিতে আছেন বলে মনে করছেন স্থানিয়রা। তাই এই কর্মকর্তাকে প্রাতিষ্ঠানিক হোম কোয়ারেন্টেইনে রাখার প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।
