তৃণমূলে যাচ্ছে কেন্দ্রের চিঠি : অনুপ্রবেশকারী ঠেকাতে কঠোর আওয়ামী লীগ

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

কোথায়, কারা ও কাদের মাধ্যমে দলে অনুপ্রবেশ, তালিকা হচ্ছে তাদের
টেকনাফ টুডে ডেস্ক :
অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আগামীতে কেন্দ্রের অনুমোদন ছাড়া অন্য দল থেকে কাউকে দলে না ভেড়াতে তৃণমূলে চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অনুপ্রবেশকারী এবং যাদের হাত ধরে অনুপ্রবেশ ঘটেছে, তাদের তালিকা করার কাজ শুরু হচ্ছে শিগগিরই। এছাড়া সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযানের মাধ্যমে যাতে বিতর্কিত কেউ দলে ঢুকতে না পারে- এমন বার্তাও যাচ্ছে স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম এবং স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, অনুপ্রবেশ নিয়ে দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। সেগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হবে। কাউকে দলে নেয়ার বিষয়ে তার সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ খোঁজ নেয়া এবং কেন্দ্রকে জানানোর বাধ্যবাধকতা দিয়ে তৃণমূলে চিঠি দেয়া হবে। দলের সব পর্যায়ের নেতাদের নতুন সদস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে যাতে কোনো অনুপ্রবেশকারী ঢুকতে না পারে, সেদিকে লক্ষ রাখতে নির্দেশনা দেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে অনুপ্রবেশকারী ও হাইব্রিডদের নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বোর্ডে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বিকৃত করার অভিযোগে বরগুনার ইউএনওর বিরুদ্ধে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার মামলার প্রসঙ্গ উঠলে প্রধানমন্ত্রী মামলাকারী ওই নব্য আওয়ামী লীগারকে নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ওই ব্যক্তি দলে নতুন এবং অত্যুৎসাহী হয়ে মামলা করেছেন বলে বোর্ডে আলোচনা হয়। তখন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা কঠোর ভাষায় বলেন, ‘যারা বিভিন্ন দল থেকে আওয়ামী লীগে ঢোকেন, তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য নানা অপকর্ম করেন। আর দোষ পড়ে দলের ওপর।’ তিনি বলেন, ‘কোথায় কারা ঢুকেছেন, কাদের মাধ্যমে ঢুকেছেন, কী অপকর্ম করছেন, এসব তথ্য আমার কাছে আছে। আরও তথ্য আসছে।’ কোথায় ও কার মাধ্যমে অনুপ্রবেশ, কারা দলীয় পদ পেয়েছেন, তাদের তালিকা করে জমা দেয়ার জন্য দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। এর আগে গত ২০ মে দলের বর্ধিত সভায় অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে সতর্ক থাকতে প্রথম দফায় নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেছিলেন, কমিশন খাওয়ার লোভে অনেকেই দলে এসে ভিড়তে পারে। তাছাড়া বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসী-নাশকতাকারীরা তাদের শাস্তি এড়াতেও নানা কায়দায় আওয়ামী লীগে ঢুকে পড়তে পারে। এরা কখনোই দলের ভালো চায় না, তাই সবকিছু ভালোভাবে খোঁজখবর নিয়ে কাউকে কাউকে দলে নিতে হবে।
পরে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, অনুপ্রবেশকারী নিয়ে এখন থেকে কড়া অবস্থানে থাকবে দল। তিনি বলেন, নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযানের সময় সবাইকে সদস্যপদ নবায়ন করতে হবে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে যারা অনুপ্রবেশকারী, তাদের বাদ দেয়া হবে। কিন্তু এর বাস্তবায়ন দেখা যায়নি কোথাও। শুক্রবার দলের সভাপতি দ্বিতীয় দফা অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে বক্তব্য দেয়ায় এখন নড়েচড়ে বসছেন নেতারা। তারা বলছেন, আওয়ামী লীগের ইমেজ ক্ষুণœ করছেন অনুপ্রবেশকারীরাই। কিছু আসে স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে, আবার কেউ কেউ নিজের দোষ ঢাকতে এবং শাস্তি থেকে বাঁচতে। নেতারা আশঙ্কা করছেন, আগামী নির্বাচনে দলের ভড়াডুবি ঘটাতে কাজ করতে পারে অনুপ্রবেশকারীরা। দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্বের মূল কারণও এসব অনুপ্রবেশকারী। ত্যাগী ও দীর্ঘ সময় দলকে সেবা দেয়া নেতাদের বঞ্চিত করে অনুপ্রবেশকারীদের দলীয় পদ দেয়ায় অনেক স্থানেই বিপত্তি বেধেছে। তাই নির্বাচনের আগে নতুন করে কাউকে দলে অন্তর্ভুক্ত করতে এখন থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, শুক্রবার দলের সভাপতি অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা করতে বলেছেন। যার হাত ধরে অনুপ্রবেশ ঘটছে, তাদের তালিকাও করতে বলেছেন। শিগগির এ নিয়ে কাজ শুরু হবে। কোথায়, কীভাবে অনুপ্রবেশ ঘটছে, তা খুঁজে বের করা হবে। দলের সভাপতির নির্দেশনা অনুসারে দলে কাউকে নেয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের শেষদিকে এসে বিএনপি-জামায়াত থেকে ব্যাপকসংখ্যক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দিতে শুরু করে। তা অব্যাহত থাকে ২০১৬ এমনকি ২০১৭ সালে এসেও। বিএনপি-জামায়াতের এসব নেতাকর্মী আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতাদের হাত ধরে আওয়ামী লীগে ভেড়েন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্থানীয় এমপিদের হাত ধরে ক্ষমতাসীন দলে যোগ দেন তারা। এ নিয়ে বিরূপ সমালোচনায় পড়ে শাসক দল। গণমাধ্যম, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল এবং সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগে বিএনপি-জামায়াতের যোগদানের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া আসে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপ্রেবেশের খবর নজরে এলে ২০১৫ সালের ৮ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি-জামায়াত থেকে কাউকে দলে নিতে নিষেধ করেন। কিন্তু এরপরও থেমে থাকেনি বিএনপি-জামায়াতের আওয়ামী লীগে যোগদান।