এম.জিয়াবুল হক : আগামী ২৬ ডিসেম্বর রোববার চতুর্থধাপে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার অবশিষ্ঠ ৮ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উপজেলার হারবাং, বরইতলী, চিরিঙ্গা, সুরাজপুর-মানিকপুর, বমুবিলছড়ি ও খুটাখালী ইউনিয়নে ব্যালট পেপারে ভোট গ্রহন করা হবে। তবে অপর দুইটি ইউনিয়ন ফাসিয়াখালী ও ডুলাহাজারায় ভোট গ্রহণ হবে ইভিএম পদ্ধতিতে।
এদিকে ২৪ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে নির্বাচনী মাঠে থাকা প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা। এ অবস্থায় প্রতিটি ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দি চেয়ারম্যান-মেম্বার প্রার্থীরা নির্বাচনী শেষ শো-ডাউন বা গনমিছিলের আয়োজন করছে। বড়ধরণের শো-ডাউন ও গণমিছিল আচরণবিধি লঙ্ঘিত হলেও বেশিরভাগ প্রার্থী তা অনেকটা উপেক্ষা করে চলছেন। অবশ্য চকরিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো.শহিদুল ইসলাম বলছেন, প্রার্থী সবাই কমিশনের কাছে সমান। কাউকে বেশি অগ্রাধিকার দেয়া বা কাউকে কম সুযোগ সুবিধা দেয়ার কোন সুযোগ নেই। তিনি বলেন, প্রার্থীরা অবশ্যই নির্বাচনী সভা গণসংযোগ প্রচারণা চালাবেন আচরণবিধি মেনে। তবে কোন প্রার্থী যদি বড় ধরণের শো-ডাউন বা মিছিল করে অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের বিধি নিষেধ থাকলেও চকরিয়া উপজেলার বেশিরভাগ ইউনিয়নে প্রার্থীরা শেষমুহুর্তে এসে প্রার্থীরা ভোটের মাঠের হিসেব পাল্টে দিতে যে যার মতো করে শো-ডাউন করছেন কর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের নিয়ে। প্রচারণার শেষ সময়ে বৃহস্পতিবার উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নে একাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী গণমিছিল বা শো-ডাউন করেছেন।
এদিন বিকালে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ডুলাহাজারা বাজার থেকে মালুমঘাট খ্রীস্টান হাসপাতাল এরিয়া পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে স্বরণকালের বিশাল শো-ডাউন করেছেন ডুলাহাজারা ইউপি নির্বাচনে জনপ্রিয় চেয়ারম্যান প্রার্থী কলিম উল্লাহ কলি তাঁর নির্বাচনী প্রতীক টেলিফোন মার্কার সমর্থনে। গণমিছিলে ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড থেকে হাজারো মানুষ অংশ নিয়েছেন। মিছিলে ছিলেন টেলিফোন মার্কাার কর্মী-সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা।
গণমিছিলটি মহাসড়ক প্রদিক্ষন শেষে ডুলাহাজারা বাজারে নির্বাচনী পথসভায় মিলিত হয়। টেলিফোন মার্কার প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জনপ্রিয় চেয়ারম্যান প্রার্থী কলিম উল্লাহ কলি। এসময় তিনি আগামী ২৬ ডিসেম্বর সকলধরণের ভয়ভীতি এবং লোভ-লালসা পরিহার করে টেলিফোন মার্কায় ভোট দিয়ে তাকে ডুলাহাজারা ইউনিয়নবাসির খাদেম হিসেবে কাজ করার সুযোগ দিতে জনগনের কাছে আহবান জানান।
তিনি পথসভায় জনগনের উদ্দেশ্যে বলেন, লেখাপড়া শেষে আমি রাজনীতির পাশাপাশি বৈধ ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছি। আমার পরিবার একটি বণাঢ্য রাজনৈতিক পরিবার। আমার দাদা মরহুম মফজল আহমদ একাধারে তিনবার ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। আমার বড় চাচা মরহুম কামাল হোসেন অবিভক্ত চকরিয়া উপজেলা (পেকুয়া উপজেলাসহ) সভাপতি ছিলেন। তিনিও ডুলাহাজারা ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। আমার বাবা মরহুম হাজী জামাল হোছাইন আমৃত্যু আওয়ামীলীগের রাজনীতি করতেন। তিনি মৃত্যুর আগপর্যন্ত ডুলাহাজারা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন। আমার পরিবার ডুলাহাজাবারা ইউনিয়নবাসির সু:খ দু:খে সবসময় ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।
তিনি বলেন, কোনদিন আমি মানুষের মনে কষ্ঠ দিইনি। কষ্ঠ পাবার মতো কোন কাজও করেনি। আমি চাই অবহেলিত ডুলাহাজারা ইউনিয়নকে বদলে দিতে, প্রিয় ইউনিয়নকে মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে চাই। সবার জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য একটি জনপদ গড়তে আমার প্রচেষ্ঠা অব্যাহত থাকবে। আমি ইউনিয়নবাসীর ভালবাসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সেবা করে আসছি। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে আজ উন্নয়নের জোয়ার বইছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে উন্নয়নের অভিযাত্রায় বদরখালীকে সামিল করবো ইনশালাহ।
তিনি বলেন, ছাত্র জীবন থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির মধ্যদিয়ে সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে সবসময় পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। এলাকা মসজিদ মক্তব ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছি। এসব প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নে সহযোগিতা করেছি, আগামীতেও পাশে থাকবো। পাশাপাশি ইউনিয়ন বাসির সুখ – দুঃখে সর্বদা পাশে থেকে কাজ করে যাবো।
চেয়ারম্যান প্রার্থী কলিম উল্লাহ কলি বলেন, বাংলাদেশ এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের রোল মডেল। সরকারের উন্নয়নের অংশ হিসেবে আগামীতে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতা মূলক ইউনিয়নের সকল অবকাঠামোগত উন্নয়ন তথা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তাঘাট, কালভাট, মসজিদ মন্দির, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করব। জনসাধারণের সকল প্রকার নাগরিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করবো। পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন, ইভটিজিং, সন্ত্রাস, বাল্য বিবাহ এবং মাদকের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলবো। সর্বপরি সকলের সহযোগীতায় ডুলাহাজারা ইউনিয়নকে একটি আলোকিত ও মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলবো ইনশাআলাহ। তাই ডুলাহাজারা ইউনিয়ন বাসি সবাইকে বলি ‘ একটি কলি ফুটতে দিন, আগামী ২৬ ডিসেম্বর টেলিফোন মার্কায় ভোট দিন’। ##
