টেকনাফে হাইওয়ে পুলিশের চাঁ/দা/বা/জির স্টাইল ; ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ সব ডকুমেন্ট থাকার পরও মামলা!

লেখক: টেকনাফ টুডে ডেস্ক :
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

জসিম উদ্দিন টিপু,টেকনাফ : টেকনাফের হোয়াইক্যং নয়াপাড়া হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজি এখনো থেমে নেই। স্থানীয় বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ও ভুক্তভোগী লোকজন জানিয়েছেন, অভিনব কায়দায় প্রতিনিয়ত যানবাহন থেকে চাঁদা আদায় করছেন হোয়াইক্যং নয়াপাড়া হাইওয়ে পুলিশ। তারা আরো জানিয়েছেন, জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সেক্টরে অনিয়ম ও দুর্নীতি কিছুটা ভাটা পড়লেও হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজিতে এখনো ভাটা পড়েনি। অভিযোগ রয়েছে, হোয়াইক্যং নয়াপাড়াস্থ হাইওয়ে পুলিশ চাঁদাবাজির ধরণ পাল্টিয়ে দিবারাত্রি যানবাহন থেকে চাঁদা আদায় করছেন বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
এদিকে চাঁদাবাজি বা অন্য কোন অপরাধে হাইওয়ে পুলিশ জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা অঞ্চলের এডিশনাল ডিআইজি।

গণঅভ্যুত্থান পূর্ববর্তী সময়ে হোয়াইক্যং হাইওয়ে পুলিশে টোকেন প্রতি ৩শ টাকা নেওয়ার রেওয়াজ ছিল। কিন্তু অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ধরণ পাল্টিয়ে গাড়ী প্রতি চাঁদার হার দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন এখানকার হাইওয়ে পুলিশ কর্তৃপক্ষ। নিরুপায় হয়ে সিএনজি ও টমটম সমিতির নেতাদের মাধ্যমে হাইওয়ে পুলিশের ধার্য্যকৃত টাকা দিয়ে দিচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। না দিলে তাদেরকে সড়কে বিভিন্ন ধরণের হয়রাণী করেন হাইওয়ে পুলিশরা।

এদিকে হাইওয়ে পুলিশের ভিন্ন ষ্টাইলের চাঁদাবাজির আওতায় না আসায় অনেক সিএনজি চালককে হয়রানীর শিকার হতে হয়েছে বলে জানাগেছে। হোয়াইক্যং হাইওয়ে পুলিশ কর্তৃক হয়রাণীর শিকার পালংখালীর এলাকার ড্রাইভার সরওয়ার ইসলাম। তিনি সিএনজি নিয়ে নয়াপাড়া হাইওয়ে পুলিশ ক্রস করার সাথে সাথে পুলিশ এসে তাকে সড়কে আটকে অহেতুক দাঁড় করিয়ে রাখে। অপরাপর গাড়ী যাতায়াতে ছেড়ে দিলেও সরওয়ারকে সিএনজিসহ ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড় করিয়ে রাখে বলে এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। তাঁর (সরওয়ারের) লাইট ক্যাটাগরীর আপডেট ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ীর সব কাগজ থাকার পরও ত্রি হুইলার ক্যাটাগরীর ড্রাইভিং লাইসেন্স নাই জানিয়ে টিআই নুরুল আবছার মামলা দিয়েছেন। ভুক্তভোগী সরওয়ার এ প্রতিবেদককে জানান, অনেক বছর গাড়ী চালাচ্ছি। লাইট শ্রেনীর ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকার পরও তাদের টোকেন সিস্টেমে না করায় আমাকে পরিকল্পিতভাবে অহেতুক হয়রাণী করেছে হাইওয়ে পুলিশ। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশের সব সেক্টর আস্তে আস্তে সংস্কার হলেও হাইওয়ে পুলিশ আগের চেয়েও আরো বেশী চাঁদা নিচ্ছে বলে ভুক্তভোগী এ সিএনজি চালক জানিয়েছেন। লাইসেন্স থাকার পরও কেন মামলা দিয়েছেন হাইওয়ে পুলিশ; তিনি সংশ্লিষ্ট হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিবেন বলেও জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাগেছে, হ্নীলা হোয়াইক্যংয়ে প্রায় ৩শ সিএনজি গাড়ী রয়েছে। এছাড়া ৫শতাধিকেরও বেশী টমটম এবং মিনি টমটম রয়েছে। এসব সিএনজি এবং টমটম গাড়ী থেকে সমিতির নেতাদের মাধ্যমে নয়াপাড়া হাইওয়ে পুলিশ মাসোহারা নিচ্ছে বলে জানাগেছে।

বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) টেকনাফ উপজেলার সংগঠক ও শিক্ষক সায়েম সিকদার জানান, সব সেক্টরে কম বেশী অনিয়ম এবং দুর্নীতি কম হচ্ছে বা করছে বলে লোকেমুখে শোনা যায়। তবে হাইওয়ে পুলিশের গতানুগতিক চাঁদাবাজিতে মোটেও ভাটা পড়েনি। তারা কেবল ধরণ পাল্টিয়ে ঠিকই চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে। টেকনাফ-কক্সবাজার রোড়ে চলাচলকারী অনেক সিএনজি চালক নিজেদের দু:খের কথা এই এনসিপি নেতার কাছে শেয়ার করেছেন জানিয়ে তিনি সিএনজি সংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে বলেন, বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হাইওয়ে পুলিশ প্রতিটি সিএনজি থেকে মাসোহারা নিচ্ছেন। যানবাহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হাইওয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের এই অন্যতম নেতা। হোয়াইক্যং নয়াপাড়া হাইওয়ে পুলিশ কর্তৃক যানবাহনে চাঁদাবাজি বন্ধ না করলে আগামীতে সংশ্লিষ্টদের সাথে নিয়ে কঠোর কর্মসূচী দিবেন বলেও জানান।

জানতে চাইলে হোয়াইক্যং হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ টিআই (ট্রাফিক ইন্সপেক্টর) মো: নুরুল আবছার বলেন,লাইট শ্রেণীর ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে কখনো সিএনজি চালানো যাবেনা। তাই উল্লেখিত ড্রাইভারকে ত্রি হুুইলার ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় জরিমানা করা হয়েছে বলে দাবী করেন। সাথে যানবাহনে চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কৌশলে তা এড়িয়ে যান।
হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা অঞ্চলের এসপি (এডিশনাল ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত) খাইরুল আলম জানান, লাইট ক্যাটাগরীর ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে অবশ্যই অবশ্যই সিএনজি চালাতে পারবে। এটি ত্রি হুইলার ক্যাটাগরীর চেয়েও আপগ্রেড লাইসেন্স। মামলা দিয়ে থাকলে অবশ্যই পুলিশ ভুল করেছে। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া টোকেন পদ্ধতি হোক বা অন্য পদ্ধতিতে হোক কোন ধরণের চাঁদা নেওয়া যাবেনা। যদি হাইওয়ে পুলিশের কেউ নিয়ে থাকেন তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই অবশ্যই শক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।##