হুমায়ূন রশিদ : টেকনাফে এনজিও সংস্থার নাম ভাঙ্গিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে ক্ষতিগ্রস্থ স্থানীয় গরীব জনসাধারণকে সার্বিক সহায়তার নামে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র রেশন,নগদ টাকা অনুদানসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার অজুহাত দেখিয়ে ৭শ শতাধিক মানুষের নিকট হতে মোটাংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই ব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল উর্ধ্বতন মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভূক্তভোগীরা।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, চলতি বছরের গত জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারী মাসের দিকে উপজেলার হ্নীলা পূর্ব পানখালীর শামসুল আলমের স্ত্রী রুবী আক্তার (৩২), মৃত মোহাম্মদ হোসাইন মাদুর পুত্র রশিদ আহমদ (৩৬) ও আব্দুস শুক্কুর (৩৫) এর নেতৃত্বে আব্দু শুক্কুরের স্ত্রী ইসমত আরা, মৃত মোহাম্মদ হোসাইন মাদুর স্ত্রী বানু, মেয়ে এহছেনা খাতুন, আলী আকবর পাড়ার নজির আহমদের স্ত্রী ছলেমা খাতুন, আবুল কাশেমের মেয়ে পারভীন আক্তার, জাফর আলমের স্ত্রী ইসলাম খাতুন, ইলিয়াছের স্ত্রী কহিনুরসহ ১২জন গ্রুপ লিডারের অধীনে ৫শ ৫২জন মানুষ হতে বিশেষ সিন্ডিকেট গড়ে তোলে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ স্থানীয় জনসাধারণকে বিশেষ রেশনের জন্য (ডেক্সি, গ্যাসের চুল্লি, আসবাবপত্র, নগদ টাকা ১৪হাজার টাকাসহ) বিশেষ সীমকার্ড তৈরীর জন্য উখিয়ার পালংখালী, টেকনাফের হোয়াইক্যং কম্বনিয়াপাড়া, বৃহত্তর মহেশখালীয়াপাড়া, হ্নীলার মরিচ্যাঘোনা, খন্ডাকাটা, রোজারঘোনা, আলী আকবর পাড়া, ডেইলপাড়া, নাইক্ষ্যংখালী, অইরপাড়া, হোয়াব্রাং, হোয়াকিয়া পাড়া, মন্ডলপাড়া, বৃহত্তর সিকদার পাড়া, লেচুয়াপ্রাং, রঙ্গিখালী, আলীখালীসহ বিভিন্ন গ্রামের ৫শ ৫২জন মানুষের নিকট হতে দুই আড়াই হাজার টাকা করে সংগ্রহ করে আনুমানিক ১৫/২০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়।
ভূক্তভোগী জনসাধারণ এসব জিনিসপত্র প্রাপ্তির আশায় বিগত ৭/৮ মাস ধরে অপেক্ষায় থাকলেও প্রতারক চক্র এই জনসাধারণকে কোন ধরনের পণ্য দেয়নি বরং গ্রহণকৃত কোন টাকাও ফেরত দেয়নি। এমতাবস্থায় জনসাধারণ ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠলে গ্রæপ লিডারেরা নিরুপায় হয়ে হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যানকে অবহিল করেন। তখন চেয়ারম্যান নিরুপায় হয়ে প্রতারক চক্রের সদস্য রশিদকে ভীতি প্রদর্শন করে জনসাধারণের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন বলে টিম লিডার পারভীন আক্তার জানান। এখন এই প্রতারক চক্রের সদস্যরা টাকা না দিয়ে ঘর-বাড়ি তালাবদ্ধ করে গা ঢাকা দেওয়ায় গ্রæপ লিডার ও ভূক্তভোগী জনসাধারণ চরমভাবে হতাশ হয়ে পড়েছেন। তাই তারা প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানায়। ক্ষতিগ্রস্থ এসব মানুষের উক্ত টাকা উদ্ধারে সর্বস্তরের প্রশাসন ও আইন-শৃংখলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এই ব্যাপারে অভিযুক্ত চক্রের হোতা রুবী আক্তারের সাথে জানতে মুঠোফোন (০১৮২৪-৫৯২১৪৯) রিসিভ না করায় কোন ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই ব্যাপারে হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী বলেন, এই ঘটনা খুবই দুঃখজনক এবং ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাব। আগামীতে এই জাতীয় কোন কাজ হলে চেয়ারম্যানকে অবহিত করার আহবান জানান।
উক্ত বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রবিউল হাসান বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বিনানুমতিতে যারা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকে পুঁজি করে সহজ-সরল মানুষের সাথে প্রতারণা করে তা খুবই দুঃখজনক। আগামীতে এই জাতীয় ঘটনা ঘটে থাকলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করার আহবান জানানো হচ্ছে। উক্ত বিষয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ এলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
