হুমায়ূন রশিদ : টেকনাফে ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌর এলাকায় ২০২০-২১ইং রবি মৌসুমে ১হাজার ৪শ ১হেক্টর জমিতে চাষাবাদকৃত শতিকালীন তরি-তরকারী,শাক-সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে। কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম,পরিচর্যা,কৃষি অফিসের তদারকি,দিক-নির্দেশনা ও সার্বিক সহযোগিতায় এই মৌসুমে কৃষকেরা ভাল ফলন ফলাতে পেরেছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়,৩৮৮.৮৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং,হ্নীলা, টেকনাফ সদর, সাবরাং, বাহারছড়া, সেন্টমার্টিন ও টেকনাফ পৌর এলাকায় মুলা ৬২হেক্টর, লাল শাক ৩৩হেক্টর, পালং শাক ৪হেক্টর, বেগুন ৪৫হেক্টর, টমেটো ৪৫হেক্টর, ফুলকপি ৭হেক্টর, বাঁধাকপি ১০হেক্টর, গাজর ২হেক্টর, সীম ২৭হেক্টর, লাউ ৪২হেক্টর, বরবটি ২৬হেক্টর, ঢেঁড়শ ২০হেক্টর, মিষ্টি কুমড়া ৪৫হেক্টর, করলা ২৮হেক্টর, ফ্রান্সবীন ৭০হেক্টর ও অন্যান্য ৫হেক্টর, আলু ৯২হেক্টর, মিষ্টি আলু ৭৬হেক্টর, সরিষা ৭হেক্টর, বাদাম ৯হেক্টর, ভূট্টা ১৪৬হেক্টর, আখ ০.৫হেক্টর, ফেলন ৯৪হেক্টর, পিয়াজ ১৯হেক্টর, রসুন ৪হেক্টর, ধনিয়া ২৭হেক্টর, মরিচ ২৮৫হেক্টর, তরমুজ ৯২ হেক্টর, খিরা ৬০হেক্টর ও বাঙ্গি ১৯হেক্টর সর্বমোট ১৪০১ হেক্টর জমি চাষাবাদ করা হয়েছে। এসব ক্ষেতে শাক-সবজি ও ফসলাদি এখন বাজারে আসতে শুরু করেছে। প্রতি বাজারে উপজেলার হাট-বাজার সমুহ দেশীয় নিত্যপণ্যে সয়লাব হচ্ছে।
কিছুদিন পূর্বেও দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্ম আয়ের মানুষের জীবনে নাভিশ^াস উঠেছিল। রবি মৌসুমের উৎপাদিত তরি-তরকারী, শাক-সবজি বাজারে আসা শুরু হওয়ায় জনমনে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বিভিন্ন বাজার ঘুরে স্থানীয় কৃষক ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে বাজার চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এসব ফসলাদি যতবেশী উৎপাদিত হয়ে বাজারে আসা শুরু করবে ততই নিত্যপণ্যের দাম কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় কম্বনিয়া পাড়ার দেলোয়ার ৭মণ ও পশ্চিম মহেশখালীয়া পাড়ার জাহিদ, রঙ্গিখালী জুম্মা পাড়ার আবুল কাশেমও প্রতিদিনের মতো বেগুন নিয়ে বাজারে ক্ষেতে উৎপাদিত বেগুন বিক্রি করতে বাজারে এনেছে। বর্তমানে পাইকারী হিসেবে হাইব্রীড বেগুন ১৫ টাকা এবং দেশীয় বেগুন ২৫-২৭টাকায় বিক্রি করেছে। আর দোকানদারেরা খুচরা হাইব্রীড বেগুন ৩০-৩৫টাকা এবং দেশীয় বেগুন ৪০-৫০টাকায় বিক্রি করছে। যা কিছুদিন পূর্বেও ছিল ৭০-৮০টাকা। ঊলুচামরীর ছৈয়দ আকবর বেশ কিছু মুলা নিয়ে বাজারে বিক্রি করতে এসেছে। তিনি জানান প্রতিমণ ২শ টাকায় বিক্রি করেছে। অনেকে মুলার দাম না পাওয়ায় অনেকে অভিমানে ক্ষেত হতে কষ্ট করে মুলা পর্যন্ত তুলছেনা বলে জানা গেছে। মানে দোকানীরা প্রতি কেজি ৫টাকায় কিনে ১০/১৫টাকায় বিক্রি করছে। কিছুদিন পূর্বেও মুলার দাম ছিল ৫০-৬০টাকা। লাল মরিচের প্রতি কেজি ২শ ১০-১৫টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ঝাল কমতে শুরু করেছে কাঁচা মরিচের। ১শ টাকার উর্ধ্বের থাকা কাঁচা মরিচ এখন প্রতি কেজি ৭০-৭৫টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশীয় টমেটো ৪০টাকায় কিনে বিক্রি করছে ৭০টাকায়। গোল আলু ১৫টাকায় ক্রয় করে বিক্রি করছে ৪০-৪৫টাকায়, প্রতি কেজি ফুলকপি ১৫টাকায় কিনে বিক্রি করছে ৩০-৩৫টাকায়,বাঁধাকপি প্রতি কেজি ১০-১২টাকায় ক্রয় করে ২০-২৫টাকায়, দেশীয় বড় আলু প্রতিকেজি ৮০টাকায়,দেশীয় সীম প্রতি কেজি খোলা ৫০টাকা, প্রতি পিস লাউ ২০টাকায় ক্রয় করে বিক্রি করছে ৪০-৫০টাকায়, পুটলা ৬৫-৭০টাকা, চায়না পেয়াঁজ ৩৫-৪০টাকা, মিশরীয় পেয়াঁজ ৫৫-৬০ টাকা, দেশীয় নিম্মমানের পেয়াঁজ প্রতি কেজি ৭০টাকার উর্ধ্বে বিক্রি হচ্ছে। আবার অনেক চাষী পরিশ্রমের মূল্য না পেয়ে হতাশ হয়েপড়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. ভবসিন্ধু রায় জানান,সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় কৃষি বিভাগ কৃষি কাজে সংশ্লিষ্টদের সর্বাতœক সহায়তা, পরামর্শ ও তদারকি করে আসছে। আগামীতেও কৃষি বিষয়ক যেকোন পরামর্শ পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি অফিসার বা উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
এদিকে কৃষকেরা যে হাঁড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে স্বল্পমূল্যে বাজারে নিত্যপণ্য সরবরাহ দিচ্ছেন। কিন্তু তরকারী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট গলাকাটা বাণিজ্য করে মুনাফা পকেটস্থ করে জনজীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলে বলে কয়েকজন ক্রেতা জানান। তাই বাজার মনিটরিংয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভোক্তভোগী সাধারণ মানুষ। ##
