বিশেষ প্রতিবেদক : টেকনাফে শরণার্থী ক্যাম্প সমুহে কথায় কথায় অবৈধ অস্ত্রধারী রোহিঙ্গা দূবৃর্ত্তদের অস্ত্রের ব্যবহার ও প্রদর্শনীতে সাধারণ রোহিঙ্গাসহ স্থানীয়রা চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। এসব রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবী উঠেছে।
জানা যায়, টেকনাফে অবস্থিত হোয়াইক্যং চাকমারকূল, রইক্ষ্যং পুটিবনিয়া, বাহারছড়ার শামলাপুর, হ্নীলার আলীখালী, লেদা, নয়াপাড়া, শালবাগান ও জাদিমোরা-দমদমিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় দুই লক্ষ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ। এসব নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা ও সেবা এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী, আইন-শৃংখলা রক্ষী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। আবার এসব রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিয়ে বাণিজ্য, ক্যাম্প নিয়ন্ত্রণ এবং স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ব্যাহত করার জন্য রয়েছে উগ্রপন্থী স্বশস্ত্র গোষ্ঠী। এসব গ্রæপের লোকজন তাদের ভরণ-পোষণ এবং গ্রুপ পরিচালনার জন্য মাদক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ, চুরি-ডাকাতি, অপহরণ এবং মুক্তিপণ বাণিজ্যের মাধ্যমে অপতৎপরতা চালিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সমুহকে অস্থিতিশীল করে চলছে। বিভিন্ন ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার এবং এসব অপকর্ম নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে আসছে।
মানবিক সহায়তায় আশ্রিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শৃংখলা ফেরাতে আইন-শৃংখলা বাহিনী অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে গেলেও এসব ক্যাম্পের স্বশস্ত্র দূবৃর্ত্তদের থামানো যাচ্ছেনা। আলোচিত শাল বাগান ক্যাম্পের স্বশস্ত্র দূবৃর্ত্তদের কথা সকলের অজানা নয়। সম্প্রতি চাকমারকূল এবং রইক্ষ্যং পুটিবনিয়া ক্যাম্পে উগ্রপন্থী দুটি গ্রæপের মধ্যে আভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে দ্বন্দের সৃষ্টি হয়। এদের মধ্যে একটি গ্রæপ পাহাড়ে স্বশস্ত্র অবস্থান নিলেও অপর একটি গ্রæপ রোহিঙ্গা বস্তিতে সাধারণ রোহিঙ্গাদের সাথে মিশে যায়।
গত ২১ আগষ্ট বাদে জোহর হতে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা এবং ২৫ আগষ্ট ভোরে হতে পৌনে ৮টা পর্যন্ত হামলা-পাল্টা হামলা ও রক্তাক্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই দফায় ১৫জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত এবং সাধারণ রোহিঙ্গাদের সহায়তায় পুলিশী অভিযানে অবৈধ অস্ত্রসহ ৬জন আটক হলেও অনেক অবৈধ অস্ত্রধারী এখনো বিভিন্ন ক্যাম্পে বহাল তবিয়্যতে রয়েছে বলে বিভিন্ন ক্যাম্পের সাধারণ রোহিঙ্গা সুত্রের দাবী।
এই বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম সাইফ বলেন,এই ধরনের ঘটনায় জড়িত ৬জনকে পুলিশ অস্ত্রাদিসহ আটক করেছে। এই অভিযান এখনো চলমান রয়েছে। এসব অপরাধীদের কঠোর হস্তে দমনের লক্ষ্যে উপজেলা আইন-শৃংখলা সভায় কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তা বাস্তবায়নে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সকলেই অক্লান্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, এসব রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক পাশর্^বর্তী পাহাড়ে অবস্থানরত স্বশস্ত্র দূবৃর্ত্তদের কারণে মাদক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ, ডাকাতি, অপহরণ এবং সুন্দরী রোহিঙ্গা নারীদের ধরে নিয়ে শ্লীলতাহানির মতো ঘটনা করে আসছে। তাদের এই অপকর্মে সাধারণ রোহিঙ্গারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তাদের কঠোর হাতে দমনের জন্য সরকারের উর্ধ্বতন মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ###
