মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম : টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন গহীন পাহাড়ে রোহিঙ্গা স্বশস্ত্র দূধর্ষ সন্ত্রাসী জকির ডাকাত গ্রæপ এবং র্যাব সদস্যদের মধ্যে দফায় দফায় গোলাগুলির ঘটনায় ৭জনের মৃতদেহ ও বিপূল পরিমাণ অস্ত্র-কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় ঘটনাস্থল হতে আরো ৬জন পালিয়েছে বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে।
জানা যায়, ২ মার্চ (সোমবার) রাতের প্রথম প্রহরের দিকে টেকনাফের ২৬নং শাল বাগান ক্যাম্প ও ২৭নং ক্যাম্পের মধ্যবর্তী রোহিঙ্গা স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীদের আস্তানা হিসেবে পরিচিত লাল পরীর জুম নামক পাহাড়ে রোহিঙ্গা শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ডাকাত জকির বাহিনীর সাথে র্যাব-১৫ এর সদস্যদের দফায় দফায় গুলি-পাল্টা গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। র্যাব-১৫ এর কোম্পানী কমান্ডার লেঃ মির্জা শাহেদ মাহতাব (এক্স.বিএন) পিপিএম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
সকালে খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গহীন পাহাড়ে তল্লাশী চালিয়ে ৭টি মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেন।
এদিকে সন্ধ্যা ৭টায় র্যাব-১৫ এর কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে সহকারী (মিডিয়া) পরিচালক এসএসপি আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী জানান, টেকনাফের জাদিমোরা ২৭ ও ২৬নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মধ্যবর্তী লাল হরির জুম নামক পাহাড়ে রোহিঙ্গা স্বশস্ত্র ডাকাত গ্রæপ এবং র্যাব-১৫ সদস্যদের মধ্যে দফায় দফায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ২৭নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক-ডি-৫ এর বাসিন্দা ফারুক (৩৫), একই ক্যাম্পের ই-ব্লকের নুর হোসেন ওরফে নুরাইয়া (৩৫), শালবাগান ক্যাম্পের ইমরান (২২) সহ অজ্ঞাত ৭জন রোহিঙ্গা ডাকাত। ঘটনাস্থল হতে ৩টি বিদেশী অস্ত্র, ৭টি ওয়ান শুটারগান, ১২ রাউন্ড তাঁজা বুলেট ও ১৩টি বুলেটের খালি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। যা পরবর্তীতে মামলা দায়ের করে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হচ্ছে।
তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সুত্রে নিহতরা ফারুক, নুরাইয়া, জমিল, জুবাইর, আয়াছ, বাচ্চু ও আজু বলে জানা গেছে। এই সময় ঘটনাস্থল হতে ডাকাত সর্দার জকির, আব্দুল্লাহ, সরওয়ার, লাশ জালালসহ আরো ৬জন পালিয়ে যায় বলে সুত্রটি জানায়।
উল্লেখ্য,টেকনাফের নয়াপাড়া,শালবাগান ও জাদিমোরা রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ী এলাকায় দূধর্ষ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী ডাকাত জকির, ছৈয়দ হোছন ওরফে পুতিয়া, খাইরুল আমিন, সালমান শাহ, মোঃ ইসলাম ধইল্যা, নুরুল ইসলাম ওরফে নুর সালামের নেতৃত্বে বেশ কয়েকটি ডাকাত গ্রæপ অবস্থান নিয়ে মাদকের চালান খালাস, চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ, ছিনতাই, অবৈধ অস্ত্র সরবরাহ, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় করে সাধারণ রোহিঙ্গা এবং পার্শ্ববর্তী জনসাধারণকে জিম্মি করে আসছে। এই ঘটনার জেরধরে কুখ্যাত ডাকাত সর্দার জকির গ্রæপ আবারো সংগঠিত হয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রামবাসীদের উপর হামলা চালাতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। ###
