জাদিমুরা এলাকায় পাহাড়ে রোহিঙ্গা ডাকাত নুর মোহাম্মদের আস্তানা
হুমায়ূন রশিদ : টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে স্বশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে নিহত ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা মামলার দুই আসামী বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে নিহত হয়েছে। এতে পুলিশের ৩জন সদস্য আহত হলেও ঘটনাস্থল হতে অস্ত্র,বুলেট ও খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
টেকনাফ থানা পুলিশ জানায়, ২৪ আগষ্ট ভোররাত দেড়টায় হ্নীলা ৯নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি মোঃ ওমর ফারুক (৩০) হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রাশেল আহমদ জাদিমোরা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থানের সংবাদ পেয়ে পুলিশী টহল দল নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে উক্ত মামলার এজাহার নামীয় পলাতক আসামীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করলে এসআই মনসুর, এএসআই জামাল ও কনস্টেবল লিটন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়। এরপর পুলিশও জীবন এবং সরকারি মালামাল রক্ষার্থে পাল্টা ৪০ রাউন্ড পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি শান্ত হলে ঘটনাস্থল তল্লাশী করে ২টি এলজি, ৯টি শর্টগানের তাজা কার্তুজ ও ১২ রাউন্ড কার্তুজের খোসাসহ জাদিমোরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানকারী মিয়ানমার আকিয়াব জেলার সবির আহমদের পুত্র ডাকাত মোঃ শাহ (৩৮) এবং বালুখালী ক্যাম্পে অবস্থানকারী আকিয়াব জেলার রাসিদংয়ের আব্দুল আজিজের পুত্র শুক্কুরকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য টেকনাফ উপজেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার হাসপাতালে প্রেরণ করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যায়।
এই ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ প্রদীপ কুমার দাশ জানান, ওমর হত্যা মামলার আসামী আটক অভিযানে গোলাগুলিতে ৩জন পুলিশ আহত হয়। ঘটনাস্থল হতে এলজি, তাজা কার্তুজ, কার্তুজের খোসাসহ গুলিবিদ্ধ ২জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মারা যায়। এই ব্যাপারে তদন্ত স্বাপেক্ষে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টারদিকে হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমোরায় বাজার এলাকায় নিজ কাজে কর্মরত অবস্থায় সময় শালবাগান ক্যাম্পের রোহিঙ্গা উগ্রপন্থী সংগঠনের স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী এবং মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণকারী গডফাদার ডাকাত সেলিম, জকির, সালমান শাহসহ ১০/১২ জনের গ্রæপ মাদকাসক্ত হয়ে স্থানীয় জমিদার আব্দুল মোনাফ কোম্পানীর ছেলে, জাদিমোরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি এবং হ্নীলা ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি, ঠিকাদার ও উন্নয়নকর্মী মোঃ ওমর ফারুক (৩০) কে ধরে নিয়ে ছুরিকাঘাত এবং বুক ও মাথায় গুলি করে খুন করে।
পরদিন ২৩ আগষ্ট ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী দক্ষিণ জাদিমোরা ও মোচনী এলাকায় প্রধান সড়ক অবরোধ করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। এই খবর পেয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ আবুল মনসুর, ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এবং ক্যাম্পে নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রশাসনের লোকজন স্থানীয়দের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার এবং হত্যাকান্ডের সুবিচারের আশ^াস দিয়ে জনতা অবরোধ তুলে নেয়। ###
